নগরীর কোরবানির হাটগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

46

হাটের মধ্যখানে চলাচলের জন্য করা হয়েছে রাস্তা। দুপাশে বাঁশ আর ত্রিপল দিয়ে আচ্ছাদন তৈরি করা হয়েছে। গরু বাঁধার জন্য পোতা হয়েছে সারি সারি খুঁটি। খুঁটির সামনে পশুর খাদ্য রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাও। পুরো হাটজুড়ে চলছে শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। গতকাল রবিবার দুপুরে সাগরিকা পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র।
কুষ্টিয়া থেকে বড় ট্রাকে করে আনা গরু নামাচ্ছিলেন ব্যবসায়ী মুসলেম উদ্দিন। তিনি বলেন, বন্যায় পশুর খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় আগেভাগে গরু হাটে নিয়ে এসেছি। ৪০টি গরু আনা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম বেশি। চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পশুর বাজার এই সাগরিকা হাট। এখানে প্রতিবছর হাজার হাজার গরু কেনাবেচা হয়।
সাগরিকা গরুর বাজার সমিতির সহ-সভাপতি মো. হাসান বলেন, গতবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসার সময় পথে পথে গরু বহনকারী গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ও স্থানীয় চাঁদাবাজদের ৪০-৫০ হাজার টাকা দিয়ে গাড়িগুলো নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রতিবছর গরুর গাড়ি নিয়ে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটি যেন এ বছর না হয়, সেজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, সড়কে চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ে। এবার যদি এরকম চাঁদাবাজি না হয়, তাহলে গরু ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। খবর বাংলানিউজের
গরু ব্যবসায়ী মাহবুব সওদাগর বলেন, এ বছর গরুর প্রচুর দাম। বন্যায় অনেক গরু ভেসে গেছে। এছাড়া ভারত থেকে গরু আসা কমে গেছে। তাই গরুর দাম বেড়েছে। শুধু সাগরিকা নয়, চট্টগ্রামের অন্যান্য হাটগুলোতেও কোরবানির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এসব হাটেও গরু আসতে শুরু করেছে, তবে এখনও পরিমাণ কম। উত্তর কাট্টলী শ্রমিক কলোনি পশুর হাটের ইজারাদার মো. আলিফ বলেন, হাটে এখনও পুরোদমে গরু আসা শুরু হয়নি। কাল বা পরশু থেকে কুষ্টিয়া, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গ থেকে ট্রাকে গরু নিয়ে আসতে শুরু করবে ব্যাপারীরা। দুয়েকদিনের মধ্যে হাটগুলো গরু-মহিষে ভর্তি হয়ে যাবে।