তবলছড়ি-আসামবস্তি নৌপথে প্রাণ ফিরেছে

35

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক দশক ধরে বন্ধ থাকা রাঙামাটির তবলছড়ি থেকে আসামবস্তি পর্যন্ত নৌপথটি আবারও চালু হয়েছে। এই রুটটি চালুতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৬ লক্ষ টাকা। এতেই দীর্ঘ এক দশক পর পুনরায় এই নৌপথে নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত বোট চলাচল শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩৫০ মিটার দীর্ঘ, ১১ মিটার প্রশস্ত ও আড়াই মিটার গভীর খাল খনন করে। বর্তমানে যার সুফল ভোগ করছে তবলছড়ি ও আসামবস্তির বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা পূর্বদেশকে বলেন, ‘তবলছড়ির কালী মন্দিরের সামনে কয়েকবছর আগে একটি সেতু নির্মিত হয়েছে। সেতুটি নির্মাণের কারণে কাপ্তাই লেকের অংশটি ভরাট হয়ে যায়। এতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এলাকাবাসী দুর্ভোগের শিকার হয়। পরে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে নৌরুটটি পুনরায় চালুতে খনন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করছে এলাকাবাসী। কচুরিপানাগুলো তুলে ফেলা সম্ভব হলে রুটটি পুরোদমে চালু হবে।’
জানা যায়, প্রায় এক দশক পর রাঙামাটি শহরের তবলছড়ির কালী মন্দিরের সামনের সেতুর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তবলছড়ি থেকে আসামবস্তি নৌপথে নৌকা চলাচল আবারও শুরু হয়েছে। এর আগে কালী মন্দিরের সামনে সেতুর কাজ করতে গিয়ে বিকল্প সড়ক তৈরির কারণে নৌপথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সম্প্রতি বর্ষায় হ্রদে পানি বাড়লে এই অংশ দিয়ে পানি প্রবাহ বাড়তে থাকে।স্থানীয়রা বলেন, হ্রদের এই অংশটি খননের ফলে নৌকা, বোট চলাচল শুরু হয়েছে। তবলছড়ি থেকেই মানুষ নৌকায় উঠতে পারছে। এজন্য দূরের কোন নৌ স্টেশনে যেতে হচ্ছে না। মানুষ স্বাভাবিকভাবে নদীতে নেমে গোসল করতে পারছে। দৈনন্দিন কাজে পানি ব্যবহার করতে পারছে। আগে যখন কাঠের ব্রিজ ছিল তখন নৌকা চলাচল করতো। তবলছড়িতে সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে। গত এক দশক ধরে নৌরুটটি বন্ধ ছিল। এই নদী খনন হওয়ায় সকলের জন্য উপকার হয়েছে। তবে আরও ব্যাপকভাবে খনন করা সম্ভব হলে দৃশ্যমান হবে পুরো নৌপথ। এখনো কচুরিপানার কারণে নৌকা চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। এগুলো পরিষ্কার করে দিলে একদম স্বাভাবিকভাবেই নৌ চলাচল করতে পারবে। এখন দূরদূরান্ত থেকে জেলেরা সরাসরি মাছ, ব্যবসায়ীরা পাহাড় থেকে বাঁশ ও কাঠ আনতে পারবে। এতদিন বহুদূর ঘুরে আসামবস্তি হয়ে মালামাল আনতে হতো।
রাঙামাটি পৌরসভার কাউন্সিলর পুলক দে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্রিজটি করার কারণে বিকল্প হিসেবে মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। ব্রিজের কাজ শেষ হওয়ার পরেও মাটি না সরানোয় কাপ্তাই হৃদের সাথে আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এমপি মহোদয়ের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প নিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে। এখন আগের মতো বোট, নৌকাগুলো চলাচল করতে পারবে। এলাকার মানুষ খুশি হয়েছে।’