তোপের মুখে মাশরাফি

120

বার্মিংহ্যামে বাংলাদেশের মরণ-বাঁচন ম্যাচে হেরে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ। সেই হারের পিছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বার বার উঠে আসছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির নাম।
এই ম্যাচে প্রথম ওভারেই বল করতে এসে ১০ রান দেন তিনি। ডিপ স্কোয়ার লেগে রোহিতের সপাটে করা পুল বুঝিয়ে দেয় মাশরাফির পক্ষে রোহিতকে আটকানো মুশকিল। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজেকে সরিয়ে সাইফুদ্দিনকে নিয়ে আসেন। কিন্তু তিনিও চার ওভারে ২৫ রান দিলে আবার বল করতে ফিরে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এসেই আবার দিয়ে দেন ১০ রান। তার করা ৫ ওভারে ভারত নেয় ৩৬ রান। দলে বোলার হিসেবে থাকা মাশরাফি পুরো ১০ ওভার বল করার মতো সাহস দেখাতেও ব্যর্থ। রুবেল এবং মুস্তাফিজুরের মতো বোলার দলে থাকতেও তাদের ঠিক মতো ব্যবহারই করতে পারলেন না তিনি।
এই বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচ খেলে একটি মাত্র উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি বিন মোর্তাজা। ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সব মিলিয়ে করেছেন ১৯ রান। ব্যাট-বল সবখানেই ব্যর্থ তিনি। ৩৫ বছরের মাশরাফিকে শুধুমাত্র অধিনায়ক হিসেবে দলে রেখে বাংলাদেশ হয়তো দল হিসেবেও ভুগছে। কারণ মাশরাফি খেলা মানে কার্যত দশ জনে খেলছে বেঙ্গল টাইগাররা। দলে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব থাকলেও মাশরাফিকেই একদিনের অধিনায়ক রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু একজন অধিনায়ক যখন সামনে থেকে নেতৃত্ব করতে পারেন না, তখন গোটা দলের মনোবলেও আঘাত লাগা স্বাভাবিক।
অথচ ২০০৭-এর বিশ্বকাপে একাই ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তখনকার ২৩ বছরের মাশরাফি। কিন্তু এখন সেই মাশরাফি যেন শুধুই সেই দিনের ছায়া। প্রশ্ন আরও উঠছে তার দলের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে। ৪৪তম ওভারে ভুবেনেশ্বরের প্রথম বলটাই ছয় মেরে পরের বলেও মারতে যান তিনি। এবং বল ব্যাট ছুঁয়ে ধরা পরে ধোনির গ্লাভসে। উল্টো দিকে তখন ২৮ বলে ৩৩ করা সাইফুদ্দিন সঙ্গী খুঁজছেন ম্যাচ শেষ করার। মাশরাফির এই দায়িত্বজ্ঞানহীন শট ক্রিজে নিয়ে আসে রুবেল, মুস্তাফিজুরদের। যাদের ফেরাতে বেশি সময় নেননি এই ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়া বুমরা।
এই বিশ্বকাপই যে তার শেষ বিশ্বকাপ তা বলাই যায়। এখন প্রবলভাবে প্রশ্ন উঠছে, তার ক্যারিয়ার নিয়ে। দলে আরও বোলার থাকলেও অধিনায়ক মাশরাফি বোলিং শুরু করছেন বার বার এবং ব্যর্থ হচ্ছেন। এই জায়গাটা নিয়ে এ বার ভাবতেই হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।