দেশজুড়ে হিম শীতল ঠাণ্ডা, ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ

69

দেশজুড়ে শীতল আবহাওয়ার কারণে থমকে গেছে বাংলাদেশের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সব কাজ- কর্ম । শীতের হিম ঠাণ্ডা বাতাস আর কুয়াশাভেজা রাস্তা ভেদ করে কিছুতেই যথাসময়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে বেরুতে পারছেনা মানুষ। ভীষণ শীত আর কুয়াশার কারণে যান্ত্রিক গাড়িগুলোও তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে রাস্তায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে । ফেরিগুলো দাঁড়িয়ে আছে সূর্য ওঠার অপেক্ষায়। কখনও কখনও মাঝ দুপুর অবধি সূর্যের দেখা মিলছেনা। ছোট ছোট শিশু আর বয়োবৃদ্ধরা এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কোনো কোনো জায়গায় দিনের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমতে শুরু করেছে। এভাবে তাপমাত্রা কমতে থাকলে ওসব এলাকায় খুব তাড়াতাড়ি শৈত্যপ্রবাহ নেমে আসবে। যদিও আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে এমাসে বেশ কয়েকটা শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শীতের প্রকোপ দেখে মনে হচ্ছে শৈত্য প্রবাহ খুব দ্রুতই এগিয়ে আসছে । আমরা এদেশে শীত সচরাচর মাঘ মাসের দিকে বেশি তার স্বরূপে আবির্ভাব হতে দেখেছি।অর্থাৎ মাঘ মাসেই এদেশে শীত বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ নিয়ম বহুকাল ধরেই চলে আসছে কিন্তু মানুষের লাগামহীন প্রকৃতির প্রতি অবিচার, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শহর, নগরে প্রকৃতি বিরোধী কলকারখানা স্থাপনের ফলে প্রকৃতি দিনে দিনে তার নিজস্ব রূপ হারাচ্ছে, ফলে প্রকৃতি রুষ্ট হয়ে তার আচরণ পরিবর্তন করছে। এখন শীতের প্রকোপ এদেশে শীত আগমনের আগেই চোখে পড়ে। এখন পৌষ মাস চলছে, সাধারণত পৌষ মাসে কম শীত পড়ার কথা আর মিষ্টি রোদ থাকে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন পৌষ মাসেও শৈত্য প্রবাহ দেখা যাচ্ছে। জলবায়ুর এমন বিপরীত আচরণের ফলে পৃথিবীতে মানুষের বসবাস করা খাণিকটা অসুবিধা দেখা দিয়েছে। জলবায়ুর এমন আচরণ পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন পৃথিবীর সকল মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহের আন্তরিকতা। তারা যদি সবাই মিলে বিশ্ব প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করতে এগিয়ে আসে তাহলে আমরা সবাই প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণ থেকে রক্ষা পাবো। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই মানুষ প্রকৃতির কাছে বড় অসহায় হয়ে পড়েছে। শীতের সময় বেশি শীত, গরমের সময় বেশি গরম আর বর্ষার সময় ব্যাপক বন্যা জনজীবনকে অতীষ্ঠ করে তুলেছে। অনেক সময় প্রকৃতির এমন বৈরি আচরণের কারণে ব্যাপক জীবনহানিও ঘটচ্ছে। মাঝে মাঝে টর্নেডো, হ্যারিকেন, সুনামি,ভূমিকম্প ইত্যাদিও পৃথিবীতে মানুষের বসবাসকে কঠিন করে তুলছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য মানুষ যতই পথ খুঁজছে প্রকৃতি ততই নিত্য নতুন ভাবে তার রূপ বদল করছে। প্রকৃতপক্ষে সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ প্রকৃতির কাছে বড়ই অসহায়। আদিমকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির সাথে লড়াই করে পৃথিবীতে টিকে থাকলেও কখনও প্রকৃতিকে নিজেদের আয়ত্তে আনতে সক্ষম হয়নি। বড়জোর প্রকৃতির কিছু জিনিসকে কিছুদিন ঠেকিয়ে রাখতে পেরেছিল মাত্র। আমাদের দেশ একটা চমৎকার প্রকৃতির লীলাভূমির দেশ। এদেশে শীত, বর্ষা, গ্রীষ্মসহ ছয়টা ঋতু বছরে সবসময় ঘুরে ফিরে আসে। তাই এই দেশটি পৃথিবীর মানুষের কাছে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের দেশ হিসেবেই পরিচিত। বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এন্টারটিকা মহাদেশের বরফসমূহ গলতে শুরু করায় বিশ্বের নদীর পানিসমূহ বাড়তে শুরু করেছে এতে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বর্ষার আগেই বন্যা দেখা যায়। আর বাংলাদেশে প্রকৃতির অন্যতম উপাদান বিভিন্ন বৃক্ষাদি কেটে বসতি গড়ে তোলায় প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়ে শীত মৌসুমের আগেই প্রকৃতিকে শীতল করে চলেছে। এতে করে বর্তমানে দেশে শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। এই শৈত্য প্রবাহের কারণে দেশের এক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। সকাল থেকে অনেক সময় বিকেল অবধি অপেক্ষা করেও সূর্যের দেখা না পেয়ে মানুষ ঘরেই আটকে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে গরিব এবং দরিদ্র মানুষগুলোর জীবন ও জীবিকার বেশ টানাপোড়েনে পড়তে হচ্ছে। এদের সাথে বসবাস করা ছোট্ট শিশুগুলো অনেক সময় ঠাণ্ডা সহ্য করতে নাপেরে নিউমুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে। এই শৈত্য প্রবাহে অন্তত দরিদ্র এবং শিশুদের বাঁচানোর জন্য সরকার এবং বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা যদি শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই তাদের দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে অন্তত এ সমস্ত গরিব মানুষগুলোর দুঃখ কিছুটা হলেও লাঘব হতো। তাছাড়া দেশে অনেক বিত্তবান রয়েছে এবং কিছু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা যদি সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেয় তাহলে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে এদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠতোনা। প্রকৃতপক্ষে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়লেও কিছু মানুষ এখনও দরিদ্র সীমার নিচেই বসবাস করছে। এদের বেশিরভাগই সহায় সম্বলহীন লেখাপড়া নাজানা জনগোষ্ঠী।
এদের অনেকেই আবার ছিন্নমূল। এদের এমনিতেই তেমন কোনো কাজ নেই। এরা কখনও ভেন কিংবা রিকশা আবার কখনও কখনও গ্রামে গ্রামে তাবিজ কবজ বিক্রি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করে। এমন শৈত্য প্রবাহে তাদের জীবন থেমে গেছে তারা এখন চেয়ে আছে রাষ্ট্র কিংবা বিত্তবানদের দিকে। তাদের আকুতি শুধু এই শৈত্য প্রবাহে একটু বাঁচার। আসুন সবাই এই শৈত্য প্রবাহে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে থাকি। আমাদের যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। সরকারের নীতিনির্ধারকেরাও এই বিষয়ে খুব দ্রæত সিদ্ধান্ত নেবেন এমন প্রত্যাশা সকলের।