দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ

12

ঢাকা প্রতিনিধি

দেশে বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এরমধ্যে আট কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা আট কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার তিনজন। অর্থাৎ, বর্তমান মোট জনসংখ্যায় পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা সাড়ে ১৫ লাখেরও বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ভাসমান জনসংখ্যা ২২ হাজার ১৮৫ জন।। গত জুলাই মাসে প্রকাশিত জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনের তুলনায় জনসংখ্যা বেড়েছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
গত জুলাইয়ে বিবিএস প্রকাশিত জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। অর্থাৎ যাচাই-বাছাইয়ে করে নতুন যুক্ত হয়েছেন আরও প্রায় ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ২৯৫ জন। প্রাথমিক হিসাবে বিভিন্ন কারণে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ মানুষ বাদ পড়েছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদন উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামে বাস করেন মোট জনসংখ্যার ১১ কোটি ৬০ লাখ।
জনশুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে নারী আট কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন, পুরুষ আট কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার তিনজন। সে হিসাবে দেশে পুরুষের তুলনায় নারী বেশি ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৮১ জন।
বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যা বিভাজনে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা সবচেয়ে কম ৯৩ লাখ ২৫ হাজার ৮২০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিন কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ৬১২ জন, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ চার কোটি ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৬ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে এক কোটি ৭৮ লাখ ১৩ হাজার ২১৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে এক কোটি ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭২ জন, রাজশাহী বিভাগে দুই কোটি সাত লাখ ৯৪ হাজার ১৯ জন, রংপুর বিভাগে এক কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার ৭১ জন এবং সিলেট বিভাগে এক কোটি ১৪ লাখ ১৫ হাজার ১১৩ জন বসবাস করছেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে ১১ বছরে সিটি করপোরেশন এলাকায় জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৬ জন রয়েছে।
জনসংখ্যার ঘনত্ব ৯৭৬ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৯ জনে। মোট জনসংখ্যার মধ্যে কাজে নিয়োজিত রয়েছে ৩৭ দশমিক ২১ শতাংশ, কাজ খুঁজছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, কাজ করে না ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।
দেশে কাঁচা ঘর ৬৬ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৭৮ শতাংশে। আর পাকা ঘর ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২২ দশমিক ৪৬ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।
২০০১ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৩ জন। ১৯৯১ সালে ছিল ১০ কোটি ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২ জন। ১৯৮১ সালে ছিল ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫ জন এবং ১৯৭৪ সালে দেশে জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭১ জন।
সাক্ষরতার হার বেড়েছে : রিপোর্ট প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে। ২০১১ সালেও যেখানে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২০২২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য মতে, ৭৪ দশমিক ৮০ শতাংশ সাক্ষরতার মধ্যে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং নারী ৭২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। একই বয়সের জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে দেশের পল্লী এলাকায় সাক্ষরতার হার ৭১ দশমিক ৬৮ ও শহর এলাকায় ৮১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
সাত বছরের ওপরে দেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমিক ১৭ শতাংশ প্রথম শ্রেণি শেষ করেনি। দুই দশমিক ৩২ শতাংশ প্রাক-প্রাথমিক পর্যন্ত পড়েছে। প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে এক দশমিক ৭৩ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষা, অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করছে ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। এসএসসি পাস করেনি সাত দশমিক আট শতাংশ। এসএসসি পাস করেছে আট দশমিক ৮২ শতাংশ। এইচএসসি পাস করেছে সাত দশমিক ২৮ শতাংশ। ডিগ্রি বা স্নাতক পাস করেছে তিন দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১১ সালে স্নাতক ডিগ্রিধারী ছিল এক দশমিক ৯২ শতাংশ। স্নাতকোত্তর অর্জন করেছে এক দশমিক ৭২ শতাংশ, যেখানে ২০১১ সালে মাস্টার ডিগ্রিধারী ছিল শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ।
বিবিএসের প্রতিবেদন বলছে, দেশের মোট শিক্ষিতের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা থেকে পড়াশোনা শেষ করেছে ৮৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০১১ সালে সাধারণে এই হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পড়েছে সাত দশমিক ১৯ শতাংশ। ২০১১ সালে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পড়ার হার ছিল পাঁচ দশমিক ৫৮ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা শেষ করেছে শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ। অন্যান্য মাধ্যমে পড়াশোনা করেছে দুই দশমিক ৭৪ শতাংশ।