দেশে দেশে বিয়ের সামাজিক আচার এবং আজব রীতিনীতি

130

মো. রিদুয়ানুল হক
বিবাহ বা বিয়ে হলো একটি সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি যার মাধ্যমে দু’জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বিভিন্ন দেশে সংস্কৃতিভেদে বিবাহের সংজ্ঞার তারতম্য থাকলেও সাধারণ ভাবে বিবাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে দু’জন মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও যৌন সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে। কিছু সংস্কৃতিতে যে কোন প্রকারের যৌন কর্মকান্ডে প্রবৃত্ত হওয়ার পূর্বে বিবাহ সম্পন্ন করাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে পরামর্শ দেওয়া অথবা বিবেচনা করা হয়। বিশদ বিবৃত সংজ্ঞার ভাষায় বলতে গেলে, বিবাহ হল একটি বৈশ্বিক সার্বজনীন সংস্কৃতি। বিবাহ সাধারণত কোন রাষ্ট্র, কোন সংস্থা, কোন ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ, কোন আদিবাসী গোষ্ঠী, কোন স্থানীয় সম্প্রদায় অথবা দলগত ব্যক্তিবর্গের দ্বারা স্বীকৃত হতে পারে। একে প্রায়শই একটি চুক্তি হিসেবে দেখা হয়। সাধারণত আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় অথবা ধর্মনিরপেক্ষ আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। বৈবাহিক কার্যক্রম সাধারণত দম্পতির মাঝে সমাজ-স্বীকৃত বা আইনগত দায়িত্ববোধ তৈরি করে এবং এর মাধ্যমে তারা বৈধভাবে স্বেচ্ছায় সন্তান জন্ম দিতে পারে। বিশ্বের কিছু স্থানে, পরিবার-পরিকল্পিত বিবাহ, শিশু বিবাহ, বহুবিবাহ এবং জোরপূর্বক বিবাহ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে পালিত হয়। বিংশ শতাব্দীতে এসে, ক্রমবর্ধমানভাবে বহুসংখ্যক রাষ্ট্র এবং অন্যান্য বিচারব্যবস্থা আন্তরাষ্ট্রীয় বিবাহ, আন্তধর্মীয় বিবাহ এবং অতি সাম্প্রতিক সমলিঙ্গীয় বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে এদেরকে আইনগত স্বীকৃতি দিয়েছে। কিছু সংস্কৃতি তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দেয় এবং কিছু স্থানে রাষ্ট্রের আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শিশুবিবাহ এবং বহুবিবাহ সংঘটিত হয়ে থাকে।

হিন্দু বিবাহরীতি: হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী বিবাহে ছেলে মেয়েটির সমস্ত পালনপোষণের দ্বায়িত্ব নেয় এবং মেয়েটি তাদের সংসারের খেয়াল রাখার দ্বায়িত্ব গ্রহণ করে। এইভাবে তারা দুই আলাদা আলাদা মানুষ এক হয়ে নিজেদের বংশ এগিয়ে নিয়ে যায়। বিবাহের লক্ষ হল সংসার ও সন্তÍানের লালনপালন করে বংশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এর জন্য একই সময়ে বাইরে থেকে দরকারী জিনিস উপার্জন করে আনা আর ঘরের ভেতরে সংসারের কাজ সামলাতে হয়। যেহেতু একজন মানুষ একই সময়ে এই দুটো কাজ করতে পারে না তাই দুটো কাজ দুজনের মধ্যে বন্টিত হয়।

