দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠছে প্রধানমন্ত্রীর আসা-যাওয়ার পথ

32

নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়কের দুই ধারে গাছের গোড়ায় লাগানো নানা রং-এর মিতালির ছন্দ দৃষ্টি কাড়ছে সবার। সড়কদ্বীপের গায়ে নতুন রং, এর বুকজুড়ে পুরনো গাছের ফাঁকে ফাঁকে হরেক ফুল গাছ। সপ্তাহের মধ্যে রং, ফুল, সবুজের সমারোহ আর বর্ণিল সাজে নগরীকে এক অনন্য রূপ দিতে সবটুকু আয়োজন শেষ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জনসভায় অংশ নিতে আসছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরেই চসিকের এসব আয়োজন। বিশেষ করে বিমানবন্দর সড়কের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বোট ক্লাব হয়ে বঙ্গবন্ধু টানেলের প্রবেশমুখ, মেরিনড্রাইভ সড়ক দিয়ে ক্যান্টেনমেন্টের সংযোগ সড়কে নিঁখুতভাবে করা হয়েছে সড়ক মেরামতের কাজ।
এছাড়া জনসভাস্থল পলোগ্রাউন্ড মাঠে যাওয়ার সবকটি সড়কের আশপাশের ঝোপঝাড় সরানো, গর্ত ভরাট ও নালায় স্ল্যাব বসানো হচ্ছে। জনসভার দিন সার্বক্ষণিক পানি সেবা দিতে পর্যাপ্ত খাবার পানির ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং ডাক্তার-এ্যাম্বুলেন্সসহ বেশ কয়েকটি টিম প্রস্তুত থাকবে বলে পূর্বদেশকে নিশ্চিত করেছেন সিটি মেয়রের একান্ত সচিত আবুল হাশেম।
সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ের পাশেই ব্যস্ত এলাকা টাইগারপাস মোড়। এক সময় ঘন বন ছিল পাহাড়বেষ্টিত এলাকায়। একদা সেখানে ছিল বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণী। বাঘ চলাচলের করিডোরও ছিল। সেই চিত্র এখন আর নেই। বর্তমানে সবুজ বৃক্ষে ভরা দৃষ্টিনন্দন পাহাড় কোনোভাবে টিকে থাকলেও অনেক আগেই হারিয়ে গেছে বাঘসহ বন্যপ্রাণী। নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বাঘ চলাচলের করিডোরও। তবে এলাকাটির নামের যথার্থতা তুলে ধরতে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে টাইগারপাস মোড়ে নির্মাণ করা হয় বাঘের তিনটি ভাস্কর্য, যা গোটা নগরীর নান্দনিকতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। কিন্তু অযত্নে বিবর্ণ হয়ে উঠেছিল ভাস্কর্যগুলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে শ্রীহীন হয়ে পড়া পাথুরে বাঘের গায়ে লাগছে শিল্পীর রং-তুলির আঁচড়। যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে সেগুলো। শুধু টাইগারপাস মোড় নয়; নতুন করে সাজছে বাণিজ্যিক রাজধানী। আলোকায়নেও দেয়া হয়েছে বেশ নজর। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চলাচলের পথগুলোতে ল্যাম্পপোস্টের গায়ের নতুন রং, বাতির আকৃতিকে নৌকায় রূপ দেওয়াতে সচেষ্ট সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে নগরীর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ফ্লাইওভার, এমএ মান্নান ফ্লাইওভারের মাঝখানের অংশটির ল্যাম্পপোস্টে নৌকার আকৃতিতে এলইডি বাতি লাগিয়ে আলো ঝলমলে করে তুলেছে চসিক। সড়কদ্বীপ ও ফুটপাত আরও রঙিন করে তোলা হচ্ছে।
জানা গেছে, টাইগারপাস মোড় হয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি। নির্বাচন সামনে রেখে এটিই আওয়ামী লীগের প্রথম জনসভা। এতে জাতীয় ও স্থানীয় নানা বিষয়ে গুরুত্বপ‚র্ণ সিদ্ধান্ত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
এ জনসভা ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের জাগরণ তৈরি হয়েছে। নগরীকে সাজিয়ে তুলতে চলছে নানা কর্মযজ্ঞ। চলছে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, প্ল্যাকার্ড লাগানোর প্রতিযোগিতা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আরও কিছুদিন বাকি থাকলেও আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিযোগিতা করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তোরণ, ব্যানার, পোস্টার লাগানো অব্যাহত রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক দিয়ে জনসভাস্থলে যাবেন, সেসব সড়ক ব্যানার, পোস্টারে ভরে গেছে। অনেকেই ভালো জায়গা দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই ব্যানার ও তোরণ লাগানোর জন্য গাছ-বাঁশের কাঠামো তৈরি করে রেখেছেন। এখন তুলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত বড় বড় ডিজিটাল ব্যানার। বিশেষ করে পলোগ্রাউন্ড মাঠে যাওয়ার পথে চোখে পড়বে এমন অসংখ্য কাঠামো। তবে টাইগারপাস মোড়ে বাঘের ভাস্কর্যের গা ঘেঁষে ব্যানার টানানোর জন্য বিশাল বাঁশের কাঠামো তৈরি করায় বাঘগুলো আড়াল হয়ে যাচ্ছে অনেকটাই।
এসব নিয়ে সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সমাবেশে আসতে জনসাধারণ ও কর্মীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়। তারই লক্ষ্যে সংযুক্ত সবকটি সড়কে মেরামত কাজ চালানো হচ্ছে। স্ল্যাববিহীন নালায় স্ল্যাব বসানো হচ্ছে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে সজীব রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া সমাবেশের দিন আগত সকলের জন্য পানির ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিতে আমাদের টিম প্রস্তুত থাকবে।