করোনা ভাইরাস

নগরীতে ঢোকা ও বের হওয়া বন্ধ

পূর্বদেশ ডেস্ক

52

নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাজধানী ঢাকার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সর্ব সাধারণের জন্য ঢোকা ও বের হওয়া বন্ধ ঘোষণা করেছে মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। গতকাল সোমবার রাত ১০টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। তবে জরুরিসেবার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও যানবাহন এর আওতার বাইরে থাকবে।
সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সিএমপি ফেসবুকে অনলাইন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে দেয়া হয়।
তিনি জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জরুরি সেবা, চিকিৎসা, খাদ্যপণ্য ও রফতানি পণ্য পরিবহন কার্যে নিয়োজিত ব্যক্তি ও যানবাহন ছাড়া সব ধরনের ব্যক্তি ও যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান। জরুরি সেবায় জড়িত ব্যক্তি ও তাদের যানবাহন ছাড়া আর কোনো ব্যক্তি বা পরিবহন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা থেকে বের হতে পারবে না এবং অন্য এলাকা থেকে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশও করতে পারবে না। গতকাল রাত ১০ টা থেকেই এটি কার্যকর হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
সিএমপির অতিরিক্ত এ উপ-পুলিশ কমিশনার আরও জানান, বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সকল প্রবেশ পথে এবং মহানগরীর অভ্যন্তরে বিভিন্ন পয়েন্টে সিএমপি কর্তৃক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নগরের প্রবেশপথ সিটি গেট, অক্সিজেন মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কালুরঘাট সেতু এবং শাহ আমানত সেতুর মুখে পুলিশ গতকাল নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে। এই পাঁচটি পথ দিয়ে নগরে প্রবেশ ও বের হওয়া যায়।
নগরী দুজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তারা দামপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ওই বাড়ি এবং প্রতিবেশী আরও পাঁচটি ভবন লকডাউন করে দিয়েছে।
করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগীর সংস্পর্শে আসায় তিনজন চিকিৎসকসহ ১৮ জনকে আগেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত রবিবার ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধের ঘোষণা দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দুপুর দুইটার মধ্যে সাধারণ মুদি দোকান এবং সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে সুপার শপ ও সব ধরনের কাঁচাবাজার বন্ধের নির্দেশও দিয়েছে ডিএমপি।
ওষুধের দোকান ছাড়া সারা দেশে সন্ধ্যার পর সব বন্ধ : গতকাল সোমবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওষুধের দোকান ছাড়া সারা দেশের সব দোকানপাট সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছেন। সুপারশপ ও স্বীকৃত কাঁচাবাজারগুলো ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানগুলো খোলা থাকবে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। চালু থাকবে শুধুমাত্র ওষুধের দোকান।
জানা গেছে, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা ইতোমধ্যে এই নির্দেশনা সম্পর্কে সুপারশপগুলোকে জানিয়ে দিয়েছেন। সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।