দু’সপ্তাহে ৮ হাতির মৃত্যু প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা জরুরি

6

রকৃতি মানবজাতির জন্য বিধাতার শ্রেষ্ঠ উপহার। আঠার হাজার সৃষ্টি তথা প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য মানুষের কল্যাণে সদা প্রস্তুত। মানবজাতির আহার-বিহার, আধুনিক বাসস্থান নির্মাণ সামগ্রী হতে সব কিছু প্রকৃতি লব্ধ। বিজ্ঞান প্রযুক্তির যত উৎকর্ষ হোক না কেন প্রযুক্তির কাঁচামাল প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত। প্রকৃতি ছাড়া প্রযুক্তি অসহায়। প্রকৃতির ভারসাম্যের উপর পৃথিবীর জলবায়ু, আবহাওয়া, রোদ-বৃৃষ্টি এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন নির্ভরশীল। বিজ্ঞান প্রযুক্তি দ্বারা বর্তমান বিশ্বের প্রকৃতি ভয়ানকভাবে আক্রান্ত। যার ফলে পরিবেশ বিপর্যস্ততায় বায়ুমÐলে সীসার পরিমাণ বেড়ে গেছে।
মানুষ প্রকৃতি ধ্বংস করে নগরায়ণের হুলিখেলায় মেতেছে বিশ্বময়। প্রকৃতি ধ্বংসের কারণে জীববৈচিত্র্য হচ্ছে ভয়ানক আক্রান্ত। ফলে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরা, জলোচ্ছ¡াস, সুনামি, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি বেড়ে গেছে, বেড়ে গেছে রোগ-শোক। মাটির তৈরী মানুষ মাটির উৎপাদান খেয়ে স্বাভাবিক জীবন ধারণ করলে পৃথিবী পরিণত হতো শান্তির নীড়ে। আধুনিক বিশ্বে যতই মানুষ কৃত্রিমতামুখী হচ্ছে ততই মানব জীবনে বিচিত্র সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাতালে ঝিঁঝিঁ হতে আকাশের আবাবিল পর্যন্ত সকল পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ মানুষের উপকার করে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রাখে। আধুনিক যুগে মানুষ চরম স্বার্থপর ও লোভে আর লাভে মত্ত হবার কারণে নির্বিচারে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। প্রযুক্তি নির্ভর হতে গিয়ে মানুষ নিজেরাই নানা সংকট তৈরি করছে। অথচ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে মানুষ যে ভাবে প্রকৃতির উপর চড়াও হচ্ছে তাতে সামগ্রীকভাবে পৃথিবী যে ক্রমে মানুষের বাস যোগ্যতা হারাচ্ছে তা স্বার্থপর মানুষ চিন্তাও করছে না। জীব-জন্তু, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ নির্ধিধায় মারছে তারা। সাপ, বিচ্চু, বাঘ, হাতিসহ সবধরণের জীবহত্যায় মানুষ দিধা করছে না। বনের পশু মানুষের কি উপকার করে তা মানুষ চিন্তা করছে না। দেশের জীববৈচত্র্যি সংরক্ষণের গবেষণায় যারা লিপ্ত রয়েছে তারা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন জীবজন্তু কি ভাবে মানুষের উপকার করে তা বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাধারণ মানুষ জানে না বন্যহাতি দেশ ও জনগণের কি উপকারে আসে তা। মানুষ বন উজাড় করেছে ব্যক্তি স্বার্থে। যার ফলে বন্যহাতি বনে তাদের বাঁচার মতো আহার পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বন্য হাতি লোকালয়ে নেমে আসছে। আর মানুষ বন্যহাতি নানা অপকৌশলে মেরে ফেলছে।
দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদন হতে জানা যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় সাত হাতিসহ দেশে ৮টি হাতির অপমৃত্যু হয়েছে ১৫ দিনে। হাতির একটি বাচ্চা প্রসব করতে চার বছর প্রয়োজন হয়। অথচ দেশে বছরে যত সংখ্যক হাতি মারা যাচ্ছে তাতে দেশ হাতিশূন্য হয়ে পড়বে এমন ধারণা বিশেষজ্ঞদের। দেশের বন্যহাতি দেশের কি উপকার করে তা জনগণের মধ্যে প্রচার করে হাতি সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। হাতির চলাফেরায় মানুষ বিঘœতা সৃষ্টি না করলে তারা শান্তই থাকে। দেশের বনে যখন তাদের জন্য পর্যাপ্ত আহার এবং বাসযোগ্য বন ছিল তখন বন্যহাতি লোকালয়ে আসতো না। অবিবেচক স্বার্থপর মানুষের কারণে আজ দেশের বনভূমি কমে গেছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশের জলবায়ু আবহাওয়া এবং ঋতুচক্রের উপর। শুধু হাতি নয় এদেশের বন হতে অসংখ্য বন্যপ্রাণী আজ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যার ফরে দেশের প্রকৃতির ভারসাম্য নেই। আমরা যাই করি না কেন, আমাদের পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে প্রগতি অর্জন মানব জাতির জন্য সুখর বিষয় হতে পারে না।
সরকারের পক্ষ থেকে দেশ ও জাতির স্বার্থে এদেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। বন্যহাতি রক্ষায় সরকারি উদ্যোগে বিশেষ বনাঞ্চল সৃষ্টি এবং সবধরনের প্রাণির নিরাপত্তায়ও পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। মানুষের ক্ষতি করে এমন প্রাণীদের যেন মানুষের কাছাকাছি আসতে না হয় সে ব্যবস্থা করলে দেশের প্রকৃতির পরিবেশের উন্নতির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে। বন্যহাতি হত্যার জন্য দেশে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত হাতি হত্যার কোন সুষ্ঠু বিচার হতে দেখা যায় নি। মানুষকে জানাতে হবে বন্যহাতি কিংবা বন্য যে কোন পশুপাখি, কীট-পতঙ্গ হত্যা দেশ ও প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। তার পাশাপাশি বন্য হাতি যে সকল জনগণের ক্ষতি করছে তাদের সরকারি ভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। বাস্তবে সরকার বন্যহাতি কর্তৃক কোন মানুষের ক্ষতি হতে দেখলে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে দেখলে মানুষ হাতির উপর চাড়াও হবে না। দেশে বন্যহাতি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারের আন্তরিক কর্যকর ব্যবস্থা বিভিন্ন প্রকারের পশু-পাখির বংশধরদের সংরক্ষণ করবে এমন অভিমত প্রকৃতি বিশেষজ্ঞদের।