দেশের আপামর মানুষের মাতৃভাষা সংরক্ষিত হোক : ড. শিরীণ আখতার

9

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেছেন, আমাদের দেশে মিশ্র সংস্কৃতি। অনেক ভাষাভাষী লোক পাশাপাশি আছি। প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা আছে। বাংলাদেশের আপামর মানুষের মাতৃভাষা সংরক্ষিত হোক, চর্চা হোক এটাই আমরা চাই। যদি একটি জনগোষ্ঠী নিজের মাতৃভাষা চর্চা করতে না পারে তাহলে তারা এগিয়ে যেতে পারবে না। বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে ক্ষুদ্র মন নিয়ে নয়, সবাইকে নিয়ে আগাতে হবে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদকপ্রাপ্ত মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাকে পিপল’স ভয়েস এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবর্ধিত অতিথি মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, মাতৃভাষায় যখন কথা বলতে পারি না তখন মনে হয় যেন নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। শৈশব থেকে মাতৃভাষায় লেখাপড়ার সুযোগ পাইনি। শিক্ষার প্রয়োজনে অন্য একাধিক ভাষা শিখেছি। ভাষার আকুতি আমার নিঃশ্বাসের মত। মাতৃভাষা প্রয়োগ করতে না পারলে ভিতরে ক্ষরণ তৈরি হয়। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক সাংবাদিক মিন্টু চৌধুরী বলেন, সমতলের মানুষ যতটা এগিয়ে থাকে সে সুযোগ আদিবাসী জনগোষ্ঠী পায় না। প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের অধিকার বিশ্ব স্বীকৃত। আমাদের দেশে নানা জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়ার পথে। যেসব জনজাতির সংখ্যা কম তাদের ভাষা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া খুব জরুরি। ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পিপল’স ভয়েস সভাপতি শরীফ চৌহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পিপল’স ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আতিকুর রহমান এবং সংবর্ধিত অতিথির জীবনীপাঠ করেন কাজী মুশফিকুস সালেহীন। বক্তব্য দেন কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান, সমাজ গবেষক শরীফ শমশির, সাংবাদিক নজরুল কবীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএম দিনময় রোয়াজা। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথিকে সম্মান জানায় চট্টগ্রাম মহানগর ত্রিপুরা কল্যাণ ফোরাম এবং ত্রিপুরা স্টুডেন্ডস ফোরাম বাংলাদেশ মেট্রোপলিটন শাখা। সম্মাননা স্মারক ও তৈলচিত্র তুলে দেন পিপল’স ভয়েসের সদস্যরা। বিজ্ঞপ্তি