তৃণমূল আওয়ামী লীগের ডাক পড়েছে কেন্দ্রে

39

রাহুল দাশ নয়ন

আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের ডাক পড়ছে কেন্দ্রে। আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে নেতাদের সাথে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় কাউন্সিল ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এমন তৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। গত রোববার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে এক বৈঠকে বসে এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সাংগঠনিক রিপোর্ট জমা নিয়েছেন। পাশাপাশি কোন বিভাগে, কোন জেলায় কী অবস্থা তা জানতে চেয়ে সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে বলেছেন। দলীয় সংসদ সদস্য ও নেতারা যাতে দলের ভেতরে পৃথক বলয় না করে সেজন্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের তৎপর হতে বলেছেন। আওয়ামী লীগের সবগুলো টিমকে নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ইউনিটি ধরে রাখতে যা যা করার নেতাদের সেভাবেই কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কোনোভাবেই যেন নিজেদের মধ্যে গ্যাপ তৈরি না হয়। যদি কোনো গ্রুপিং থাকে সেগুলো দ্রুতই নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়ে যেসব কমিটি এখনো হয়নি এই দুই মাসে সেসব কমিটি দ্রুত করে দিতে বলেছেন। কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ত্যাগীদের মূল্যায়ন করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সভানেত্রী। নিজেদের পছন্দের লোক দলে ঢুকাতে গিয়ে বিতর্কিত কেউ যেন ঢুকে না পড়ে সেদিকেও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রত্যেককে সাংগঠনিক কাজে তৎপরতা বাড়াতে বলা হয়েছে। সামনে নির্বাচন কঠিন সময়, তাই কমিটিও হতে হবে ভালো।’
আওয়ামী লীগৈর দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে জেলার নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বসবেন। সেটা মোটামুটি চূড়ান্ত। আগামী সেপ্টেম্বরে নেত্রীর দিল্লি ও নিউইয়র্ক সফর আছে। এর মাঝে সময় পেলে সেপ্টেম্বরেই তিনি জেলা নেতাদের নিয়ে বসতে পারেন।
এদিকে চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপজেলায় গ্রুপিং বিদ্যমান। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়ায় আওয়ামী লীগের বিরোধ বেড়েছে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়নে বিরোধ তুঙ্গে। সেখানে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে অনেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। জয়ী হওয়া এসব প্রার্থীদের গ্রুপিং ভারী করতে পুনরায় সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সামনে আনা হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সাথে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরোধ আছে। এমনকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই মেরুতে থেকেই রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন। উত্তর চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপ, সীতাকুন্ড ও হাটহাজারীতে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং আছে। সেখানেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোমালিন্য বেড়েছে। মহানগরে পূর্বের ন্যায় দুটি ধারার মধ্যে বিরোধ আছে। এই বিরোধের পারদ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইউপি নির্বাচনে কিছু কিছু সংসদ সদস্য যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী দিতে সুপারিশ করেছেন। যেখানেই পছন্দমতো প্রার্থী মনোনয়ন পায়নি সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় সকল কর্মসূচি পালনেও সাংগঠনিক নিয়ম অমান্য করছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, সামনে আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে সম্মেলন কার্যক্রম চলছে। আমরা কিছু নির্দেশনা দিয়েছি। কেন্দ্রের নির্দেশে বিরোধ কমানোর পরামর্শও দিয়েছি। সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সাথে বসতে পারেন।