ডলফিনের মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে গবেষণা বাড়াতে হবে

4

হাটহাজারী প্রতিনিধি

দেশের মিঠা পানির কার্প জাতীয় মা মাছের অন্যতম প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ ও হালদা নদীর তীরে গত বছরের ন্যায় এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব ডলফিন (মিঠা পানির) দিবস পালিত হয়েছে।
গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের হালদা নদীর তীরবর্তী ডক্টর শহিদুল্লাহ একাডেমিতে এই দিবসটি পালিত হয়।
‘ডলফিন থাকে যদি, ভালো থাকবে মোদের নদী’ এ প্রতিপাদ্যের আলোকে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চট্টগ্রাম বন বিভাগ।
কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) লাল তালিকাভুক্ত দূষণমুক্ত পরিষ্কার পানিতে বিচরণকারী মিঠা পানির ডলফিন সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে উক্ত বিদ্যালয় মিলনায়তনে প্রধান অতিথি ছিলেন- চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান এনডিসি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আ স ম জামসেদ খোন্দকার। এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ডক্টর মো. মনজুরুল কিবরীয়া হালদা নদী সংরক্ষণে করণীয় শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক বিপুল কৃষ্ণ দাস, রাউজান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুনায়েদ কবির সোহাগ ও ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিনুল হাসান।
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য্যরে সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় ডিমসংগ্রকারী ও চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হালদা নদীতে এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে নদী থেকে ডলফিন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বিলুপ্তির হাত থেকে ডলফিন রক্ষায় ময়না তদন্ত ও গবেষণা বাড়াতে হবে। মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করে তা দূর করতে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি, নদী ও জলজ প্রাণি বিশেষজ্ঞরা এবং স্থানীয় জনগণকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তারা বলেন, ২০২০ সালে জরিপ চালিয়ে হালদায় ১২৭টির মতো ডলফিন মিলেছিল। এর দুই বছর আগে ২০১৮ সালের জরিপে নদীতে ডলফিনের উপস্থিতি ছিল ১৬৭টি। এছাড়া ২০১৭ সালে ২০০টি ডলফিনের অস্তিত্ব ছিল বলে অনুমান করেছিল জরিপ কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা। তবে উদ্বেগজনক হলেও সত্য যে, মাত্র চার বছরে ৩১টি ডলফিনের মৃত্যু হওয়ায় এই প্রজাতিকে শঙ্কার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।