দেরি হয়ে গেছে

8

স্বদেশ দত্ত

– আচ্ছা বল তো, চমৎকার যে হতেই হবে, হুজুরের মতে অমত কার ? এই টাইপের লোকগুলো বন্ধু ? না, শত্রæ ?
শুভ মিতুর কথায় গোল চোখে তাকায়।
মিতু হেসে বলে – ওভাবে না তাকিয়ে, সহজভাবে উত্তরটা দে। দেখি তুই কেমন ফিলোসোফার হয়েছিস ?
– মানে ?
না, সেদিন যে ভাবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিলি! তা থেকে বললাম।
– কী দিয়েছি ?
-বাহ্! তোর মনে নেই ? চিৎ হয়ে ঘুমালে যে স্বপ্ন দেখি, তা ভুল বার্তা পাঠায়। কারণ সেই সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে সামান্য ব্যাঘাত ঘটে। আর পাশ হয়ে শুলে যে স্বপ্ন দেখি তা প্রায়ই বাস্তব হয়। ভবিষ্যৎকে ধরতে পারে। কারণ তখন মাথা ভালোভাবে অক্সিজেন পায়, খুব দ্রুত বিভিন্ন বিষয়কে সাজিয়ে ফেলতে পারে।
– ওহ্, এই কথা ? ভুল তো বলি নাই। আর একে দর্শন বলছিস কেন ? এতো বিজ্ঞান ? যারা চিৎ হয়ে শোয়, তাদের ক্ষেত্রে বোবা ধরার ঘটনা বেশি ঘটে। এটাকে বেইস ধরে নিজের স্বপ্নকে বিশ্লেষণ করে দেখেছি। তারপর সিদ্ধান্তে এসেছি। তুই নিজেই পরীক্ষা করে দেখতে পারিস ?
– কীভাবে ?
– খুব সোজা। একটা মোটা খাতা নিবি। শোয়ার সময় মাথার পাশে রাখবি। দশ দিন চিৎ হয়ে শুবি। এরপর আর দশ দিন পাশ হয়ে শুবি। এইভাবে পর্যায়ক্রমে তিন মাস। স্বপ্নে যা কিছু দেখবি তা যত দ্রুত পারিস খাতায় লিখে ফেলবি। তিনমাস পর স্বপ্নগুলো নিয়ে ট্যালি করলে, মোটা দাগের কিছু সিদ্ধান্ত পেয়ে যাবি।
– স্বপ্ন পরীক্ষার এই ডিজাইন, ফ্রয়েড থেকে পেয়েছিস ?
– ফ্রয়েডের নাম শুনেছি। তবে পড়া হয়নি।
– তাহলে তো বেশ ভালোই সাজিয়েছিস! একেই বলে সৃজনশীলতা। তবে, তোর নমুনা একটি, তাও আবার নিজে ?
– স্বপ্নের ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ে পরীক্ষা করাই ভালো।
– ঠিক আছে। ফিলোসোফার নয়, সায়েন্টিস্ট!
– কী ব্যাপার ? তুই কী আমাকে খোঁচাচ্ছিস ? না, খেপাচ্ছিস ?
– আরে না। একটু গৌরচন্দ্রিকা করলাম। এবার তোকে যা জিজ্ঞেস করেছি, তা বল।
কী যেন জিজ্ঞেস করেছিস ? চমৎকার যে হতেই হবে, হুজুরের মতে অমত কার ? এই টাইপের লোকগুলো বন্ধু ? না, শত্রু ? এই তো প্রশ্ন ?
মিতু উপরে নিচে মাথা নাড়ে।
শুভ চিন্তাশীল ব্যক্তিত্বের মতন মাথা নেড়ে বলে – এই টাইপের লোকগুলো হচ্ছে তোষামুদে। তোষামোদীরা প্রায়ই মিথ্যা বলে। মিথ্যাবাদীরা কখনও বন্ধু হতে পারে না। তার মানে এই টাইপের লোকগুলো শত্রু।
– ঠিক বলেছিস। দারুণ যুক্তি! যুক্তিতে মুক্তি। আচ্ছা তুইকি তোষামোদী ?
-আমি কেন তোষামোদী হতে যাব ?
-তা তো জানি। তুই তো সত্যপ্রিয়। তোষামোদী নয়। কিন্তু গোল বাঁধিয়েছে অভিলাস।
– মানে ?
-অভিলাসকে এতোদিন আমার শত্রু মনে হতো। তোষামোদী ভাবতাম। এখন দেখছি তা না। সেও আমাকে তোর মতন যখন তখন বলে, তোকে সুন্দর দেখাচ্ছে। তোর মতন করেই তাকায়। শুধু তোর সাথে পার্থক্য, সে খুব সুন্দর করে বলে, আমি তোকে ভালোবাসি।
শুভ ভেবাচ্যাকা খেয়ে যায়। কী বলবে বুঝতে পারে না।
মিতু উঠে দাঁড়িয়েছে। সে সামনে পা বাড়িয়েছে।
শুভ মৃদু স্বরে বলে উঠে – কোথায় চললি ?
-ঝুপড়িতে। অভিলাস অপেক্ষা করে আছে।
আর তখনই শুভ মিতুর হাত ধরে বলে – আমি তোকে খুব ভালোবাসি।
মিতু হাত ছাড়িয়ে বলে – দেরি হয়ে গেছে।
সে চলছে ঝুপড়ির দিকে। পিছনে একবারও তাকালো না।