নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন সময়ের দাবি

21

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ড্রেনের ব্যবস্থার উন্নয়নে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘ দিনের সমস্যা। সিটি কর্পোরেশন বহুবছর ধরে নগরীর এ সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। অবশেষে সরকার নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর খাল সমুহকে খনন সম্প্রসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের উপযোগী করতে খাল খননের মেগা প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে অর্পণ করে। সেনা বাহিনীর তত্ত¡াবধানে ৫০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হলেও সম্পূর্ণ নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। আশাকরি অতি দ্রæত সময়ের মধ্যে খাল খননজনিত মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ করবে সেনাবাহিনী। পাউবো’র মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যার সম্পূর্ণ নিরসন হবে এমন ধারণায় নগরবাসী আশায় বুক বেঁধে আছে। দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে পাউবো’র মেগা প্রকল্পের কাজ নতুন নকশায় হবে বলে বিস্তারিত তথ্য তোলে ধরা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর ১৯৬০ সালের নির্ধারিত ম্যাপ অনুসারে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এমন খবর পত্রিকার প্রতিবেদন হতে আমরা জানতে পেরেছি। পাউবো’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। খুব দ্রæত এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ১৯৬০ সালের নির্ধারিত কর্ণফুলী নদীর ম্যাপ অনুসারে হোক বা নতুন কোন ম্যাপ অনুসারে হোক কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক এ প্রকল্প চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশেষ ভ‚মিকা রাখবে। তবে কথা হলো পাউবো এমন একটি মেগা প্রকল্পের কাজ কতটুকু সততা নিষ্ঠা এবং দায়বদ্ধতার সাথে বাস্তবায়ন করবে এ নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড যেভাবে দায় সারাভাবে তাদের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়, সেভাবে কাদা আর জলে সরকারি বরাদ্দের টাকা নষ্ট করলে মহানগরীর মানুষের আশায় গুড়ে বালি হবে এমন ধারণা নগরবাসীর। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রামবন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
মহানগরীর উন্নয়ন সংস্থা সমূহের সাথে সমন্বয় না করে যাচ্ছে তাই করে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী তার প্রকৃত সুফল পাবে বলে মনে হয় না। কাজের মান ঠিক রেখে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সমূহের সাথে বসে পরিকল্পিতভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্ণফুলীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে সুচারু রূপে বাস্তবায়ন করলে এবং ৩৮টি খালের খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলেই জলাবদ্ধতা হাত থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবে। প্রকল্প হাতে নেয়া বড় কথা নয়, নয়-ছয় করে দায়সারা ভাবে কাজ করে লাভ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং দায়বদ্ধতার মাধ্যমে কাজের মান নিশ্চিত করা গেলেই জনগণ এমন প্রকল্পের কাজের সুফল পেতে পারে। এব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারী জরুরি।