দুই ক্যাচ মিসে হতাশার হার বাংলাদেশের

18

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বোলারদের উপর যখন চড়াও হয়ে খেলছিলেন লংকান ব্যাটাররা, সেই সময়েই দুটি ক্যাচ ছাড়েন লিটন দাস। সেই দুজনের ব্যাটিংয়ের কাছেই হেরে যায় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ১৪ রানে জীবন পান রাজাপাকসে। তিনি থামেন হাফসেঞ্চুরি করে। ১৫তম ওভারে আসালাঙ্কা জীবন পান ৬৩ রানে। তিনি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন অপরাজিত থেকে।
আবার ম্যাচের ১৩ ওভার চলমান, শ্রীলঙ্কা ৯০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে, ওইসময় সাকিবের দুই ওভার, মুস্তাফিজের তিন ওভার বাকি থাকতে আফিফ হোসেনের মতো পার্টটাইমারের হাতে বল এবং রিয়াদ নিজে দু’ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ম্যাচের ‘মোমেন্টাম’ শ্রীলঙ্কার হাতে তুলে দিয়ে ভুলের খেসারত দিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে হারেই বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ অভিযান শুরু বাংলাদেশের
গতকাল শারজায় আগে ব্যাট করে নাইম শেখ ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে ১৭১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করেছিল টাইগাররা। লক্ষ্য তাড়ায় পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলংকা।
১৭২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে বাংলাদেশের শুরুটাও হয়েছিল প্রত্যাশা মতো। শ্রীলংকার ইনিংসের চতুর্থ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে কুশল পেরেরার (১) স্ট্যাম্প ভাঙেন নাসুম। কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে ৪৫ বলে ৬৯ রানের ঝড়ো জুটিতে শুরুর সেই ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নেন পাথুম নিশাঙ্কা আর চারিথ আসালাঙ্কা। চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে নবম ওভারে জোড়া আঘাতে টাইগারদের ম্যাচে ফেরান সাকিব আল হাসান। প্রথম বলে সাকিব বোল্ড করেন পাথুম নিশাঙ্কাকে (২১ বলে ২৪), চতুর্থ বলে ঘূর্ণিজাদুতে শিকার আভিষ্কা ফার্নান্ডো (০)। লঙ্কানদের সেই বিপদের মধ্যেই পরের ওভারে আঘাত মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। ১০.৪ ওভারে ডানহাতি এই পেসারকে তুলে মারতে গিয়ে নাইমকে ক্যাচ দেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (৬)।
কিন্তু পঞ্চম উইকেট জুটিতে ভানুকা রাজাপাকশেকে সঙ্গে নিয়ে চারিথ ৮৬ রানের জুটি গড়লে জয়ের বন্দরেই পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। তবে এর মধ্যে এই দু’জনকে আউট করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১২.৪ ওভারে আফিফের বলে রাজাপাকশের ক্যাচ ফেলে দেন লিটন। ক্যাচ মিস হওয়ায় সেটি আবার চারও হয়ে যায়! ১৪.৩তম ওভারে আবারও একট ভুল করেন তিনি। লিটন এবার ক্যাচ ফেলে দেন আসালাঙ্কার! আর তাতেই যেন নির্ধারিত হয়ে যায় ম্যাচের গতিপথ। তবে ১৮.২ ওভারে ভানুকা রাজাপাকশেকে বোল্ড করেছেন নাসুম। কিন্তু ততক্ষণে জয় থেকে ৭ রান দূরে লঙ্কানরা। যাওয়ার আগে ভানুকা খেলেন ৩১ বলে ৫৩ রানের ইনিংস। ১৮.৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে।
চারিথ আসালাঙ্কা ৪৯ বলে অপরাজিত থাকেন ৮০ রানে। ম্যাচসেরাও হন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে নাসুম ২৯ রানে দুইটি, সাকিব আল হাসান ১৭ রানে দুটি এবং সাইফউদ্দিন ১টি উইকেট নেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওপেনার নাইম শেখ ও লিটন দাসের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ, কিন্তু ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ৪০ রানের মাথায় লাহিরু কুমারার বলে মিড অনে ক্যাচ দিয়ে ১৬ রানে ফিরেন লিটন দাস।
লিটনের আউটের পর চারিথ আসালাঙ্কাকে এক ওভারে দুটি বাউন্ডারি মেরে দুর্দান্ত শুরুই করেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। । তবে শুরুটা আগের দিনের মতো হয়নি গতকাল। পরের ওভারেই চামিকা করুনারতেœর বলের লেংথ না বুঝতে পেরে বোল্ড হয়ে ৭ বলে ১০ করে ফিরে যান সাকিব।
সাকিব-লিটন ফিরে গেলে নাইম-মুশফিক মিলে যোগ করেন ৭৩ রান। নাইম তুলে নেন চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ও সবমিলিয়ে চতুর্থ ফিফটি । হাফসেঞ্চুরি করার পর যখন তার ব্যাট আরও ধারালো, আরও শানিত হওয়ার কথা ছিল, তখন খুব বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। ১৭তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর প্রথম বলে দলীয় ১২৯ রানের মাথায় নাইম সাজঘরে ফিরে যান ৬২ রানের মাথায়।
এরপর ইনিংসে রানের চাকা সচল রাখেন মুশফিক। লঙ্কান বোলারদের বেদম পিটিয়ে দীর্ঘ ২৩ মাস পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩২ বলে ফিফটি তুলে নেন এ ডানহাতি ব্যাটার। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশফিকের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। তিনি শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৭ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ের মারে ৫৭ রান করে।
অন্যদিকে আফিফ হোসেন ৬ বলে ৭ ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ করেন ৫ বলে ১০ রান। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে একটি করে উইকেট নেন চামিকা করুনারত্নে, বিনুরা ফার্নান্দো ও লাহিরু কুমারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৭১/৪ (নাঈম ৬২, লিটন ১৬, সাকিব ১০, মুশফিক ৫৭*, আফিফ ৭, মাহমুদউল্লাহ ১০*; করুনারত্নে ৩-০-১২-১, বিনুরা ৩-০-২৭-১, চামিরা ৪-০-৪১-০, কুমারা ৪-০-৩১-১, আসালাঙ্কা ১-০-১৪-০, হাসারাঙ্গা ৩-০-২৯-০, শানাকা ২-০-১৪-০)।
শ্রীলঙ্কা : ১৮.৫ ওভারে ১৭২/৫ (পেরেরা ১, নিসানকা ২৪, আসালাঙ্কা ৮০*, আভিশকা ০, হাসারাঙ্গা ৬, রাজাপাকসা ৫৩, শানাকা ১*; নাসুম ২.৫-০-২৯-২, মেহেদি ৪-০-৩০-০, সাইফ ৩-০-৩৮-১, সাকিব ৩-০-১৭-২, মুস্তাফিজ ৩-০-২২-০, মাহমুদউল­াহ ২-০-২১-০, আফিফ ১-০-১৫-০)। আজকের খেলা -আফগানিস্তান-স্কটল্যান্ড (রাত ৮টা)