তেল মিলছে দোকানের সুড়ঙ্গে, দোকানির ঘরে

13

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে ভোজ্যতেলের ‘কৃত্রিম সংকটের’ মধ্যে নগরীর কর্ণফুলী মার্কেটে দোকানের সুড়ঙ্গ থেকে ১ হাজার ৫০ লিটার এবং ফটিকছড়িতে দোকানির বাড়ি থেকে ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি টিম গতকাল রোববার নগরীর কর্ণফুলী মার্কেটে অভিযান চালিয়ে খাজা স্টোর নামে একটি দোকানের সুড়ঙ্গে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৫০ লিটার তেল জব্দ করে।
অপরদিকে শনিবার রাতে ফটিকছড়িতে মুদি দোকানির বাড়ি থেকে ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
অবৈধভাবে তেল মজুদ করার অপরাধে কর্ণফুলী মার্কেটের খাজা স্টোরকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান ও নাসরিন আক্তার।
উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর কর্ণফুলী মার্কেটের খাজা স্টোরে অভিযান চালিয়ে দোকানের ভেতরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে গোপনে মজুদ করে রাখা ১ হাজার ৫০ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে। মূলত অবৈধভাবে মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি লাভের আশায় এমনটা করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি আমাদের কাছে স্বীকারও করেছেন। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্কও করা হয়েছে। জব্দ করা তেল আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের দোকানে বিক্রির জন্য বিতরণ করে দিয়েছি। এভাবে অবৈধভাবে তেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে এপিবিএন এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে খাজা স্টোরের মালিক আবদুল হাকিম নিজেকে পাইকারি বিক্রেতা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের দোকান থেকে নগরীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খুচরা দোকানে তেল সরবরাহ করা হয়। এ কারণে গুদামে তেল মজুদ ছিল। আর রমজান মাসজুড়ে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে তেল কিনেছিলাম। কিছু বিক্রি হয়েছে আর কিছু বিক্রি হয়নি। অবিক্রিী তেলই গুদামে ছিল।
এদিকে শনিবার রাতে ফটিকছড়িতে এক মুদি দোকানির বাড়ি থেকে ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আকতার হোসেন নামের ওই ব্যবসায়ী ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার এলাকার দক্ষিণ গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। হেঁয়াকো বাজারে তার একটি মুদি দোকান আছে।
ফটিকছড়ির সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলমগীর ওই দোকানির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তেল উদ্ধার করেন। এস এম আলগমীর বলেন, ‘বাজারে সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না এমন অভিযোগ ছিল আমাদের কাছে। এরপর তথ্য পাই আকতার হোসেনের বাড়িতে গোপনে সয়াবিন তেল মজুদ করা হয়েছে। অভিযানে ওই বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ২ হাজার ৩২৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। ১, ২ ও ৩ লিটারের বোতল পাওয়া গেছে সেখানে। তবে ৫ লিটারের কোনো বোতল পাওয়া যায়নি’।
সেসব বোতলের গায়ে প্রতি লিটার ১৬০ টাকা দাম লেখা ছিল জানিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, এসব তেল মজুদ করা হয়েছে শেষবার দাম নির্ধারণের আগে। আকতার হোসেনের দাবি, তিনি ১৮০ টাকা লিটার দরে তেল বিক্রি করেছেন। তবে তার দোকানে কোনো তেল পাওয়া যায়নি।
ফটিকছড়ির বিভিন্ন বাজারে ও দোকানে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২০০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রির জন্য অবৈধভাবে পণ্য মজুদ রাখার অভিযোগে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনে আকতার হোসেনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আকতার হোসেনের বাড়ি থেকে উদ্ধার সব বোতল ‘ফ্রেশ’ ব্র্যান্ডের। পাশের খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার এক ডিলারের কাছ থেকে তিনি ওই তেল নিয়েছেন বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে দাবি করেছেন।
উদ্ধার করা তেল আকতার হোসেনের দোকানেই ক্রেতাদের কাছে বিক্রির জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম আলমগীর।