দেশে চলছে তীব্র দাবদাহ সতর্ক জীবনযাপন জরুরি

19

বৈশাখ মাস। তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে দাবদাহ। বৈশাখের এক তারিখ হতে মুসলমানদের রমজান মাস শুরু হয়েছে। পুরো বৈশাখ জুড়ে চলবে মুসলমানদের সিয়াম সাধনা। বৈশাখের দাবদাহ ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রেকর্ড হতে দেখা যায়। রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া এবং খুলনা অঞ্চলে তীব্র আকার ধারণ করেছে দাবদাহ। তাছাড়া দেশব্যাপী তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। এরকম গরমের মধ্যে দাবদাহজনিত স্ট্রোক এর সংখ্যা বেড়ে যায়। দেশে রমজান মাস হওয়ায় রোজাদাররা গরমের মধ্যে নানা জটিলতায় ভোগছে। পিপাসা বাড়ছে সবার। শরীর হয়ে যাচ্ছে ক্রমে নিস্তেজ। দুর্বলতা শরীরকে স্বাভাবিক চলাচলে সংকটময় করে ছাড়ছে। এতে তো বৈশাখের এ রোজা ১৪ ঘণ্টার। তার উপর মাঠে ময়দানে যারা কাজ করছে তাদের শরীর অস্বাভাবিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তারপরও ধর্মীয় বিধি মেনে মুসলমানদের রোজা-তারাবিহ ইত্যাদি ইবাদাত বান্দেগী পালন করতে হচ্ছে।
বিধাতার কৃপা ছাড়া ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মাথায় নিয়ে রোজাদাররা রোজা পালন করতে পারতো না। আল্লাহ রোজাদারদের তীব্রগরম ও দাবদাহ সহ্য করার শক্তি দিয়েছেন। যে কারণে মুসলমান যথাসম্ভব রমজানের সিয়াম সাধনায় ত্রূটি করছে না। তবে রোজাদারদের মনে রাখা প্রয়োজন ইফতার-সেহরিতে যে ধরনের খাদ্য শরীরের জন্য অপকারী সেসব খাদ্য পরিত্যাগ করা। অধিক ভাজাপোড়া খেলে শরীরে গ্যাস্ট্রিক বাড়ে যাবে এবং গরহজমী রোগের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
ইফতারে ডাবের পানি, লেবুর শরবত, চিড়া-কলা ইত্যাদি খাওয়া উত্তম। কিন্তু পানির চাহিদা বেশি হলেও যথাসম্ভব পরিমিত পানি পানই উত্তম। মাছ মাংসের চেয়ে শাকসব্জি, তরীতরকারী দিয়ে ভাত কিংবা রুটি আহারে গরমের সময় শরীরকে অনেক বেশি পরিমাণে স্বাভাবিক রাখে। যথাসম্ভব মাংস পরিত্যাগ করা বাঞ্চনীয়। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো। রোদে বের হলেও মাথার উপর ছাতা, টুপি কিংবা অন্যকোন কাপড় দ্বারা মাথাকে রোদ হতে নিরাপদ রাখতে হবে। তীব্র গরমে ডাইরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। তাই খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত। বৈশাখের এমন গরমে অগ্নিকান্ডের পরিমাণ বাড়ে। তাই সবাইকে অগ্নির ব্যাপারে খুবই সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
রোদ-বৃষ্টি-শীত এসব আমাদের ঋতুচক্রের স্বাভাবিক নিয়ম। তবে প্রকৃতির সাথে তালমিলিয়ে আমাদের জীবনযাপন করতে হবে। যেসব কারণে শরীরের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয় সেসব বিষয় হতে দেশের জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশের জনজীবনকে খুবই সংকটাপন্ন করে তুলেছে। করোনা ভাইরাস হতে নিরাপদ থাকতে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে হবে। সচেতনতা জীবন চলার পথে যেকোন সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মানুষ সচেতন ভাবে শরীরের যতœ নিয়ে চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া করলে শরীর ও জীবনের অনেক সংকট কেটে যায়। দেশের বর্তমান দাবদাহ মোকাবিলায় সচেতন ভাবে পরিবেশ মোকাবিলা করলে বড় ধরনের সমস্যা হতে মানব জীবন রক্ষা পায়। তাই গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষায় সচেতনতাই উত্তম।