ইসলামী বিবাহরীতি: ইসলাম ধর্মে বিবাহের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের মধ্যকার যৌন সম্পর্কের অনুমতি রয়েছে। ইসলামী বিবাহরীতিতে পাত্র পাত্রী উভয়ের সম্মতি এবং বিবাহের সময় উভয়পক্ষের বৈধ অভিভাবকের উপস্থিতি ও সম্মতির প্রয়োজন। ইসলামী বিবাহে যৌতুকের কোন স্থান নেই। বিয়ের পূর্বেই পাত্রের পক্ষ হতে পাত্রীকে পাত্রীর দাবি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বা অর্থসম্পদ বাধ্যতামূলক ও আবশ্যকভাবে দিতে হয়, একে দেনমোহর বলা হয়। এছাড়া বিয়ের পর তা পরিবার পরিজন ও পরিচিত ব্যক্তিবর্গকে জানিয়ে দেয়াও ইসলামী করনীয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী বিধান অনুযায়ী একজন পুরুষ সকল স্ত্রীকে সমান অধিকার প্রদানের তার চাহিদা অনুসারে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করতে পারে। আর সমান অধিকার দিতে অপারগ হলে শুধু একটি বিয়ে করার অনুমতি পাবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের অনুমতি নেই। ইসলামে একজন মুসলিম একজন অমুসলিমকে বিয়ে করতে পারবে যদি উক্ত অমুসলিম ঈমান আনে (ইসলাম গ্রহণ করে)।

খ্রিস্টীয় বিবাহরীতি: খ্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্রিস্টীয় বিবাহরীতি অনেকগুলো পর্বে বিভক্ত। যেমন- নির্বাচন, প্রস্তাব, বাগদান, বাইয়র, নামলেখা, বান প্রকাশ, অপদেবতার নজর, কামানি বা গা-ধোয়ানী, কনে তোলা, গির্জার অনুষ্ঠান, ঘরে তোলা।

নির্বাচন: খ্রিস্টান সমাজে সাধারণত প্রথমে পাত্রী দেখা হয়। প্রথমত বরপক্ষই কনে নির্বাচন করে। বরপক্ষ কনে নির্বাচন করে কনের চরিত্র, দোষ-গুণ, বংশ পরিচয় জেনে নেয়।

প্রস্তাব: শুভদিন দেখে বরপক্ষ কনের বাড়িতে যায়। সাধারণত পাশের কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কনের বাড়ি যায় এবং তাদের উদ্দেশ্যের কথা জানায়।

বাগদান: বরপক্ষের প্রস্তাবে কনেপক্ষ রাজি হলে বাগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোথাও এ অনুষ্ঠানকে ‘পাকা দেখা’ও বলে। বাগদান উপলক্ষে পান, সুপারি, বিজোড় সংখ্যক মাছ নিয়ে যাওয়া হয়।

বাইয়র: এই অনুষ্ঠানে বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে যায়। যা আগেই কথা বলে ঠিক করে রাখা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর-কনে সবার আশির্বাদ গ্রহণ করে।
নামলেখা : বিয়ের ৩ সপ্তাহ আগে কনের বাড়িতে পুরোহিতের কাছে বর-কনে নাম লেখান। অনেকে এ অনুষ্ঠানে আতসবাজি ও বাজনার আয়োজন করে।

বান প্রকাশ: এই অনুষ্ঠানে বর-কনে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মন্ডলীর বিধি অনুযায়ী এ সময় বিয়ের ক্লাস করতে হয়। এটি বিয়ে পূর্ব বাধ্যতামূলক ক্লাস ব্যবস্থা।

অপদেবতার নজর: নাম লেখা থেকে শুরু করে বিয়ের আগ পর্যন্ত বর-কনেকে অতি সংযমী জীবন যাপন করতে হয়। অনেকে এ সময় ভূত-প্রেত ও অপশক্তির নজর থেকে রক্ষার জন্য ‘রোজারি মালা’ বা ‘জপমালা’ গলায় পরেন।
কামানি বা গা-ধোয়ানী: বিয়ের আগের রাতের অনুষ্ঠানকে গা-ধোয়ানী বলে। অনেক খ্রিস্টান সমাজে এই দিন গায়ে হলুদ মাখিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে অনুষ্ঠান করা হয়।

কনে তোলা: বিয়ের দিন ভোরে বাদকদলসহ বরের আত্মীয়-স্বজন কনের বাড়ি গিয়ে কনেকে নিয়ে আসে। কনেকে ঘর থেকে আনার সময় তার হাতে পয়সা দেওয়া হয়। কনে বাড়ি থেকে আসার সময় সেই পয়সা ঘরের মধ্যে ছুড়ে ফেলে। এর অর্থ হল যদিও সে বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছে, তারপরও বাড়ির লক্ষ্মী ঘর থেকে চলে যাচ্ছে না।
 গির্জার অনুষ্ঠান: শুরুতে গির্জার প্রবেশ পথে যাজক বর-কনেকে বরণ করে নেয়।

