ডাকঘর সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতা বেড়েছে

25

 

সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে যে পরিমাণ টাকা আসছে, মানুষ ভাঙিয়ে ফেলছে তার চেয়ে বেশি। বিশেষ করে ডাকঘর সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এতে করে গত সেপ্টেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্রে সরকারের নিট বিক্রি ৭১ কোটি টাকা কম। এর মানে বিক্রির তুলনায় সঞ্চয়পত্র ভাঙানো হয়েছে। সঞ্চয়পত্র থেকে প্রথম তিন মাসে সরকারের ঋণ ৩৩১ কোটি টাকা। বেশিরভাগ জিনিসের দাম বুদ্ধির ফলে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে অনেকে এখন সঞ্চয় তুলে নিচ্ছেন- বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সঞ্চয় পরিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৬ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। আসল পরিশোধ করা হয়েছে ৭ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। ফলে নিট বিক্রি কমেছে। আগের মাস আগস্টে নিট বিক্রি মাত্র ৮ কোটি টাকা বেশি ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বেড়েছিল ৩৯৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রথম তিন মাসে ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে নিট ঋণ কমেছে ৪ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে কমেছে ৫৬৩ কোটি টাকা। তবে পরিবার সঞ্চয়পত্রে ৩ হাজার ১৬৮ কোটি, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক ১ হাজার ৮৬৪ কোটি ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিক্রি ৩৬৪ কোটি টাকা বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২১ হাজার ৫১১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর বিপরীতে মূল পরিশোধ হয়েছে ২১ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রথম ত্রৈমাসিকে নিট ঋণ এসেছে ৩৩১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিট ঋণ বেড়েছিল ৮ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণস্থিতি কমে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকায় নেমেছে। আগের মাস আগস্ট শেষে যা ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৪১১ কোটি টাকা ছিল। ব্যাংকাররা জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকসহ সামগ্রিকভাবে সঞ্চয় প্রবণতা কমেছে।