‘দেয়াঙ পরগনার ইতিহাস’

58

 

প্রকৃতি কন্যা দেয়াঙ। যার আজকের পরিচয় আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলা। এককালে এখানেই ছিল দেয়াঙ বন্দর, পর্তুগীজ বন্দর পোট-টু-গ্রান্ডো বা চট্টগ্রাম বন্দর। যার স্মৃতিচিহ্ন আজকের বন্দর গ্রাম। এই বন্দরে নোঙর ফেলেছে আরবী, মিশরী. মোগল, পাঠান, ওলন্দাজ, ইংরেজ, পর্তুগীজ, হিসপানি রাজপুতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি। বন্দরের প্রেমে ছুটে এসেছিলেন বিশ্বপর্যটক হিউয়েন সাঙ, ইবনে বতুতা, মা হুয়ানসহ খ্যাতিমান অনেক পর্যটক। এই জনপদের মাঝপথে পাহাড় পাদদেশে সুউচ্চ চাটিগাঁ দুর্গ। এই দুর্গ থেকেই বন্দর শহর চট্টগ্রাম পরিচালিত হতো। নিকটেই দেয়াঙ কারাগার। এই কারাগারে বন্দী ছিলেন মহাকবি আলাওল। দেয়াঙ পাহাড়ের দক্ষিণাংশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল চট্টগ্রাম পÐিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আদি বাংলা ভাষা চর্যা পদের চর্চা হত। মলকা-মনুর প্রেম, মনসা মঙ্গল, ভেলুয়া-আমির সওদাগর, নছর মালুম, ডাকু মনসুর, আমেনার প্রেম কাহিনী এ জনপদের সৃষ্ট লোককাহিনী। বার আওলিয়া খ্যাত হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (র.) সহ অসংখ্য অলি দরবেশ আস্থানা গেড়েছিল এই জনপদে। তাদের স্মৃতিচিহ্ন মাজারগুলো আজও বিদ্যমান। দেয়াঙ এর ভূগোল, ইতিহাস, কিংবদন্তী সর্বত্রই মায়াবী স্পর্শ। অল্প দূরত্বের মধ্যে বন-বনানী, পাহাড়-হৃদ, নদী-সমুদ্রে ঘেরা এই জনপদ। স্বর্ণালি পারকি সৈকত ঘেঁষে বঙ্গোপসাগর। মাঝপথেই দেয়াঙ পাহাড়। অল্প দূরে আরও কিছু রমনীয় সবুজ উচ্চতা। দক্ষিণে উন্মুক্ত যৌবনা নারীর মত বুকভরা জল নিয়ে টলমল করছে শঙ্খনদী। পূর্বে-উত্তরে নিভৃত হৃদয়ে চানখালী ও কর্ণফুলী নদী। সবটা মিলে মনে হয় আকাশের কোণে উঁকি দেওয়া রঙধনু। তাকে যখন আলাদা দৃষ্টিতে দেখি, মনে হয় পাড়কী সৈকতে শুয়ে থাকা নিটোল তম্বী, সুঠাম দেখি মৎস্য কন্যা। সৈকত ঘেঁষে বঙ্গোপসাগর। হঠাৎ হাওয়া লেগে কেঁপে ওঠে নীরব লাজুক জল। তীরে বসে থাকা মৌন মানুষগুলো যেন আয়নার মধ্যে দেখতে পায় নিজের হৃদয়।
মধ্যযুগের বাঙালি কবি দৌলত কাজীর ভাষায় বলতে হয়…..কর্ণফুলী নদী পূর্বে আছে এক পুরী রোসাঙ্গ নগরী নাম সর্গ অবতরী। এই আদি শহরেই আমার জন্ম। এই শহরকে নিয়ে আমার গবেষণার ফসল ‘দেয়াঙ পরগনার ইতিহাস’।