ঘরে তোলা: এই অনুষ্ঠানে উঠানের দিকে মুখ করে বড় পিঁড়ির উপরে বর-কনেকে দাঁড় করানো হয়। এরপর বর-কনে সাদা-লাল পেড়ের শাড়ির উপর দিয়ে হেঁটে ঘরে ওঠে। এ সময় বর ও কনে একে অপরের কনিষ্ঠ আঙুল ধরে থাকে।
এবার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিয়ের কিছু আজব রীতির-নীতি সম্পর্কে জানা যাকঃ বিশ্ব জুড়ে নানা মাঙ্গলিক কার্যের নানান রীতিনীতি। বিভিন্ন জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষ এই নিয়মগুলিও সর্বত্র আলাদা হয়। আমরা এই উপমহাদেশের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানি, তবে কিছু খুব আকর্ষণীয় এবং আশ্চর্যজনক বিয়ের কিছু ঐতিহ্যবাহী রীতি রয়েছে বিশ্ব জুড়ে। যা বিভিন্ন দেশে বিবাহের সময় পালন করা হয়। জেনে নেওয়া যাক এই আশ্চর্যজনক ঐতিহ্যগুলি সম্পর্কে।

চীন: আমাদের দেশে বরের হাতে যখন কনেকে সমর্পণ করা হয় তখন কনে এবং তার পরিবার কাঁদতে থাকে। কিন্তু চীনের তুইজ গোষ্ঠীর মেয়েদের এই কাজটা বিয়ের আগের ঠিক এক মাস ধরে করতে হয়। এই একমাস প্রতিদিন নিয়ম করে কনেরা এক ঘণ্টা করে কাঁদে। শুধু তাই নয় বিয়ের দিন যতই ঘনিয়ে আসে কান্নার দলের সদস্য সংখ্যা ততই বাড়তে থাকে। বিয়ের যখন ২০ দিন বাকি থাকে তখন মেয়ের সঙ্গে এসে যোগ দেয় তার মা। বিয়ের যখন ১০ দিন বাকি থাকে তখন এসে যোগ দেয় কনের নানী। আর শেষের বাকি কয়েকটা দিন পরিবারের সবাই এই কান্নার আসরে যোগ দেয়। এটিই তাদের চিরাচরিত ঐতিহ্য।

জাপান: জাপানে বিয়ের সময় বর ও কনে তিনটি কাপের পানীয় থেকে তিনবার চুমুক দেন। এরপর তাঁদের বাবা-মা একইভাবে সেই কাপগুলোতে চুমুক দেন। জাপানিদের বিশ্বাস, এতে পরিবারের মধ্যে বন্ধন পাকাপোক্ত হয়।

কোরিয়া: কোরিয়ায় বিয়ের সময় বর তাঁর শাশুড়িকে একজোড়া পুতুল হাঁস উপহার দিয়ে থাকেন। এই উপহারটি দিয়ে বর বউয়ের প্রতি তাঁর উদ্দেশ্য এবং আনুগত্য প্রকাশ করেন।

ফিলিপাইন: দীর্ঘ, শান্তিময় ও ছন্দময় জীবনের উদ্দেশ্যে ফিলিপাইনে বিয়ের দিন বর ও কনে একই সঙ্গে দু’টি কবুতর আকাে ছেড়ে দেন। তাঁরা মনে করেন, কবুতরের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জীবনের দুঃখ-কষ্টও দূর হয়ে যাবে।

সুইডেন: ইউরোপের দেশ সুইডেনের বিয়ের রীতিটাও বেশ অদ্ভুত। বর যদি বাথরুমে যাওয়ার জন্য বিয়ের টেবিল থেকে উঠে যায় তবে উপস্থিত পুরুষ মেহমানরা এসে নববধূকে চুমু দেওয়ার সুযোগ পায়। তেমনিভাবে নববধু যদি বাথরুমে যায় তবে উপস্থিত নারীরা এসে বরকে চুমু খেয়ে যাবে।

