তাওবাকারীর গুণাহ আল্লাহ ক্ষমা করেন

10

 

আল্লাহর অবারিত রহমতের মুবারক মাস মাহে রমজান। মোমিন মুসলমানদের জন্য খালেছ নিয়তে তাওবার মাধ্যমে আল্লাহ্র প্রতি প্রত্যাবর্তন ও আল্লাহ্র প্রিয়ভাজন হওয়ার মহাসুযোগ। তাওবার দ্বার এ মাসে উন্মুক্ত। আল্লাহ অনুগ্রহরাজি স্বাগত জানাচ্ছে রোজাদারকে। সকাল সন্ধ্যা আল্লাহর আনুগ্রহ বিলি হচ্ছে। এ পবিত্র মাসে আল্লাহ পাক স্বীয় বান্দাদের পাপরাশি ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহপাক স্বয়ং তাওবা করার জন্য আহব্বান করেছেন, রোজাদারের প্রার্থনা কবুল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই রোজাদার মু’মিন বান্দাদের উচিত এ মহিমান্বিত নাজাতের অবশিষ্ট দিনসমূহে নিজ গুনাহের কথা স্মরণ করে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি তাওবা এসতেগফার করা। গুনাহ দুই প্রকার: এক- সগিরা দুই- কবিরা গুনাহ। সগিরা অর্থ ছোট গুনাহ। এসব ছোট গুনাহ কোন পূণ্য কাজ করলে আল্লাহপাক নিজ দয়ায় মাফ করে দেন। যেমন আমরা যখন ওযু করি তখন ওযুর অংগের কৃত গুনাহ সমূহ মাফ হয়ে যায় ওয়ুর পানির সাথে। এক নামায থেকে দ্বিতীয় নামায পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের কৃত গুনাহ নামায আদায়ের কারণে মাফ হয়ে যায়। এক জুমা থেকে দ্বিতীয় জুমা পর্যন্ত আমরা যেসব গুনাহ করি জুমার নামাজ আদায়ের কারণে ঐসব গুনাহ মাফ হয়ে যায়, কিন্তু কবিরা গুনাহ বা বড় গুনাহ তাওবা ব্যতীত মাফ হয় না। ‘তাওবা’ অর্থ পরিতাপের সাথে পাপ পরিহার করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়ার নামই তাওবা। নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, আমি প্রত্যহ সত্তরবারের অধিক আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করে থাকি। সুবহানাল্লাহ্; উম্মতগণের সুপারিশকারী নবীজী আমাদের শিক্ষার জন্যই প্রতিদিন তাওবা এসতেগফার করতেন। অতএব আমাদেরকেও প্রতিনিয়ত আল্লাহর সমীপে তাওবা করতে হবে। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি পাপ থেকে তাওবা করে সে এমন হয়ে যায়, যেন তার কোন পাপই নেই। তিনি এরশাদ করেছেন, আদম সন্তান সবাই পাপ করে থাকে, আর পাপীদের মধ্যে তারাই অধিক ভাল যারা বেশি তাওবা করে। অতএব যারা পবিত্র জীবন কামনা করে তাদের উচিৎ হবে নিজ জীবনে কৃত পাপ কর্মের স্মরণ করে লজ্জিত মহা ক্ষমাশীল, দয়ালু আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। ভবিষ্যতে এমন গুনাহ না করার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করলে অবশ্যই আল্লাহকে ক্ষমাশীল হিসেবে পাবে। তওবা করা মুসলমান বান্দার কর্তব্য এবং গুনাহ মাফ করা মালিকের দয়া। তাই বান্দার উচিত সর্বদা তাওবা-ইসতিগফার করতে থাকা। বিশেষ ভাবে রমজান মাস আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমা লাভের মৌসুম। আমরা যদি সঠিক অন্তঃকরণে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তবে নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের তাওবা পূরণ করবেন। পরম করুণাময় আল্লাহ চান তাঁর পথহারা বান্দাগণ সুপথে ফিরে আসুক। সিরাতুল মুসতাকিমের দিশা লাভ করুক। আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসুলের মাধ্যমে ঘোষণা দেন! হে হাবীব আপনি বলে দিন, হে আমার বান্দার যারা তোমাদের নফসের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়োনা। নিশ্চয় আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। বস্তুত তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। মাহে রমজান আল্লাহর প্রিয়ভাজন হয়ে গোনাহ মুক্ত নতুন জীবনে পদার্পনের উপযুক্ত সময়। আল্লাহ আমাদের সকলকে গুনাহ মাফের তৌফিক দিন। আমিন।