ধর্ষণের পর ধরা পড়ার ভয়ে শিশুকে খুন

13

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর কোতোয়ালি থানার ফলমন্ডি এলাকায় ডাস্টবিন থেকে নাসরিন সুখী নামে এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মীর হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল মঙ্গলবার নগরের বাকলিয়া থানার বউবাজার এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মীর হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর থানার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের আলালের কান্দি গ্রামের মৃত গরিব হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে বাকলিয়ার বউবাজার এলাকায় থাকেন। ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু নাসরিন সুখী বাকলিয়া এলাকার বিলকিস বেগমের মেয়ে। গত সোমবার রাতে নগরের ফলমন্ডি এলাকায় ডাস্টবিন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে গ্রেপ্তার মীর হোসেন গতকাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তারের আদালতে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, সাত বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণের পর ধরা পড়ার ভয়ে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দী করে ডাস্টবিনে ফেলে রাখেন।
আদালতে জবানবন্দিতে মীর হোসেন জানান, নগরের ডাস্টবিন থেকে পরিত্যক্ত জিনিসপত্র কুড়িয়ে ভাঙাড়ি দোকানে বিক্রি করেন। সুখীর মা বিলকিস তার পূর্বপরিচিত। তারা একই এলাকায় থাকেন। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। সুখী মায়ের সঙ্গে বোতল কুড়াত। মীরকে সে ‘ভাইয়া’ বলে ডাকত। রোববার রাতেও মায়ের সঙ্গে বোতল কুড়াতে বের হয় সুখী। তাকে নগরের আন্দরকিল্লা শাহি মসজিদের উত্তর পাশে বসিয়ে রেখে বোতল কুড়াতে যান বিলকিস। পরে মসজিদের সামনে থেকে সুখীকে মীর হোসেন কদমতলী এলাকায় নিয়ে গিয়ে চিপস কিনে দেন। নিজে চা পান করে। এরপর তারা টাইগারপাস যান। সেখান থেকে ফেরার পথে সিআরবির নির্জন এলাকায় সুখীকে ধর্ষণ করে মীর হোসেন। শিশুটি চিৎকার দিলে তার মুখ চেপে ধরেন। একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে গেলে তাকে রেখে সেখান থেকে মীর পালিয়ে যান। পরে আবার ফিরে গিয়ে পাশে পড়ে থাকা বস্তায় মরদেহ ভরে সেখানেই রেখে দেন। সোমবার বিকেলে একটি ভ্যান ভাড়া করে মরদেহ রাখার স্থানে যান। সেখান থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ নিয়ে এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফলমন্ডির সামনে ডাস্টবিনে বস্তাটি ফেলে দেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা জানান, পুলিশ খবর পেয়ে সোমবার রাত ৯টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে বিলকিস এসে তার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। রাতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হত্যাকারীকে শনাক্ত করা হয়। ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করা হলে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে সে জবানবন্দী দিয়েছে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি অঞ্চল) অতনু চক্রবর্তী বলেন, মীর হোসেনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় ২০১২ সালে আরেকটি ধর্ষণের পর হত্যার মামলা রয়েছে। তিনি বিবাহিত। ভাঙারি ব্যবসার কাজে নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির ফাঁকে শিশু, কিশোরী ও নারীদের ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, শিশু নাসরিনের বাবা আবদুর রাজ্জাক ব্যাটারিচালিত রিকশা চালান। তার পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে আড়াই বছর আগে এক ছেলে হারিয়ে যায়। পাঁচ মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে দিয়েছেন। সবার ছোট নাসরিন।
নাসরিনের মা বিলকিস বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। দীর্ঘদিন ধরে নগরের বাকলিয়া থানার বউবাজার এলাকায় আছেন। তার স্বামীর একার আয়ে সংসার চলে না। তাই তিনি পরিত্যক্ত বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, নাসরিন সারাক্ষণ তার সঙ্গে থাকত। ২০ মার্চ তাকে ফুটপাত থেকে জুতা কিনে দেন তিনি। দোকান থেকে থান কাপড় কিনে জামা সেলাই করতে দেন। তিনি বলেন, জামা-জুতা পরার আগেই মেয়ে চলে গেল। এভাবে হারিয়ে যাবে, কখনো কল্পনাও করিনি।
তনি তার মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মীর হোসেনের ফাঁসি দাবি জানান। তিনি বলেন, আমার মেয়ের খুনীর বিচার যেন দ্রæত হয়। যাতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।