মঙ্গোলিয়া: চীনের মঙ্গোলিয়ান গোষ্ঠীর কারো বিয়ের তারিখ ঠিক করতে হলে বর-বধূকে একটি ছুরি নিয়ে একসাথে একটি মুরগির ছানা মারতে হবে। এরপর দেখা হয় সেই মুরগির ছানার কলিজার রঙ কেমন। যদি তা টাটকা এবং শুদ্ধ মনে না হয়, তবে বিয়ে আর হবে না। অপেক্ষা করতে হবে এভাবে যতদিন না দুজন মিলে একটি মুরগির ছানা মারতে থাকবে যার কলিজা দেখতে লাগবে টাটকা। তবেই না বিয়ের তারিখ আর বিয়ে।

ফিজি: ফিজির পুরুষদের বিয়ে করতে হলে তিমি মাছের দাঁত সংগ্রহ করতে হবে। কোনো মেয়ের বাবাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে হলে ছেলের কাছে অবশ্যই তিমি মাছের দাঁত থাকতে হয়। সমুদ্রের তলদেশে বসবাস করা তিমি মাছের দাঁত সংগ্রহ করাটা অনেকটাই অসম্ভব কাজ। তাই বাধ্য হয়ে অনেককেই ব্ল্যাক মার্কেটে ধরনা দিতে হয়।

পোল্যান্ড: পোল্যান্ডে বিয়ের পার্টিতে বউয়ের সঙ্গে নাচার জন্য অতিথিদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। সেই টাকা জমিয়ে নবদম্পতির হানিমুনের জন্য খরচ করা হয়।

স্কটল্যান্ড: স্কটল্যান্ডে বর ও কনে বিয়ের আগে ঘরের বাইরে বসে থাকে আর তাদের ওপর ছাই, পালক, ময়দা ও গুড় মেশানো অ্যালকোহল ঢেলে দেয়া হয়। আর এই কাজটি তাঁদের পরিবার ও বন্ধুরা স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই করে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ায় বিয়ের সময় অতিথিরা বর ও বউকে রঙ বেরঙের পাথর ও মার্বেল উপহার দিয়ে থাকেন। এমনকি বিয়ের সময় তাঁরা অতিথিদের একটি বড় কাঁচের বাটিতে পাথরগুলো রাখতে বলেন, যা পরবর্তীতে নতুন দম্পতিরা তাঁদের ঘরের একটি বিশেষ জায়গা েেরখে দেন। যাতে তাঁরা সব সময় অনুভব করেন তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের সাহায্য এবং দোয়ার কথা।

জার্মানি: জার্মানিতে বিয়ের আগের দিন রাতে বর-বউয়ের পরিবার ও বন্ধুরা তাদের ঘরের বাইরে কাঁচের জিনিস ছুড়ে ফেলেন। নতুন দম্পতিরা সেই ভাঙা কাঁচের টুকরাগুলো ঝাড়ু দিয়ে নতুন ঘরে প্রবেশ করেন। বিয়েতে জার্মানির আরো একটি মজার রীতি হলো, বিয়ের পর নতুন দম্পতি সবার সামনে একটি কাঠের টুকরোকে একসঙ্গে কেটে দেখাবেন। এটি দিয়ে তাঁরা প্রমাণ করেন দুজন সমানভাবে কাজ ভাগাভাগি করে নেবেন এবং তাদের মধ্যে বোঝাপাড়া অনেক ভালো।

দক্ষিণ আফ্রিকা: নতুন দম্পতির ঘরে বর এবং বউ উভয়ের বাবা-মা তাঁদের বাসা থেকে আগুন নিয়ে আসেন। সেই আগুন দিয়ে তাঁরা তাঁদের নতুন ঘরের ফায়ারপ্লেসের আগুন ধরান। ছোটবেলা থেকে তারা যে আগুনের আঁচে অভ্যস্ত, সে রকম আগুন দিয়েই তারা তাদের নতুন জীবন শুরু করে।

