ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে

3

মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী

করোনা (কোভিড-১৯) যুদ্ধ চলমান। সবাই এখন একেকজন করোনা সৈনিক। দেশে করোনা মহামারি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে ছোটছোট অনেক উপ-যুদ্ধ বিরাজমান। এদিকে ডেঙ্গুজ্বর সংক্রমণের মৌসুমও আসন্ন। ঢাকা-চট্টগ্রাম সব সময়ই ডেঙ্গু সংক্রমণের হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত। এ বছর ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার উপস্থিতির কারণে রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
এডিস মশার প্রকোপ মানুষের অসচেতনতার কারণেই বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা জন্ম নিতে পারে। ছাদে জমা বৃষ্টির পানি বা নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা পানি এ মশা জন্মের সবচেয়ে অনুকূল স্থান। যত্রতত্র ফেলে রাখা প্লাস্টিক বর্জ্যে বৃষ্টির পানি জমে সেখানে এডিস মশার জন্ম হয়।
রাস্তায় জমে থাকা পানি, ডাবের ফেলে দেওয়া খোসা, নিত্যদিনে ব্যবহার করা এমন আসবাবপত্র নির্দিষ্ট স্থানে না রাখা, ফুলের টবে এবং ডাস্টবিনে জমে থাকা পানিতেও এ মশার বংশবিস্তার ঘটে থাকে। কাজেই এদিকে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি রাখা অধিকতর প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে সবচেয়ে বেশি এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে নির্মাণাধীন ভবনের মেঝেতে জমে থাকা পানিতে। এর পরিমাণ প্রায় ২০.২২ শতাংশ। এছাড়া প্লাস্টিকের ড্রামে ১০ শতাংশ, বালতিতে ১১.২৪ শতাংশ, পানির ট্যাংকে ৭.৮৭ শতাংশ এডিস লার্ভা পাওয়া গেছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, করোনার মাঝে যদি ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। অসচেতন স্বাস্থ্য বিভাগ আরো প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। তাহলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এজন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করাটাই শ্রেয়। তাই ডেঙ্গু সংক্রমণকারী এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বা ডিম পাড়ার স্থানগুলোকে যতদ্রæত সম্ভব ধ্বংস করতে হবে। যা সবার সচেতনতায় খুব সহজে বাস্তবায়ন করা যাবে।
চট্টগ্রাম শহরের ডাস্টবিন ও এর আশপাশের স্থানে যেন দুই-তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, এবং ডাস্টবিন পরিষ্কার করার সাথে সাথে ডেঙ্গুর ঔষধ ছিটাতে হবে। এলাকার জনপ্রতিনিধিরও এর ভূমিকা রাখতে হবে।
বর্ষায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি; সিটি কর্পোরেশনকে এ ব্যাপারে এখন থেকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ইতোপূর্বে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ছিটানো ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের মাঝে অসংগতিও দেখা গেছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ না করায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করেও এক্ষেত্রে আশানুরূপ প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এটা সকলের জানা। এবার প্রয়োজন বাস্তবমুখী, জবাবদিহিতা মূলক সুস্পষ্ট পরিকল্পনা। অসচেতন এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং অবহেলা দেখলে প্রশাসন এর মাধ্যমে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া।
মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ ছিটাতে হবে সব জায়গায়। ডেঙ্গু সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। মনে রাখতে হবে, মানুষের ভুল ও অসচেতনতার কারণেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি ডেঙ্গুর জন্যেও মানুষের সচেতনতাই পারে এ রোগ প্রতিরোধ করতে।

লেখক : শিক্ষার্থী, প্রাবন্ধিক