তীরে এসে তরী ডুবালো বাংলাদেশ

10

পূর্বদেশ ক্রীড়া ডেস্ক

বড়ই আকুতি ছিল একটা জয়ের। সেই আকুতি হাহাকার হয়েই থাকল মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে। ধরা দিল না স্বস্তির জয়। শেষ বলে চার রানের সমীকরণ মিলল না। শেষ বলের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইটাতে বাংলাদেশ ম্যাচ হারল ৩ রানে। সেই সাথে শেষ সেমিফাইনালের আশাও। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ১৪২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লক্ষ্য তাড়ায় ৫ উইকেটে ১৩৯ রানে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস।
১৪৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চমক দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রায় ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নামানো হয়েছে সাকিবকে। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো এ কঠিন দায়িত্বটিই নিজের কাঁধে তুলে নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু ইনিংসের পঞ্চম ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে এক চারের মারে ১২ বলে ৯ রানের বেশি করতে পারেননি সাকিব। আন্দ্রে রাসেলের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে জেসন হোল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।
পরের ওভারে অগ্রজ সতীর্থের দেখা পথে হাঁটেন নাইমও। আগের ওভারে সাকিবের ক্যাচ নেয়া হোল্ডার এবার বল হাতে সাজঘরে ফেরান নাইমকে। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হন ১৯ বলে ১৭ রান করা নাইম। মাত্র ২৯ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
তৃতীয় উইকেটে জুটি বাধেন লিটন ও সৌম্য। তারা দুজন হাত খুলতে খেলতে পারেননি। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিয়ে দলীয় সংগ্রহ পঞ্চাশ পার করা তারা। ইনিংসের ১১.৪ ওভারে আকিল হোসেনের বলটি তার ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে ক্রিস গেইলের তালুবন্দি হন ১৭ রান করা সৌম্য।
এরপর বেশি কিছু করতে পারেননি অভিজ্ঞ তারকা ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তবে অপরপ্রান্তে লিটন কিছু বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের চাহিদা নাগালের মধ্যেই রাখেন। লিটন-মুশফিকের জুটিতে আসে ২.৫ ওভারে ৩০ রান। ইনিংসের ১৪তম ওভারে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ৭ বলে ৮ রান করা মুশফিক।
বাংলাদেশের স্কোর তখন ১৩.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ৯০ রান। জয়ের জন্য তখনও প্রয়োজন ছিল ৩৯ বলে ৫৩ রান। সেই ওভারের পরের তিন বলে আসে তিন রান। ফলে সমীকরণ হয়ে যায় ছয় ওভারে ৫০ রানের। সেখান থেকে পরের তিন ওভারে ২০ রানের বেশি নিতে পারেননি লিটন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ফলে শেষ তিন ওভারে বাকি থাকে ৩০ রান। রবি রামপলের করা ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান লিটন। কিন্তু পরের পাঁচ বলে আসে মাত্র ৪ রান। ফলে ফের চাপে পড়ে বাংলাদেশ, সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ২২ রানে। গুরুত্বপূর্ণ ১৯তম ওভার নিয়ে আসেন নিজের আগের ওভারে মাত্র ৩ রান খরচ করা ডোয়াইন ব্রাভো।
শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ১৩ রানে। ক্যারিবীয়দের পক্ষে বোলিংয়ে আসেন রাসেল। তার প্রথম বলে স্কুপ করে ২ রান নেন নতুন ব্যাটার আফিফ হোসেন ধ্রুব। পরের বলে আসে ১ রান। তৃতীয় বলে কুইক রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটে মিড অন থেকেই ২ রান নিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ।
তিন বলে ৮ রানের সমীকরণে ছক্কার আশায় পুল খেলেন টাইগার অধিনায়ক। কিন্তু পার করতে পারেননি সীমানা, ডিপ স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন আন্দ্রে ফ্লেচার, আসে ২ রান। ওভারের পঞ্চম বলে হোল্ডারের মিস ফিল্ড থেকে আসে আরও ২ রান নেন। ফলে শেষ বলে বাকি থাকে ৪টি রান। কিন্তু আন্দ্রে রাসেলের করা ব্লক হোলের ডেলিভারিটি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। ফলে ৩ রানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় এবং নিজের প্রথম ওভারের শেষে বলে দলীয় ১২ মাথায় এভিন লুইসকে তুলে নেন মোস্তাফিজ।
এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে স্পিনার মেহেদি এসে ফেরান ক্রিস গেইলের উইকেট। দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কার্যত চাপে পড়া ক্যারিবিয়ানদের আরো চেপে ধরে মেহেদি। পাওয়ার প্লের শেষে নিজের দ্বিতীয় বলে চেজের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হবার পরের বলেই ফিরিয়ে দেন হেটমোয়ারকে।
ফিল্ডিংয়ে ক্যারিবিয়ানদের পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে মাত্র ২৮ রানেই আটকে রাখেন মেহেদি-মোস্তাফিজরা। শেষে তাসকিনের দারুণ বুদ্ধিতে কোনো রান না করেই ফিরেন রাসেল।
মোস্তাফিজ-মেহেদিদের বলে শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসে গতি দিয়েছিলেন নিকোলাস পুরান। আন্দ্রে রাসেল রান আউট হয়ে ফিরলে মাত্র ২২ বলে ৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন পুরান। উনিশতম ওভারে শরিফুলের শিকার হন তিনি। একই ওভারে ক্রিজে থিতু হওয়া রোস্টন চেজকেও ফিরিয়েছেন টাইগার এই পেসার।
অবশ্য উইকেটের সংখ্যা বাড়তে পারতো শরিফুলের। ডিপ কাভারে শরিফুলের বলে জেসন হোল্ডারের অপেক্ষাকৃত সহজ ক্যাচ ছাড়েন আফিফ হোসেন। কিন্তু ২০ তম ওভারে ৩টি ছক্কা হজম করে মোস্তাফিজ। তাতেই ১৪৩ মাঝারি স্কোর গড়েন ক্যারিবিয়নরা। বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন, মেহেদি ও মোস্তাফিজ।