নগরীতে হেলে পড়েছে ৩ ভবন

58

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে শুক্রবার ভোরে সংঘটিত ভূমিকম্পে নগরীর হালিশহর, চকবাজার ও বহদ্দারহাটে হেলে পড়েছে ভবন। রাঙ্গুনিয়ায় দেয়াল ধস ও ঘরে ফাটল সৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রাঙামাটিতে ৩ জন আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, ভূমিকম্পের পর চট্টগ্রামের হালিশহর ও চকবাজারে হেলে পড়েছে দুটি ভবন। একটি ভবন চকবাজারের কাপাসগোলা এলাকায় আর অন্যটি হালিশহরে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ভবন দুটির বাসিন্দাসহ এলাকাবাসী।
গতকাল শুক্রবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে ভূমিকম্পের পর হালিশহর পুলিশ লাইনের পশ্চিম পাশের খাল পাড়ে নিউ এল
ব্লকের তিন নম্বর লেইনের ১২ নম্বর ‘সুফিয়ান ভবন’ নামে ৬ তলা একটি ভবন পাশের একটি ভবনে হেলে পড়ে। যদিও ভবনটি ২০১৬ সালে সংঘটিত আরেকটি ভ‚মিকম্পের কিছুটা হেলে পড়ে। এবার আরও বেশি হেলে পড়েছে পাশের ভবনে।
ভবন মালিক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আবু সুফিয়ান জানান, ২০১৬ সালে এক ভূমিকম্পে ভবনটি পাশের ভবনে হেলে পড়ে। এরপর বিভিন্ন সময়ে ভ‚মিকম্পে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেই থেকেই তিনি সিডিএতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। আবেদনের পর আবেদন করে ২০২০ সালে প্রকৌশলীর মারফত জানতে পারেন নির্ধারিত ফরম পূরণ করে জমা দিলেই কাজের প্রসেসিং শুরু হবে। তখন তিনি আবার নিয়মনুযায়ী ফরম পূরণ করে জমা দেন। পরে অথোরাইজড প্রকৌশলী তা ফরোয়ার্ড করে দেন ইন্সপেক্টরের কাছে। ইন্সপেক্টর এসে পরিদর্শন করে নোটিশে জানান, বিল্ডিংটা ঝুঁকিপ‚র্ণভাবে হেলে পড়েছে। এনিয়ে পরবর্তী অগ্রগতি জানতে চাইলে তারা আমাকে সব ঠিক আছে বলে দায় সারে। এভাবে তাদের দেনদরবার করতে থাকলে তারা ডিপার্টমেন্টে জরুরি কাগজপত্র পাঠিয়েছে বলে জানালেও আশানরূপ কোন অগ্রগতি হয়নি। সর্বশেষ গতকালও আমি এটি নিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান সাহেবের দ্বারস্থ হয়েছি। তিনি বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে হ্যান্ডওভার করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
এদিকে একইভাবে হেলে পড়েছে চকবাজার কাপাসগোলা সড়কের পাঁচ তলা একটি ভবন। ফরিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির ভবনটি ঠেকেছে পাশের তিনতলা ভবনে ছাদ পর্যন্ত। দুই ফুটের মতো ফাঁকা রয়েছে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত।
এতে আতঙ্কিত হয়ে দুই ভবনের লোকজনই বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই আতঙ্কের কথা জানিয়ে ভবন মালিককে অভিযোগ করেছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
ভবন মালিক মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। এর জন্যে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নেয়া হবে শিগগিরই।
এছাড়া বহদ্দারহাটের সাবানঘাটা এলাকায় দুটি চারতলা ভবন একটি হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, আজকের ভূমিকম্পের পর নগরে তেমন কোনো ভবন নিয়ে সমস্যার কথা না শুনলেও চকবাজার এবং হালিশহরে একটি ভবন হেলে যাওয়ার বিষয়ে শুনেছি। আমরা ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তো আসলে চিহ্নিত করে সিডিএ। তাদের একটি কমিটি আছে সেখানে বিশেষজ্ঞরা মিলে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে জানালে আমরা এবিষয়ে উদ্যোগ নেই।
এদিকে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় ভূমিকম্পে ইসলামপুর পূর্ব নেজামশাহ পাড়ায় নুর নাহার বেগমের ঘরের মাটির দেয়াল ধসে পড়েছে।
নুর নাহার বেগম জানান, ভূমিকম্পের সময় আমরা দ্রুত বাইরে বের হাওয়ার পরই দেয়াল ধসে পড়ে। অল্পের জন্য আমার ছেলে নেজাম প্রাণে রক্ষা পায়।
একই এলাকার মোহাম্মদ বাচা মিয়ার ঘরের পেছনে ২টি গাজী ট্যাংক উপর থেকে নিচে পড়ে ভেঙে গেছে। তার ছোট ভাই শফিউল আলম ও আব্দুল মজিদের পাকা ঘরে ফাটল সৃষ্টি হয়। এ এলাকার কয়েকটি মাটির ঘরেও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। তবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
সরফভাটার কয়েকটি মাটির ও পাকা বাড়িতেও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন জানান, আমরা সরেজমিন দেখেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার ইউনুস জানান, রাঙ্গুনিয়ার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
অন্যদিকে রাঙামাটিতে ভূমিকম্পে ঝুলুক্যা পাহাড়ের নির্মাণাধীন সেতু ও একটি মসজিদে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানায়, নামাজ শেষে বের হয়ে মসজিদের দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান তারা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. খোরশেদ আলম জানান, মসজিদের ফাটল সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নামাজ আদায়ে ঝুঁকি নেই। সেই সঙ্গে সেতুর দুই গার্ডারের অংশে জয়েন্ট এক্সপানশন রাখা হয়। এটা ফাটল না। এতে ঝুঁকির কোনো শঙ্কা নেই।
ভ‚মিকম্পের সময় রাঙামাটিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির দুই কর্মীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ইউএনডিপির কর্মী এটিএম সাইফুল ইসলাম ও মনিরুজ্জামান অন্ধকারে সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত হন। রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তারা। এছাড়া ভূমিকম্পে মাথায় কাঁচের বোতল পড়ে আহত হয়েছেন স্থানীয় মুদি দোকানি ছোটন চৌধুরী।