ডেঙ্গু মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

30

ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহতার মধ্যে রোগীদের বিচলিত বা আতঙ্কিত না হতে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের সেই সব পরামর্শ তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে জানিয়েছে সরকার।
বাড়িতে ডেঙ্গুর চিকিৎসা : পর্যাপ্ত বিশ্রাম (জ্বর চলাকালীন এবং জ্বরের পর এক সপ্তাহ)। স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার খাওয়া, যেমন- খাবার স্যালাইন। গ্লুকোজ, ভাতের মাড়, বার্লি, ডাবের পানি, দুধ বা হরলিক্স, বাসায় তৈরি ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি।
বাড়িতে চিকিৎসা চলাকালীন সতর্কতা : জ্বর কমার প্রথম দিন রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি। বার বার বমি বা মুখে তরল খাবার খেতে না পারা। পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করা। শরীর মুখ বেশি দুর্বল অথবা নিস্তেজ হয়ে পড়া বা হঠাৎ করে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া বা শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। এসবের যেকোন একটি লক্ষণ দেখা দিলে অতিসত্বর হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে খবর বাংলানিউজের
জ্বর থাকাকালীন চিকিৎসা : পূর্ণবয়স্কদের জন্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দু’টি করে প্রতি ৬/৮ ঘণ্টা পর পর। বাচ্চাদের জন্য বয়স ও ওজন অনুসারে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী। জ্বর থাকাকালীন রোগী দিনরাত সবসময় মশারির ভেতরে থাকবে। জ্বর থাকাকালীন ব্যথানাশক ওষুধ এন.এস.এ.আই.ডি গ্রুপ যেমন- ডাইক্লোফেন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপারক্সেন, মেফেন ইত্যাদি সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। এসপিরিন/ক্রোপিডোপ্রেল (এন্টি প্লাটিলেট গ্রুপ) হৃদরোগীদের জন্য জ্বর থাকাকালীন ও প্লাটিলেট হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ওয়ারফারিন (এন্টিকোয়াগুলেন্ট) হৃদরোগীদের জন্য জ্বর থাকাকালীন ও প্লাটিলেট হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতিত এন্টিবায়েটিক জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবেনা। কুসুম গরম পানি বা নরমাল তাপমাত্রার পানি দ্বারা সারা শরীর মোছা। বাড়ি ও এর আশেপাশের এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিশ্চিহ্ন করা এবং মশার আবাসস্থলে স্প্রে করা
সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট দুই হাজার ৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতি ২৪ ঘণ্টা পর কন্ট্রোল রুম যে তথ্য দিচ্ছে সর্বশেষ সংখ্যাটি অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া নতুন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ১৫৯ জন এবং রাজধানীর বাইরে সারাদেশে ৯০৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি হতে এ পর্যন্ত মোট ২৭ হাজার ৪৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৯ হাজার ৭৬১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে মোট সাত হাজার ৬৫৮ জন এখনও চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে রাজধানীর ৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন চার হাজার ৯৬২ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ভর্তি আছেন ২ হাজার ৬৯৬ জন।