তৃণমূলে ঐক্য ও উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দেয়ায় লক্ষ্য আ.লীগের

15

রাহুল দাশ নয়ন

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনমুখী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়মিত করে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীলতা আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তৃণমূলকে চাঙা রাখতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমও গঠন করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এ টিম মাঠে নামবে। আসন্ন জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সারাদেশে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। একইসাথে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের উন্নয়ন প্রচারণা সাধারণ মানুষের দৌঁড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। একইসাথে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। সেদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংসদ সদস্যদের সাথে নেতা-কর্মীদের দূরত্ব কাটাতে হবে। অনেক আসনে সংসদ সদস্য ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে সেগুলো সংগঠনকে পিছিয়ে দিচ্ছে। সংসদ সদস্যরা সবকিছু নিজেদের আয়ত্বে নিতে চাইছেন। এসব পরিহার করে দলের জন্য কাজ করতে হবে। প্রতিটি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ডিসেম্বরের মধ্যে সম্মেলন করে নিয়মিত করতে হবে। একইসাথে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী ইশতিহার তৈরি করার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।
গত জুন ও জুলাই মাসেই চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার কাজে হাত দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন তৃণমূলের নেতাদের সাথে বৈঠক করে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেন। পরে প্রত্যেক ইউনিটকেই পৃথক নির্দেশনা দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার তাগাদা দেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ এমপি গত ২২ আগস্ট দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিয়ে বলেন, বিএনপি এখনও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হলে নেতাদেরকে ব্যক্তিগত কর্মী সৃষ্টি, ব্যক্তিগত আধিপত্য সৃষ্টি, ব্যক্তির দলবাজি থেকে দূরে সরে আসতে হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, জেলা ও উপজেলায় আমরা যারা দায়িত্বে আছি তাদেরকেই রাজনৈতিক কর্মী সৃষ্টি করতে হবে। আমরা এমন কর্মী চাই যে কর্মী দলের জন্য নেতিবাচক কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। উন্নয়নের প্রচারণা চালাতে হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক বেশি সুসংগঠিত। কিন্তু অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নিয়মিত কমিটি না থাকায় জেলায় সাংগঠনিক স্থবিরতা বিরাজ করছে। সাতটি উপজেলার মধ্যে স›দ্বীপ, সীতাকুন্ড ও ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগে দলীয় গ্রুপিং থাকলেও তা অনেকটা শিথিল। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেড়েছে। আজ (বুধবার) থিয়েটার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ড, থানা ও নগর আওয়ামী লীগের নেতাদের যৌথসভা। এই সভা থেকে তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হবে। এরমধ্যে সদস্য সংগ্রহ, কমিটি গঠনের মতো সিদ্ধান্তও সূচিতে রাখা হয়েছে। আগামি ১৯ সেপ্টেম্বর নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকেই ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটে ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলো নিয়মিত গঠন না হওয়ায় নেতাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটিগুলোও দীর্ঘদিনের পুরানো। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রæপিং-বিভাজন বেশি থাকলেও এখন তা কিছুটা শিথিল। এতদিন ধরে সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরোধ থাকলেও কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে তা কমে এসেছে। গত ২৯ আগস্ট লোহাগাড়া আওয়ামী লীগের এক সভায় সিনিয়র নেতারা এক মঞ্চে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। গত রবিবার সাতকানিয়া আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভা করে সাংগঠনিক রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন। এসব সভা থেকে দলীয় কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একইসাথে তৃণমূলে ঐক্য ধরে রেখে সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর কথা বলা হয়। পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা যাতে জয়ী হয় সেজন্যও তৃণমূলকে উজ্জীবিত করা হচ্ছে।
সাংগঠনিক পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম পূর্বদেশকে বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের প্রধান কাজ। পাশাপাশি দেশে যে নজিরবিহীন উন্নয়ন হয়েছে তা মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে নেতা-কর্মীদের কাজ করতে হবে। সরকারের উন্নয়নের কথা এখনো তৃণমূলে পৌঁছেনি। প্রতি ইউনিয়নে নানা ধরণের ভাতা দিয়ে গরীব দুস্থদের নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় আনা হয়েছে। ২০০৮ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন কল্পনা করা যাবে না। চট্টগ্রামেই এর প্রমাণ মিলছে। করোনার মধ্যেও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থমকে থাকেনি। মানুষকে না খেয়ে থাকতে হয়নি। টিকা ও ত্রাণ কার্যক্রম ছিল প্রশংসনীয়। সব বিষয় মানুষের দৌঁড়গোড়ায় পৌঁছাতে হবে। কোনোভাবেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নষ্ট করা যাবে না’।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আমাদেরকে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে বলেছে। আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে সকল ইউনিটকে গুছিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছি। কোভিড পরিস্থিতি ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমস্যা না হলে আমরা কিছু কাজ এগিয়ে নিতে পারবো। ইতোমধ্যে দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে কিছু কার্যকরী উদ্যোগও নেয়া হয়েছে’।