গুয়েতেমালা: গুয়েতেমালায় বরের মা নতুন দম্পতিকে স্বাগত জানাতে বিয়ের পার্টিতে একটি সাদা রঙের ঘণ্টা ভাঙেন, যা নতুন দম্পতির সুখময় জীবনের উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে।

গ্রীস: গ্রীসে বরকে বিয়ের আগে কনের বাড়ির পক্ষ থেকে সেভিং করিয়ে দেন। এর পর বরকে কনের মা মধু এবং বাদাম খাওয়ান। এর পরেই তাঁকে বাড়িতে ঢোকানো হয়।

ইন্দোনেশিয়া: এবার আসা যাক ইন্দোনেশিয়ার বিয়ের একটি রীতি নিয়ে। নবদম্পতিকে ৩ দিন কোন রকম টয়লেট ব্যবহার করতে দেওয়া হয়না। আর এই ৩ দিন তাদের দেওয়া হয় অল্প খাবার ও পানি যেন তাদের টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন না হয়। কোনোভাবে যেন তারা টয়লেট ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য রীতিমত আত্মীয়স্বজন মিলে তাদের পাহারায় রাখা হয়।

কেনিয়া: কেনিয়ার ম্যাসাই উপজাতির বিয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে এক অদ্ভুত আশীর্বাদের প্রথা। প্রথা মেনে নববধূকে তার স্বামীর বাড়ি যাওয়ার সময় নববধূর বাবা মুখে পানি নিয়ে সেই পানি ছুড়ে দেন মেয়ের মুখে, এভাবে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ দেওয়া হয়। এরপর নববধূ তার বাপের বাড়ীর দিকে আর তাকাতে পারেনা। পাড়ি দেন শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে।

ফ্রান্স: পারফিউম বা খাওয়া দাওয়াতে ফ্রান্স বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ফ্রান্সের নবদম্পতিদের বিয়ের পর খেতে দেওয়া হয় টয়লেট স্যুপ। বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হওয়ার পর নবদম্পতিকে এই স্যুপ খাওয়ানোর জন্য বন্ধুরা ওঁত পেতে বসে থাকেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া খাবার কমোডের ভেতর ফেলে এই স্যুপ বানানো হয় এবং নবদম্পতি যতক্ষণ এই খাবার না খাবেন ততক্ষণ তাদের একসাথে রাত কাটাতে দেওয়া হয় না। কী বিদঘুটে ব্যাপার!

ভারত: এবার আসি আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কথায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এখানে বহু মানুষের বাস। তাই আছে রীতিনীতিরও হাজারো রকমফের, যার বেশ কিছু রীতি রীতিমতো অদ্ভুতও বটে। কোন মেয়ের জন্ম যদি মাঙ্গলিক লগ্নে হয় অর্থাৎ জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে মঙ্গল ও শনি একসঙ্গে সপ্তমে অবস্থান করলে সেই সময়টিকে অশুভ ধরা হয়। এই সময়ে যদি কোন মেয়ের জন্ম হয় তাহলে তাকে মাঙ্গলিক বলা হয়। এবং তাদের সেই দোষ কাটানোর জন্য বিয়ে দেওয়া হয় গাছ অথবা সারমেয়র সাথে। কারণ হিসাবে বলা হয় তাদের দোষ না কাটলে তাদের স্বামী মারা যাবে। আর এ কারণে এই অদ্ভুত নিয়ম।

উপরে উল্লেখিত তথ্যসমূহ কেবল ইন্টানেট থেকে সংগৃহীত, তবে এগুলোই উল্লেখিত দেশ সমূহের একমাত্র নিয়ম-নীতি নয়। কারণ ধর্ম, গোত্র, বর্ণ বিশেষে এক দেশে বিভিন্ন নিয়ম হয়ে থাকে। এখানে শুধু মাত্র বিয়ে সম্পর্কে কিছু মজার তথ্য উপস্থাপন করা হলো।
লেখক: সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ
মাতুয়াইল হাজী আ. লতিফ ভূইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা