দেশের অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্য জরুরি

67

টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ২৫ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন। তিনি এ ভাষণে জাতীয় ঐক্যের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর দীর্ঘ ৪৭ বছর অতিবাহিত হবার পরও এদেশ স্বাধীনতার সুফল পূর্ণমাত্রায় ভোগ করতে পারছে না। কেননা স্বাধীনতা অর্জনের পর এ জাতিকে নানা উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করতে হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে দেশে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনে দীর্ঘ সময় এদেশ একটা অস্থিতিশীলতার মধ্যে পতিত ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়নের দিকে নজর দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ ধীরে ধীরে উন্নতির রাজপথে যাত্রা শুরু করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশটিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে অর্থনৈতিক মানদÐে একটা মর্যাদায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। যে কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের সুযোগ পায়। দেশে কৃষি-শিল্প-বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা লাভের পর বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা হাতে নেন। যা বর্তমানে ফলপ্রসূ অবস্থায় চলে আসছে। ২০২১ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বিশ্বের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ নান্দনিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক মানদন্ডে সমৃদ্ধ মহানগরীতে রূপান্তরিত হবে। কর্ণফুলী ট্যানেল, দোহাজারি ঘুমধুম রেললাইন সম্প্রসারণ, চায়না অর্থনৈতিক জোন, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাঁশখালী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ ২০২১ সাল নাগাদ দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনয়ন করবে। শুধু চট্টগ্রাম নয় সমগ্র দেশে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে। চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড সমূহ ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হলে একটি টেকসই উন্নয়নের সুফল সারা দেশ ভোগ করতে পারবে। এর ফলে দেশ মধ্যআয়ের দেশে রূপান্তরিত হবে।
দেশের এ ক্রান্তিকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে যে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন তা তাঁর ভাষণে পরিষ্কার করেছেন। উন্নয়নের স্বার্থে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই জরুরি। প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথাও জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড সুচারুরূপে বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে, মাথাপিছু আয় বাড়বে সাধারণ নাগরিকের। সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্ত এগিয়ে যাবে এদেশ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ নেতৃত্বে। দেশ উন্নয়নের রাজপথে দ্রুত বৈশ্বিক উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ বিশ্বাস সমগ্র দেশের মানুষের।