দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য চট্টগ্রাম হাইটেক পার্ক হবে

10

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক এমপি বলেছেন, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার চট্টগ্রামবাসীর জন্য প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য উপহার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের মস্তিষ্ক প্রসূত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে বেকারত্ব দূর হবে, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে। একই সাথে তথ্য-প্রযুক্তিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। এ সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান অর্জন করে তরুণ উদ্যোক্তারা আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে যেন ব্যাপক পরিসরে কাজ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে একই জায়গায় একটি হাইটেক পার্ক স্থাপন কাজ শুরু হবে।
তিনি গতকাল কালুরঘাটে বিএফআইডিসি রোড সংলগ্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এক দশমিক ৭১ একর জায়গায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রতিযোগিতা মোকাবেলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি, রোপোটিক্স, সাইবার সিকিউবিটিসহ উচ্চতর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। একই সাথে সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটের ঊর্ধমুখি সম্প্রসারণ করে একটি সফটওয়ার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণকাজ সমাপ্তির পথে। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হওয়ার পর বন্দর নগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম আইটি বিজনেস হাব হিসেবে গড়ে উঠবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেন, প্রতিযোগিতার এ যুগে আমাদের তরুণদের টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। সরকার এজন্যই একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। আমাদের রপ্তানি খাতেও ডিজিটাল ডিভাইস অবদান রাখতে পারে। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণ-তরুণীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন। প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তাদের চাকরি খুঁজতে হবে না। তারাই মানুষকে চাকরি দিবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রামে এতদিন গতানুগতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ জনশক্তি ও নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করে আইটি ইন্ডাস্ট্রিতেও চট্টগ্রামবাসীর অবদান রাখার ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো। এ ট্রেনিং সেন্টারের মাধ্যমে আইটি খাতে চট্টগ্রামের যুব সমাজের আত্ম-কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে আইসিটি বিভাগ থেকে বেশকিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম দেশের সেরা ডিজিটাল সিটি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তিনি আরো বলেন, চান্দগাঁও অবহেলিত ছিলো। এখানে বিএনপি’র একজন শীর্ষ নেতা মন্ত্রী-এমপি থাকলেও নিজে মোবাইল কোম্পানি করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। এটা তার মনোপলি ব্যবসা। এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোবাইলকে সবার জন্য সহজলভ্য করেছেন।
অনুষ্ঠানে শেষে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয় এবং চট্টগ্রাম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে চারটি প্রতিষ্ঠানকে স্পেস বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়। আইসিটি বিভাগের অপর একটি প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে প্রায় ২০০০ বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ৫৭০ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে যাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে তাদের বাছাই করে ১২ জনকে ল্যাপটপ প্রদান করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক। এ সময় বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ব্যবহার উপযোগী একটি ই-লার্নিং প্লাটফর্ম, জব পোর্টাল ও ডাটা বেইস উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানান তিনি।
ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. মোস্তফা কামাল, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) জামসেদ খন্দকার এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি