দেশে তৈরি হচ্ছে মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার!

66

বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রি সময়ের সাথে সাথে বদলাচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত গাড়ির বিকল্প হিসেবে স্থানীয়ভাবে অ্যাসেম্বল করা আন্তর্জাতিক মানের গাড়ি এখন ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। সেই তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে নতুন মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার। গাজীপুরের বড় ভবানীপুরে অবস্থিত র‍্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর কারখানায় গাড়িটি অ্যাসেম্বল করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক জাপানি প্রযুক্তির ব্যবহার হলেও, দেশে তৈরি হওয়ায় গাড়ি দাম যেমন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে, তেমনি এর মাধ্যমে দেশিয় অটোমোবাইল সেক্টর হয়ে উঠেছে আরও শক্তিশালী।

মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা শহরের ব্যস্ত সড়ক ও গ্রামের কাঁচা-পাকা পথে সমান দক্ষভাবে চলতে সক্ষম। এর ২২০ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং ৫.২ মিটার টার্নিং রেডিয়াস চালকদের যেকোন রোড কন্ডিশনে স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। গাড়িতে ব্যবহৃত হয়েছে ১.৫ লিটার মাইভেক ইঞ্জিন, যার সর্বোচ্চ শক্তি ১০৫ হর্সপাওয়ার ও টর্ক ১৪১ নিউটন মিটার। উন্নত সাস্পেনশন এবং শব্দ ও কম্পন-রোধক প্রযুক্তির ফলে এতে দীর্ঘ যাত্রাও আরামদায়ক হয়।

গাড়ির ইন্টেরিওরে তিন সারিতে সাতটি আসন এবং পর্যাপ্ত বুট স্পেস থাকায় পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে একসাথে আরামে ভ্রমণ করা যায়। ডুয়েল জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ৩৬০ ডিগ্রী ক্যামেরা, সেকেন্ড রো এসি ভেন্ট, ১০.৩ ইঞ্চির স্মার্টফোন সংযুক্ত টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে (প্রিমিয়াম ভার্শন) এবং প্রতিটি সারিতে চার্জিং পয়েন্টসহ নানা ফিচারস যাত্রাকে করে তোলে আনন্দময়।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক্সপ্যান্ডার রাখছে সন্তোষজনক উপস্থিতি। রাইজ বডি স্ট্রাকচার, ডুয়েল এয়ারব্যাগ, পথচারী-বান্ধব বাম্পার এবং কী-লেস এন্ট্রি ইত্যাদি নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য চালক ও যাত্রী উভয়কেই সুরক্ষিত রাখবে। ক্রেতা সেবায়ও জোর দিয়েছে মিতসুবিশি। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য সম্প্রতি জিইসি ক্রসিং সংলগ্ন শহীদ আব্দুল হামিদ রোডে চালু করা হয়েছে একটি নতুন ও আধুনিক সেলস সেন্টার। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সেখানে গাড়ি দেখা, বুকিং এবং বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যাবে। গাড়ি কিনলে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টিসহ দুই বছরে বিনামূল্যে ছয়টি বিনামূল্যে সার্ভিস পাবেন ক্রেতারা।

বর্তমানে মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডারের চারটি ভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে। বেস মডেল ‘এক্সপ্যান্ডার ক্লাসিক’-এর দাম শুরু ৩৪ লক্ষ টাকা থেকে। ‘এক্সপ্যান্ডার প্রিমিয়াম’ ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩৫.৫০ লক্ষ টাকা, যেখানে থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, লেদার-র‌্যাপড ইন্টেরিওর, রুফ রেইল, ইনবিল্ট উইন্ডো শেড ইত্যাদি ফিচারস। মাত্র ৩৫ লক্ষ টাকায় পাওয়া যাবে ‘এক্সপ্যান্ডার ইকো’, যা উভয় অকটেন ও এলপিজি’র মাধ্যমে চালানো যাবে। আর যারা একটু স্পোর্টি লুক পছন্দ করেন তাদের জন্য আছে ‘এক্সপ্যান্ডার স্পোর্ট’ ভ্যারিয়েন্ট, যার দাম শুরু ৩৬.৫০ লক্ষ টাকা থেকে। এছাড়া, তিনটি আকর্ষণীয় রঙে গাড়িটি পাওয়া যাচ্ছে; জেট ব্ল্যাক মিকা, গ্রাফাইট গ্রে মেটালিক এবং হোয়াইট পার্ল। ভবিষ্যতে আরও নতুন রঙ বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে মিতসুবিশি।

সব মিলিয়ে মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডারের প্রযুক্তি, আরাম, নিরাপত্তা এবং দেশিয় উৎপাদনের সফল সমন্বয় এই গাড়িকে দিয়েছে এক ভিন্ন উচ্চতা। শীঘ্রই দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের মাঝে এই গাড়িটি স্থায়ী জায়গা করে নেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।