তিনমাসে তিন বার চট্টগ্রাম আসেন ডা. মুরাদ

66

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃৃত ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান গত তিন মাসে তিনবার চট্টগ্রাম সফরে আসেন। গত সেপ্টেম্বর ও নভেম্বর মাসে দুইবার আসলেও নিয়ম অনুযায়ী পেয়েছেন প্রটৌকল। শেষবার চট্টগ্রামে আসাটা সুখকর হয়নি। এবার কোন ধরনের প্রটৌকল ছাড়াই দিনে এসে রাতেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। যদিও নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে ছিলেন অল্প সময়। আর এ সময় তিনি স্নায়ুচাপে থাকলেও কাটিয়েছেন বিলাসীতায়। চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সাথে ফোনে কথোপকথনে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কড়াবার্তা পেয়ে মধ্যরাতে পুনরায় ঢাকার পথেই রওনা দেন আলোচিত এ প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল মঙ্গলবার মেইলে পত্র পাঠিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান পদত্যাগ করেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। যদিও কোন কোন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায় রেডিসন থেকে সন্ধ্যায় গিয়ে চট্টগ্রামেই কোন বন্ধুর বাসায় অবস্থান করছেন ডা. মুরাদ। একইসাথে গতকাল সকালে চট্টগ্রাম থেকেই মেইলে পদত্যাগ পত্রটি পাঠিয়েছেন ঢাকায়।
সূত্রগুলো জানায়, গত ৬ ডিসেম্বর (সোমবার) তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিমানে চট্টগ্রামে আসলেও ফিরে যান সড়ক পথে। যাওয়া-আসার বিষয়ে অবগত ছিলেন না দায়িত্বশীল কোন সংস্থা। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে একজন মন্ত্রীর চলাফেরায় প্রটৌকল থাকার কথা থাকলেও তিনি সেই প্রটৌকল নেননি। জেলা প্রশাসন, পুলিশ কিংবা তথ্য অধিদপ্তরও মন্ত্রীর চট্টগ্রামে আসার বিষয়ে অবগত ছিলেন না। অনেকটা গোপনেই চট্টগ্রামে আসেন প্রতিমন্ত্রী। দুপুরের দিকে উঠেন পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন বøু বে ভিউতে।
রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক রাফাত সালমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুপুরের দিকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান হোটেলে আসেন। উনার জন্য একটি কক্ষ আগেই বুকিং ছিল। কিন্তু রাতে তিনি হোটেলে ছিলেন না।’
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গেল তিন মাসে ডা. মুরাদ হাসান তিনবার চট্টগ্রামে আসলেও শেষ দুইবার এসেছেন ব্যক্তিগতভাবে। প্রথমবার গত ৫ সেপ্টেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে ও দ্বিতীয়বার ১৬ নভেম্বর পারিবারিক সফরে চট্টগ্রামে আসেন মুরাদ হাসান। এরমধ্যে দ্বিতীয়বার স্ত্রী-সন্তানসহ চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও সেবারও প্রটৌকল নিয়েছিলেন। সেসময়ও অনেকটা আড়ালে চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু ও একটি রেস্টূরেন্টে বন্ধুসহ আনন্দ-ফূর্তি করেন ডা. মুরাদ। প্রতিবারই চট্টগ্রামে আসলে প্রতিমন্ত্রীর একজন বন্ধুকে ছায়াসঙ্গী হিসেবে দেখা মিলতো। এরমধ্যে গত রবিবার (৫ডিসেম্বর) চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সাথে মোবাইলে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ভাইরাল হলে সমালোচনার মুখে পড়েন ডা. মুরাদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে অনেকটা গোপনে চট্টগ্রামে চলে আসেন। এবার আর আনন্দ-ফূর্তি নয়, চোখেমুখে বিষন্নতা নিয়েই ফিরেছেন ঢাকায়। প্রধানমন্ত্রীর এক সিদ্ধান্তেই হারিয়েছেন ‘ক্ষমতার দম্ভে’ থাকা সকল অর্জন। যদিও চলতি ইস্যুতে মাঠ গরম করার প্রবণতা ছিল আওয়ামী লীগের এ সাংসদের।
এর আগে গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। সেই লাইভে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে নানা মন্তব্য করেন। একই টকশোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রোকেয়া হলের ছাত্র নেত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন তিনি।