দগ্ধ ৫ রোহিঙ্গা শিশুর মধ্যে কেউ আর বেঁচে নেই

7

নিজস্ব প্রতিবেদক

নোয়াখালীর ভাসানচরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ রুশমিনা (৩) নামে আরও এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ পাঁচ শিশুর মধ্যে কেউ আর বেঁচে রইল না। গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। সে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারের আবদুস শুক্কুরের মেয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।জানা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮১ নম্বর ক্লাস্টারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৫ শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়। আহতদের প্রথমে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওইদিনই ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে আনার পথে রাসেল নামে আড়াই বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোবাশ্বেরা (৪) ও রবি আলম (৫) এবং ২৮ ফেব্রæয়ারি সকালে সোহেল নামে সাড়ে ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ শিশু রুশমিনা বুধাবার রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি দিল। দগ্ধ আরও দুইজন চমেক হাসপতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তারা হলেন- জোবায়দা (২২) ও আমেনা খাতুন (২৪)। এদের মধ্যে আমেনা খাতুনের শরীরের ৮ শতাংশ ও জোবায়দার ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জনান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ রুশমিনাও মারা গেছে। ফলে অগ্নিদগ্ধ ৫ শিশুর সবাই একে একে মারা গেলেন। শিশু রুশমিনার শ্বাসনালি ও শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। দুর্ঘটনায় আহত মোট ৭ জনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান পূর্বদেশকে বলেন, ভাসানচরে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রুশমিনা নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে অগ্নিদগ্ধ ৫ শিশুই মারা গেছে। এদের প্রত্যেকের শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। বর্তমানে হাসপাতালে দুই রোহিঙ্গা নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে আমেনা খাতুনের শরীরের ৮ শতাংশ ও জোবায়দার শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।