দখলমুক্ত হল লালদিয়ার চর ভূমির ব্যবহার ও সংরক্ষণ বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকতে হবে

24

ভুমিহীন হতদরিদ্র গরিব প্রায় সকলেই। ভিক্ষা, দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক, নায়ের মাঝি কিংবা ছোটছাট কোন ব্যবসা করেই মাটির ব্যাংকে খুচরা টাকা জমিয়ে পরিত্যাক্ত লালদিযার চরে কুড়েঘর, আধাপাকা টিনের ঘর নির্মাণ করে মাথা গুজেছিলেন ২৩শ পরিবারের প্রায় দশ হাজারের অধিক হতদরিদ্র মানুষ। জায়গাটা বন্দর কর্তৃপক্ষের। দীর্ঘ ২ যুগেরও অধিক সময় ধরে এ জায়গাটি বেদখলে চলে গেলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ অদৃম্য কারণে তাতে নহর দেয়নি। সংবাদপত্রে এ নিয়ে কম লেখালেখিও হয়নি। সর্বশেষ হাইকোর্টের আদেশে চট্টগ্রাম বন্দর অনেকটা বাধ্য হয়ে এ জায়গায় যারা এতোদিন শ্রান্ত নিবাস গড়ে দিনগুজর করেছেন তাদের উচ্ছেদ করতে। তবে আশার কথা বন্দর কর্তৃপক্ষ বা জেলা প্রশাসনকে এ উচ্ছেদে বুডোজার দাগাতে হয়নি। প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে হতদরিদ্র আশ্রিত মানুষগুলো বুঝাপড়া করেই নিজের ঘামে গড়া ঘর নিজেই ভেঙ্গে ানিশ্চিত গন্তব্যে যাত্রা করেছেন প্রায় সকলেই। কি আশ্চার্য! এ যেন রুদ্ধ বিবেকে আরো একবার কুটারাঘাত। এখানে যদি রাঘব-বোয়ালদের অট্টালিকা থাকত হয়ত কামান নয় আরো বড় পরিণতি ভোগ করেই চরের মালিককে দখলে যেতে হত। দেশের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে হতদরিদ্রদের এমন মানবিক ও ঔদার্যসুলভ দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে ভেসে আসে। ব্যাংক ঋণ দেখুন, গরিব কৃষক কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা ঋণ নিলেই নিয়মিত কিস্তি ও শোধ আদায় করে পরিশোধ করেন। তাদের কেউ খেলাপি হয়েছেন-এমন দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে না। করোনাকালে নিজের ভিক্ষের অর্থ অনাহারে অর্ধহারে থাকা মানুষগুলোকে বিলিয়ে দিয়েছেন-এ গরিব মানুষগুলো। লালদিয়ার চর বন্দরকে বিনা বাক্যে অথচ নিরব কান্নায় ছেড়ে দিলেন ২৩শ পরিবার! তারা কোথায় ঠাঁই নেবেন, শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের কি হবে, এসব কেউ কি ভাবছেন। সংবাদপত্র দেশের স্বার্থে যেকোন সরকারি জায়গা বেদখলে গেলে তা নিয়ে লিখবে, প্রতিবেদন ছাপাবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, হাজারো অসহায় মানুষগুলো দীর্ঘদিন যারা এখানে নীড় গড়েছেন, স্বপ্ন দেখেছেন তারা কোথায় যাবেন, তাদের জন্য ন্যূনতম পুর্নবাসনরে ব্যবস্থা নয়ো যতে যদি বন্দর র্কতৃপক্ষ ইচ্ছে করতনে। কারণ আমরা জানি এ নগরে বন্দর কর্তৃপক্ষের জায়গার অভাব নেই, নেই অর্থ অভাব। মানবিক বিবেচনায় এমনটি উদ্যোগ নেয়া হলে সমরকারও সহযোগিতা করত বলে আমাদের ধারণা। এরপরও আমরা সেইসব হতভাগা মানুষগুলোর জন্য শুভকামনা করছি। তবে এ মূহুর্তে নতুন যে আশঙ্কা নগরবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে, তা হলো দকলমুক্ত হওয়া লালদিয়ার চর সর্বশেষ বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে তো?
নাকি রাঘব-বোয়ালদের পেটে যাবে? এমন সব প্রশ্নের উত্তরে বন্দর কর্তৃপক্ষ এককথায় বলেছেন, এ জায়গা বাইরের কাউকে লিজ দেয়া হবে না। এ জায়গায় বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের স্বার্থে সময়ের প্রয়োজনে কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করবে। আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষের এ জবাবে আশ্বস্ত হয়েছি। আশা করি তারা তাদের কথা রাখবে। আমরা জানি শুধু লালদিয়ার চরের ৫২ একর জায়গা নয়, কর্ণফুলরি দুই পারে আরো কয়েকশত একর জায়গা আছে যা ভুমিদস্যুদের দখলে।এ সব জায়গায় বড় বড় দালানও রয়েছে। নগরবাসী অপেক্ষা করছেন এসব জায়গা প্রকৃতই বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দখলে নিয়ে বন্দরের উন্নয়ন ও দেশের অর্থনীতির গতিপ্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেবে।