ডেঙ্গু আতঙ্কে মশারি কয়েল কেনার ধুম

132

ডেঙ্গু মশার আতঙ্ক এখন শুধু ঢাকাতেই নয়, এটি ছড়িয়ে পড়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও। গত কয়েকদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের রোগীদেরও রাখা হয়েছে মশারির ভেতরে। আর এ ডেঙ্গুর প্রভাব থেকে বাঁচতে মশারি ও কয়েল বিক্রির তৎপরতা দেখা গেছে। এছাড়াও মশা মারার স্প্রে, বৈদ্যুতিক ব্যাট (মসকিউটো র‌্যাকেট) কিনছে ক্রেতারা।
গতকাল রবিবার নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, জিইসি, আগ্রাবাদের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে বিক্রির এমন দৃশ্য দেখা যায়। বিশেষ করে যাদের পরিবারে শিশু ও বৃদ্ধ সন্তান রয়েছে তাদের একটু বেশি সতর্কতা লক্ষ্য করা গেছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজার কাঁচা বাজারের পাশে কয়েকটি মশারির দোকানে সরেজমিন দেখা যায়, আগের তুলনায় বিক্রেতাদের ব্যবসা জমজমাট। আগে যদি দৈনিক পাঁচটি মশারি বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫টি। আর খুচরা পর্যায়ে দামও একটু বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ জানালেন ক্রেতারা।
ক্রেতা টিংকু কানোনগো জানান, যে মশারি আগে ২০০ টাকায় বিক্রি করা হতো এখন সেগুলো বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। সুযোগে তারা সদ্ব্যবহার করছে। মানুষের বিপদ দেখে তারাও তাদের মত ব্যবসা চালাচ্ছে।
আরেক ক্রেতা শাহানারা বেগম রুনি বলেন, রাতে ঘুমাতে গেলে খুব ভয় হয়। কোন সময় কোন দিকে এডিস মশা কামড়ে দেয় তার কোন গ্যারান্টি নেই। মশারি কেনার আগে দুপুরে ঘুমাতাম না আর আজকের পর থেকে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবো।
মশারি বিক্রেতা মো. জুনায়েদ পূর্বদেশকে জানান, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া আতঙ্কে মানুষ এখন মশারির দিকে আগ্রহী হচ্ছে। আগে দৈনিক পাঁচটি মশারি বিক্রি করলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫টা। তার জন্যে আমরাও পর্যাপ্ত মশারি স্টকে রেখেছি।
জিইসি মোড় এলাকায় দেখা গেছে, সব ব্র্যান্ডের মশা মারার স্প্রে ও কয়েলের গ্রাহক দেখা গেছে চোখে পড়ার মত। প্রায় ১৫ মিনিটে দোকানে সাতজন ক্রেতা আসছে কয়েল আর স্প্রে কেনার জন্যে।
মহিম নামে স্প্রে ক্রেতা জানান, মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে ভাল লাগে না। দিনের বেলায় দরজা বন্ধ করে স্প্রে দিয়ে রাখবো। শুনছি কয়েকজন মশার কামড়ে মারা গেছেন। তাই খুব ভয়েই আছি। যার কারণে একটা স্প্রে কিনলাম।
দাম কেমন প্রশ্ন করা হলে মহিম জানালেন, এখানে দাম স্বাভাবিকই নিচ্ছে অন্যান্য জায়গায় কী রকম নিচ্ছে জানি না। তবে দাম যাতে এমআরপি’র (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য) বাইরে বিক্রি না করে সে অনুরোধই থাকবে।
জিইসি মোড়ের দোকানদার আহমদ জানান, আগের তুলনায় মশার স্প্রে বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে। আগে মাসে ১৫ থেকে ২০ কার্টন (প্রতিটিতে ১২টি করে) স্প্রে বিক্রি হতো। আর গত এক সপ্তাহেই ১০ কার্টন বিক্রি হয়েছে।
এদিকে কয়েলের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন বাজারে। সারাদেশে প্রায় ৫০টি ব্র্যান্ডের কয়েল বাজারে রয়েছে। প্যারামাউন্ট সিটির পাইকারি বিক্রেতা সোহেল বলেন, আমরা পাইকারি পর্যায়ে আগে যেরকম বিক্রি করেছিলাম এখনো সেভাবে বিক্রি করছি। চট্টগ্রামে যখন ডেঙ্গুর প্রভাব তেমনটি পড়েনি তাই এখনো সেরকম চাহিদাও হয়নি। তবে কয়েকদিনে একটু স্প্রে এবং কয়েল বেশি বিক্রি হচ্ছে।
নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকার গৃহিণী হাসিনা বেগম বলেন, আগে তিন প্যাকেট কয়েল দিয়ে মাস চললেও এখন তার ডাবল কিনতে হচ্ছে। পরিবারের সবাই এখন একটা আতঙ্কেই আছে। তাই বাধ্য হয়ে মশার কয়েল কিনলাম।
চট্টগ্রামেও দিনের পর দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গতকাল রবিবার নতুন করে আরো সাত জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।
সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৫টি উপজেলা তদারকির জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং প্রত্যেকটি উপজেলায় কিট পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল থেকে সেগুলো বিতরণ করা হবে। আর কোন বেসরকারী হাসপাতালে ডেঙ্গুর পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকার বেশি নিতে পারবে না। যদি নেয় তাহলে সে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবারই কয়েল আর মশারির পেছনে দৌড়ালে হবে না। সবাইকে সচেতন হতে হবে। ডিম থেকে এডিস মশা যাতে জন্মাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।