স্যুপের মধ্যে তেলাপোকা!

দামি রেস্টুরেন্টে কী খাচ্ছি

এম এ হোসাইন

77

নামী রেস্টূরেন্টে বেশি দামে মুখরোচক খাবার খাচ্ছি। একবারও কি সেই রেস্টূরেন্টের রান্না ঘর দেখার চেষ্টা করেছি? কতটা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না হয় সেটা জানলে হয়তো দামি খাবারগুলো মুখেই তুলবেন না। নামী এসব রেস্টূরেন্টগুলো খাবারের মানের দিকে যেন কোনো নজরই দেয় না। বাইরে চাকচিক্যতা থাকলেও অনেক দামি রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরের পরিবেশ মানসম্মত নয়।
নামী রেস্টূরেন্ট মানেই দামি সোফা, চেয়ার-টেবিল, খাবার প্লেট এর বাইরে আলোকায়ন। পরিবেশটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে থাকাটাও জরুরি। খাবার খাওয়ার জন্য এসব রেস্টূরেন্টে গেলেও সেখানে খাবারের মান রক্ষা করার যেন কোনো গরজ নেই। খাবারের ব্যবহারযোগ্য নয়- এমন উপকরণ যেমন এসব রেস্টুরেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে, তেমনি খাবারের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের পোকা-মাকড়ও।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর ওয়াসা মোড়ের জোক রেস্টুরেন্টের স্যুপের মধ্যে তেলাপোকার অস্থিত্ব পান জনৈক ভোক্তা। বিষয়টি নিয়ে ভোক্তা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম অফিসে অভিযোগ করেন ভোক্তা। গতকাল শুক্রবার জোক রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরে (কিচেন রুম) তেলাপোকা, খোলা ডাস্টবিন, ফ্রিজে কাঁচা ও ম্যারিনেট করা মাছ-মাংস একসাথে রাখা, গোলাপজলের ব্যবহারসহ বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর পৃথক দুটি ধারায় যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে জনৈক ভোক্তা স্যুপের মধ্যে তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগ করেন ক্যাবের কাছে। শুক্রবার ক্যাব সভাপতিসহ আমরা জোক রেস্টুরেন্টে অভিযান চালাই। জোক রেস্টুরেন্টের কিচেন রুমে তেলাপোকা পাওয়া যায়। সেখানে খোলা ডাস্টবিন ছিলো। ফ্রিজের মধ্যে মাছ-মাংস এবং ম্যারিনেট করা মাংস একসাথে ছিলো। তারা খাবারে গোলাপজল ব্যবহার করেছে। তাছাড়াও আরো কিছু অনিয়ম পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে পৃথক দুটি ধারায় মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নামি-দামি রেস্টুরেন্টের খাবারের মধ্যে পোকামাড়কসহ নানা অপদ্রব্য পাওয়ার বিষয় নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্থা এসব রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানাও আদায় করেছে। অভিযানকারী সংস্থা জরিমানা আদায় করলেও পরবর্তিতে রেস্টুরেন্টের খাবার মানের বা পরিবেশের পরিবর্তন কেউ তদারকি করে না। তেমনি ভোক্তাও পরিবেশের দিকটা গুরুত্ব দেয় না। ফলে বেশি দাম দিয়েও অনেক সময় খারাপ খাবার খেয়ে প্রতারিত হচ্ছে ভোক্তা।
এ বিষয়ে কথা হলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, নামিদামি রেস্টুরেন্ট মানেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, আলো আধারী লাইটিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোক্তা বেশি দামে ভালো খাবারের আশায় দামি রেস্টুরেন্টে যাচ্ছে। সুন্দর পরিবেশে মান সম্পন্ন খাবার খাওয়ার আশায় গেলেও কিছু রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরের পরিবেশ এতোই অপরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার করা উপকরণগুলোর বিষয়ে জানলে ভোক্তা সেখানে যাবেই না। বাইরের পরিবেশটা সুন্দর হলেও তাদের ভিতরে পরিবেশটা নোংরা। এটা এক ধরনের ভোক্তার সাথে প্রতারণা। দামি রেস্টুরেন্টের অবস্থা যদি এমন হয়, ভোক্তা যাবে কোথায়?
তিনি বলেন, জোক রেস্টুরেন্টে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বেশ কিছু অপরাধ সনাক্ত করে। একজন ভোক্তার একটি অভিযোগ আমলে নিয়ে রেস্টুরেন্টটিতে অভিযান পরিচালনা হলেও সেখানে অভিযানকারী দল অনেক অপরাধ পেয়েছে। রেস্টুরেন্টটিকে জরিমানা করা হয়েছে। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ উন্নত করবে বলে কথা দিয়েছে।
এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ্ ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান গতকাল নগরীর বাকলিয়া, চান্দগাও ও পাঁচলাইশ এলাকায় তদারকি মূলক অভিযান চালিয়ে মোট ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করে। চাক্তাই আলুর বাজার পরিদর্শনে বাবু অ্যান্ড সন্সকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৫ হাজার টাকা, চান্দগাঁও মোহরা বাজারে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় বিসমিল্লাহ বাণিজ্যালয়কে ৫ হাজার, নূরে মদিনা স্টোরকে ৫ হাজার এবং আলমের দোকানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করা হয়। ব্যবসায়ীবৃন্দকে নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে রশিদ সংরক্ষণ করতে অনুরোধ করা হয়।