দুই ভাই দুই দলের মেয়র হতে চান

56

আবুল কালাম আবু ও শফিউল আলম। দুই আপন সহোদর। তফসিল ঘোষণা হওয়া বোয়ালখালী পৌরসভা নির্বাচনে দুই ভাই দুই দল থেকে মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী। বড় ভাই আবুল কালাম বিএনপি থেকে ও ছোট ভাই শফিউল আলম আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে চান। দলের মনোনয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই দুই নেতাই দুই দলের পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন। তবে একই পরিবারের দুই ভাই দুই দলের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ তৃণমূল আওয়ামী লীগ। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পরেও একই পরিবারে দুই ভাই মনোনয়ন চাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অপরাপর প্রার্থীরা।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আগামী ১১ এপ্রিল বোয়ালখালী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ১৮ মার্চ, মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৯ মার্চ। মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৪ মার্চ।
সর্বশেষ এ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ২১ মে। নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আবু জয়ী হন। নির্বাচনের পর ওই বছর ১৬ জুন শপথ নেন বিজয়ীরা। প্রথম সভার হিসেবে ২০১৯ সালের ১৯ জুন এ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয়।
বর্তমান পৌর মেয়র আবুল কালাম আবু সেখানে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা নির্ভর করছে দলীয় সিদ্ধান্তের উপর। তবে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদের পছন্দ-অপছন্দের উপরই মনোনয়ন কে পাচ্ছেন তা অনেকটা নির্ভর করছে বলে গুঞ্জন সর্বত্র। নির্বাচনকে ঘিরে আজ বিকাল ৪টায় উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ সভাতেই দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে জোরালো আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষে এবার নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন সহ-সভাপতি মনছুর আলম পাপ্পী, রেজাউল করিম বাবুল, মো. শফিউল আলম, কধুরখীল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এম.এ ঈছা, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ওয়াসিম মুরাদ প্রমুখ।
বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আবু পূর্বদেশকে বলেন, আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। দল মনোনয়ন না দিলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো। আমার এক ভাই নির্বাচন করবে বলে শুনেছি। অসুবিধা নেই। আগেও আমাদের আরো দুই ভাই ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিল। আমার ভাই আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন করলে তো আর যুদ্ধ করতে পারবো না। আগের মতো অনিয়মের ভোট হলে তো নির্বাচন করার দরকার নেই। আমি জনগণের অন্তরে থেকেই নির্বাচন করবো।
বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সম্ভাব্য প্রার্থী মনছুর আলম পাপ্পী পূর্বদেশকে বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু করে এ পর্যন্ত দলের জন্য অনেক কাজ করেছি। আমি ছোট বেলায় জহুর আহমেদ চৌধুরীর বাড়ি থেকেই বেড়ে উঠেছি। বোয়ালখালীর রাজনীতিতে আমার জীবন-যৌবন বিকিয়ে দিয়েছি। যা অনেক সিনিয়র নেতা অবগত আছেন। হঠাৎ করে কোন একটি পক্ষ এক ঘরে মেয়র পদটি রাখার জন্য পাঁয়তারা করলে তো হবে না। আমার এমন বিশ্বাস আছে নেত্রী দুঃসময়ের নেতাদের বিষয়ে অবগত আছেন। আশা করি প্রকৃত মাঠের কর্মী হিসেবে আমাকেই বিবেচনা করবেন।
বোয়ালখালী আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সম্ভাব্য প্রার্থী রেজাউল করিম বাবুল পূর্বদেশকে বলেন, পৌরসভায় অবশ্যই নির্বাচন করবো। মনোনয়ন পেতে দলের কাছে আবেদন করবো। ছাত্রজীবন থেকে একদিনের জন্যেও রাজনীতির মাঠ ছাড়ি নাই। অথচ এখন এক ঘরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত সবই আছে। আবার সেখান থেকেই অনেকেই মনোনয়ন পেতে চাইছে। ২০০৯ সালে রাজনীতিতে এসে কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন চাইছে। আমরা যে এতদিন রাজনীতির মাঠে কষ্ট করেছি, জেল খেটেছি, বিএনপির নির্যাতনের শিকার হয়েছি তাতো এখন মূল্যহীন।
বোয়ালখালী আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সম্ভাব্য প্রার্থী মো. শফিউল আলম পূর্বদেশকে বলেন, আমি নির্বাচন করবো-এটা ঠিক। ইনশাল্লাহ, দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে। আমার ভাই এবার নির্বাচন করবে না। যে কারণে কোন সমস্যা হবে না।
এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার দীর্ঘ ২১ মাস পর বোয়ালখালী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার খবরে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। মেয়র ও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একঝাঁক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মুখিয়ে আছেন। দলের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়ে আপাতত অনেকেই নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করলেও পরে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও কেউ কেউ নির্বাচন করার আভাস দিচ্ছেন। ভোটের মাঠ নিস্প্রাণ হলেও এ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যেও উৎসাহ আছে। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় কে হচ্ছেন আগামীর পৌর মেয়র তা নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
পৌরসভার ভোটার ও বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম পূর্বদেশকে বলেন, আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির যে প্রার্থীই জয়ী হোক আমরা চাই নিয়মিত পৌর মেয়র। এতদিন মামলা-মোকদ্দমা করে পৌরসভা নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন নির্বাচন হচ্ছে জেনে ভালো লাগছে। ভোটের মাঠে নেতৃত্বের প্রতিদ্ব›িদ্বতা থাকাটাই স্বাভাবিক।