তিন পার্বত্য জেলায় বসছে অপটিক্যাল ফাইবার

9

অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপনের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলাকে শক্তিশালী প্রযুক্তিগত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার কাজে হাত দিয়েছে সরকার। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজটি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। গতকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৬তম বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রকল্পটির প্র্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন। খবর বিডিনিউজের।
বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দুর্গম এলাকায় স্থায়ী নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে ‘টেলিযোগাযোগ সুবিধা বঞ্চিত এলাকাসমূহের ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি স্থাপন (কানেক্টেড বাংলাদেশ)’ প্রকল্পের অধীন পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি জেলায় (বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি) মোট ৫৯টি ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের ইউনিয়নগুলো অতিদুর্গম বিধায় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও পারিপার্শ্বিক প্রতিবন্ধকতার কথা বিবেচনা করে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের প্র্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০তম বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ১১টি প্র্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ছয়টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি, জননিরাপত্তা বিভাগের একটি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্র্রস্তাব ছিল। জননিরাপত্তা বিভাগের প্র্রস্তাবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের জন্য একটি ‘ভেহিক্যাল মাউন্ডেট মোবাইল ইন্টারসেপটর অ্যান্ড রিলেটেড সার্ভিস’ সেবাটি সুইজারল্যান্ডের তরু গ্রূপের স্থানীয় এজেন্ট স্মার্ট এসসিএম সল্যুশনের কাছ থেকে ৬৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪০ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন (৪র্থ পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এক লাখ শিশুকে ছয় মাস মেয়াদি উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং চার মাস মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের জন্য ১১২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্র্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কাজে ব্যয় হচ্ছে ১৬০ কোটি টাকা।
বুধবারের বৈঠকে হাটিকামরুল ইন্টারচেইঞ্জ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে কাজ দেওয়া হয়েছে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো গ্রæপকে।
১৪টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ৭৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকায় কাজটি পেয়েছে চীনের এই প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে ‘এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের একটি প্যাকেজ ৬০১ কোটি ১০ লাখ টাকায় আব্দুল মোনেম লিমিটেডকে দেওয়ার প্র্রস্তাব বৈঠকে অনুমোদন করা হয়।