নগরীতে এবার উচ্চ প্রযুক্তির আইপি ক্যামেরায় নজরদারি

92

নগরীর প্রবেশপথসহ তুলনামূলকভাবে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারির পাশাপাশি সংঘটিত অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত করতে পাঁচ বছর আগে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসিয়েছিল পুলিশ। নানা কারণে যার বড় একটি অংশ বর্তমানে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
এবার নগর পুলিশ তার চেয়েও উচ্চ প্রযুক্তির হাইস্পিড ইন্টারনেট সংযোগ সম্বলিত আইপি ক্যামেরা বসিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নয়টি পয়েন্টে বসানো এ রকম ২৯টি ক্যামেরায় প্রতিমুহূর্তে ধারণকৃত দৃশ্যের ওপর দামপাড়ার নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মনিটরে চোখ রাখছেন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা।
শুধুই কী তাই? মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলছেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আইপি ক্যামেরা বিশ্বব্যাপী একটি কার্যকর মাধ্যম। আধুনিক প্রযুক্তির এসব ক্যামেরায় ইন্টারনেটে অপারেটিং করার সুবিধা ছাড়াও সাউন্ড ডিটেক্টর সিস্টেম সুবিধাও পাওয়া যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ছাড়াও হাতে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে আইপি ক্যামেরার আওতাভুক্ত এলাকা নজরদারি করা যাচ্ছে।
নগর পুলিশ নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় করে পূর্বের সিসি ক্যামেরা সরিয়ে আইপি ক্যামেরাগুলো বসিয়েছে। আর নগরীর দামপাড়ায় স্থানান্তরিত সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের পঞ্চম তলার সুপরিসর কক্ষে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। সেখানে দেয়ালজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে এলইডি টাইলস মনিটর। যেখানে বড় পর্দায় ক্যামেরার আওতাভুক্ত এলাকার প্রতিমুহূর্তের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান ইতিমধ্যে আইপি ক্যামেরায় নজরদারির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। সাধারণত উচ্চ প্রযুক্তির নিরাপত্তা কাজে আইপি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এর পুরো নাম ‘ইন্টারনেট প্রটোকল ক্যামেরা’। রিমোট ব্যবহার করে দূর থেকে বাসা, অফিস বা যে কোনও স্থানের উপর নজর রাখতে এ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। ‘ওয়াই-ফাই’ অথবা ইন্টারনট কানেকশনের মাধ্যমে স্মার্ট ফোন বা ল্যাপটপ দিয়েও এ ক্যামেরার সাথে সংযুক্ত হওয়া এবং নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে আবার নির্ধারিত মডেলের কিছু ক্যামেরার সাথে বিল্ট-ইন স্পিকার যুক্ত থাকে, যার মাধ্যমে কথাও বলা যায়। এতে রয়েছে নাইট ভিশন সুবিধাও। স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে আইপি ক্যামেরার সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য বেশ কিছু অ্যাপস রয়েছে। এসব অ্যাপস ডাউনলোডের পর তা ব্যবহারের মাধ্যমে রিয়েল টাইম স্ট্রিমিং করে আপি ক্যামেরার সাথে সংযুক্ত হওয়া যায়।
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, নগরীর মির্জারপুল, প্যারেড মাঠের উত্তর পশ্চিম কোণ, দিদার মার্কেট, শাহ আমানত মার্কেট, নেভাল মোড়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মোড়, কাজীর দেউড়ি, ওয়াসা মোড় ও আলমাস সিনেমা হল মোড় এলাকায় প্রথম ধাপে ২৯টি আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোও আইপি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এর আগে ২০১৪ সালে প্রচলিত নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি নগর পুলিশ নগরীর সাতটি প্রবেশ মুখসহ গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি স্থানে নগরীতে সর্বমোট একশ’ ৪১টি সিসি ক্যামেরা বসিয়েছিল। যার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ছিল লালদীঘি এলাকায় সিএমপির সদর দপ্তরে। সেসব সিসি ক্যামেরার মধ্যে একশ’ ২৬টি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।
নগরীতে সংঘটিত অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্য অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চাঞ্চল্যকর খুন, গাড়ি চুরি, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের অধিকাংশই ঘটিয়ে থাকে নগরীর বাইরের দুর্বৃত্তরা। তারা নগরীতে এসে অপরাধ সংঘটিত করে দ্রæত পালিয়ে যায়। এতে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। ২০১৪ সালে সিসি ক্যামেরা বসানোর পর গাড়ির নম্বরসহ সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করে অপরাধের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যেত। নগরীতে সংঘটিত বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন ঘটনার রহস্যও উদঘাটন হয় সংগৃহীত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই। কিন্তু ক্যামেরাগুলো স্থাপনের পর বেশিরভাগ ক্যামেরা অকেজো ও চুরি হয়ে যায়। সিটি কর্পোরেশন আলোচিত বিলবোর্ড উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সময়ও অনেক ক্যামেরা খুলে নেয়া হয়। এতে পুলিশের পক্ষে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠে। তবে নতুন করে আইপি ক্যামেরা বসানোর পর অপরাধ দমন ও অপরাধীদের পাকড়াওয়ে পুলিশকে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না বলেই মনে করছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।