ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

5

পূর্বদেশ ডেস্ক

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছে জজ আদালত। ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন গতকাল মঙ্গলবার ওই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মামলাটি বিশেষ জজ আদালত-৪ এ পাঠিয়ে দেন। আগামী ২ মে এ মামলার পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে বলে ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মোশাররফ হোসেন কাজল, মীর আহমেদ আলী সালাম, মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। মানি লন্ডারিং আইনের এই মামলায় দুপুরে আদালতে হাজির হন ইউনূস। গত ৩ মার্চ তিনি এ মামলায় জামিন পান। খবর বিডিনিউজের।
শুনানি শেষে ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, আইনের শাসন বলে যে একটা জিনিস, সেটা আমরা পাচ্ছি না কোথাও।
ইউনূস ছাড়া এই মামলার অপর আসামিরা হলেন, গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম, এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম এবং গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান।
আদালতে ইউনূসসহ সবাই হাজিরা দিলেও অসুস্থতার কথা জানিয়ে হাজির হননি মো. শাহজাহান। তার পক্ষে জমা দেওয়া সময় আবেদন নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।
শুনানিতে শাহজাহানের বিষয়ে বিচারক বলেন, আদালত ভবনের নিচে উনাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসুন। কোনো আইনজীবী সেটা দেখে আসুক যে তিনি এসেছেন। তাহলে আবেদন সময় আবেদন লাগবে না। হাজিরাই হয়ে যাবে।
গ্রামীণ টেলিকমের কর্মীদের লভ্যাংশের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।
দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ৩০ মে এই মামলা দায়ের করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিরা ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ।