দখলের প্রমাণ দিলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন মেয়র মুজিব

8

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোনাফ সিকদারকে গুলি করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।
শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের রাস্তার মাথায় সমর্থকদের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যে ছেলেটা গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তাকে একজন শিখিয়ে দিয়ে বলতেছে, বল; মেয়র মুজিবের নির্দেশে তোমাকে গুলি করা হয়েছে। সে শেখানো কথা বলেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি এ সমাবেশে বলতেছি, কারও যদি জায়গা বা একটা হোটেলও দখল করে থাকি প্রমাণ দেন, রাজনীতি ছেড়ে দেব, এ শহর থেকে চলে যাব।’
মেয়র মুজিব বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয় নেতা ওবায়দুল কাদের আমাকে বলেছেন, আপনার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অনেক দরখাস্ত, অভিযোগ দিয়েছে। আমি বলেছি, যারা অভিযোগ করেছে, একটা হোটেল দখলের অভিযোগ প্রমাণ দিতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। তবে দলের জন্য শেখ হাসিনার মুখ উজ্জ্বলের জন্য কাজ করবো।’
তিনি আরও বলেন, আমি ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্রকারীদের তালিকা সংগ্রহ করেছি। আমি কক্সবাজারের কিছু উন্নয়ন বিষয়ক কাজ নিয়ে ঢাকায় ছিলাম। এই মাত্র বিমানবন্দরে নামলাম। আপনারা আমাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেছেন। কেন করেছেন আমি জানি না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আজকে বৈঠকে বসবো ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করবো কিনা তা নিয়ে। কী করণীয়, সেখানে সিদ্ধান্ত নেব।’
কক্সবাজারের রাজনীতিতে নানা কারণে সারা বছরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন মুজিবুর রহমান।
গত বুধবার রাত ৯টার দিকে শহরের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় শুঁটকি মার্কেটের সামনে দুর্বৃত্তরা গুলি করে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোনাফ সিকদারকে (৩২) হত্যার চেষ্টা করে।
মোনাফ সিকদার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জ্ঞান হারানোর আগে একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, ‘কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তাকে গুলি করা হয়েছে।’
তার জবানবন্দির একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ জয়। ভিডিওটি মুহূর্তেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
জবানবন্দিতে মোনাফ সিকদার বলেন, ‘আমাকে কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের নির্দেশে গুলি করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা গুলি করার সময় আমাকে বলছে, মুজিব চেয়ারম্যানের সঙ্গে লাগছো? এ বলে পেছন থেকে গুলি করে তারা পালিয়ে যায়।’
গুলিবিদ্ধ মোনাফ সিকদার বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তার পরিবার জানিয়েছে, মোনাফ এখনো শঙ্কামুক্ত নন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৯টায় দিকে শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় প্রধান সড়কের পাশের একটি শুঁটকি মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন মোনাফ সিকদার। এ সময় বাইক থেকে নেমে একজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে ও মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে মোনাফের পিঠে গুলি করে পালিয়ে যায়। পিঠে লাগা গুলিটি তার সামনের তলপেট ছেদ করে বের হয়ে তারেক নামের এক পথচারীর পায়ে লাগে।
কক্সবাজার মডেল থানার ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোনাফকে যারা গুলি করেছে সেসব দুর্বৃত্তকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ তবে ঘটনার দুইদিন পার হয়ে গেলেও এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।