দেশে এখন সরকার হটানোর চক্রান্ত শুরু হয়েছে : কাদের

4

ঢাকা প্রতিনিধি

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে এখন সরকার হটানোর চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়মী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত হতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই তাকে পরাজিত করতে পারবে না।
গতকাল বুধবার বিকালে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার কবিরহাট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তিনি।
বিএনপি মসহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিতে সংবিধানে কুখ্যাত আইন প্রণয়ন করেছেন, ভুলিনি মির্জা ফখরুল। ৩ নভেম্বর জেল হত্যাকান্ড, জাতীয় নেতাদের খুনিদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। আমরা ভুলিনি।বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলা করেছেন। বিএনপি আমাদের মারতে চায়, হত্যা করতে চায়। কথায় কথায় বলে, পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ফখরুল সাহেব, আপনিসহ আপনার নেতারা যেসব কথা উচ্চারণ করেন, যেসব ভাষায় কথা বলেন, পতন ঘটাবেন। আল্লাহ যাকে ক্ষমতায় রাখবে, কেউ কি তার পতন ঘটাতে পারবে? পতন আপনাদের হবে। আপনাদের পতন নেতিবাচক রাজনীতির জন্য অনিবার্য। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবো।
ওবায়দুল কাদের বলেন, লন্ডনে থাকা দন্ডিত নেতা তারেক রহমান নাকি তাদের (বিএনপির) নেতা। বিএনপি তাকে নেতা মানতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাকে নেতা মানতে পারে না। তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের মানুষ কোনও দিনও পছন্দ করবে না, ঘৃণা করবে।
তারেক রহমান লন্ডনে বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে অপমানসূচক কথা বলছেন বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ১৫ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড জেনারেল জিয়াউর রহমান, ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান)। এই খুনিরা আওয়ামী লীগকে সহ্য করে না। এই দল আওয়ামী লীগকে সহ্য করতে পারে না, শেখ হাসিনাকে সহ্য করতে পারে না। লন্ডন থেকে বলে ‘হাসিনা’। ‘তুইও’ বলে, ‘তুমিও’ বলে। বেয়াদবির একটা সীমা আছে।’
কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন রুমির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের আহব্বায়ক অধ্যক্ষ এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, যুগ্ম-আহব্বায়ক অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন এবং যুগ্ম আহবায়ক ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্লাহ খাঁন সোহেল।