দুই সেতুতে লাঘব হলো ৫১ বছরের দুর্ভোগ

23

মো. শাফায়েত হোসেন, বান্দরবান

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার হরিণখাইয়া, বাঁকখালী, ছাগলখাইয়া এলাকাগুলো দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত। দুটি সেতুর অভাবে স্বাধীনতার পর থেকে এ এলাকার মানুষ অন্য একটি উপজেলা হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে আসছেন। এ যাবত ছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। স্বাধীনতার ৫১ বছর পর এই দুর্গম এলাকার মানুষের স্বপ্ন পূরণ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর। সম্প্রতি দুটি সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্নের ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বাইশারী ও দোছড়ি ইউনিয়নের মানুষ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে নেমে আসা বাঁকখালী নদীর উপর ১২৮ মিটার ও ছাগলখাইয়ায় ৬৪ মিটার দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজ এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। তারপরও স্থানীয়দের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেতু দুটি ব্যবহার করতে দেয়া হয়েছে। সেতু দুটি নির্মাণের ফলে এই অঞ্চলের প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর গ্রীষ্ম মৌসুমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হত স্থানীয়দের। বর্তমানে সেতু নির্মিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নসহ কৃষি পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং বর্ষা মৌসুমে যাতায়াত সহজতর হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবারে বেড়েছে অর্থনৈতিক সক্ষমতা। জমির দামও বেড়েছে। এছাড়া আগে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য পরিবহনে খরচ পড়ত অনেক বেশি। তাই লাভ কম হত। কৃষকদের উৎপাদিত পেঁপে, কলা, রাবারসহ বিভিন্ন শাকসবজি কাঁচামাল বাজারজাত করার আগেই নষ্ট হয়ে যেত। রোগী হাসপাতালে নিয়ে যেতেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হত। স্থানীয়দের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, বাইশারী ও কক্সবাজার আসতে হলে ঘুরতে হত দীর্ঘ পথ। বাঁকখালী নদী ও ছাগলখাইয়ায় দুটি সেতু নির্মাণের ফলে দূরুত্ব কমে যাওয়ায় যোগাযোগও অনেক সহজ হয়েছে।
দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান বলেন, সেতু হওয়াতে বাঁকখালী ও দোছড়ি দুটি মৌজার মানুষের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। বাড়বে নাগরিক সুবিধা। বাঁকখালী ব্রিজের শেষ অংশে রাস্তার বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম জানান, একসময় এখানকার মানুষের উপজেলা সদরে যেতে কয়েকদিন আগে প্রস্তুতি নিতে হতো। বাজারে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। কিন্তু এখন মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি নিয়ে সেতু পার হয়ে গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে। অবহেলিত জনপদ ও দুর্গম এলাকায় এ উন্নয়নের মহাযজ্ঞের কারণে এরইমধ্যে জমিজমার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। পাল্টে যাচ্ছে এলাকার চেহারা। সেতু দুটি চালু হওয়ার মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষ দ্রæত সড়ক যোগাযোগ সুবিধা পাবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, ২০২০ অর্থবছরে বাইশারী-দোছড়ি সড়কে বাঁকখালী নদীর উপর ৬ কোটি ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৮২৮ টাকা ব্যায়ে ১২৮ মিটার এবং ছাগলখাইয়া এলাকায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ টাকায় ৬৪ মিটার দুটি সেতুর টেন্ডার আহবান করা হয়। বর্তমানে কাজ শেষে সেতুগুলো উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম মজুমদার বলেন, বাইশারী-দোছড়ি সড়কে ১০ কোটি টাকায় দুটি ব্রিজের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। ব্রীজ গুলো নির্মিত হওয়ায় বাইশারী, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হয়ে কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়েছে। এরফলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে এখাকার মানুষের।