টেকনাফ-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ফের ভারী গোলা-মর্টারের শব্দ

11

পূর্বদেশ ডেস্ক

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীর ওপার থেকে আবার তীব্র বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। সেইসঙ্গে কালো ধোঁয়া দেখেছেন সীমান্তের বাসিন্দারা।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার এলাকায় থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতরা।
এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জাংছড়ি সীমান্তের ওপারেও নতুন করে একের পর এক মর্টারশেল, আর্টিলারি বোমা বিস্ফোরণ ও প্রচন্ড গুলাগুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ আনোয়ারী বলেন, সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আবারও মর্টারশেল ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা।
সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কুমিরখালী এলাকায় ঘটা এ সংঘর্ষ থেকে আগুনের ধোঁয়াও দেখা গেছে।
এর আগে রোববার রাত ১২টা থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও টেকনাফ সীমান্তে গোলাগুলি ও বিকট শব্দ পাওয়ার তথ্য দেন জনপ্রতিনিধিরা।
সাবরাং ইউনিয়নের নয়া পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নয়াপাড়া সীমান্তে গোলাগুলি শব্দ শোনা যায়নি। কড়াকড়ির কারণে জেলেরা নাফ নদীতে মাছ ধরতে নামতে পারছেন না। এতে তারা বিপাকে পড়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ কিছুদিন পরপরই শোনা যায়। এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরের সংঘাত।
ওপারে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসরতদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নাফ নদী অতিক্রম করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তেও তীব্র গোলাগুলির শব্দ : এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জাংছড়ি সীমান্তের ওপারে নতুন করে একের পর এক মর্টারশেল, আর্টিলারি বোমা বিস্ফোরণ ও প্রচÐ গুলাগুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার রাত প্রায় ১২টা শুরু হয়ে ঘণ্টাব্যাপী শব্দ শোনা যায়। গতকাল সোমবারও থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছোটাছুটি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ছাবের আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড জাংছড়ি সীমান্তের ৪৬ ও ৪৭ পিলার পুরান মাইজ্জা ক্যাম্প, অংচাফ্রী ক্যাম্প ও সালি ডং ক্যাম্পের ওপারের মিয়ানমার অভ্যন্তরে অগণিত মর্টার ও আর্টিলারি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। এসব গোলার আওয়াজে এপারে যেন ভূমিকম্প সৃষ্টি হচ্ছিল।
নাইক্ষংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবছার বলেন, ওপারে গুলাগুলি ও আর্টিলারি মর্টারশেল বিস্ফোরণের আওয়াজে এপারের গ্রামের অনেক ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। আতঙ্কে এলাকাবাসী ছোটাছুটি করছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দিল মোহাম্মদ বলেন, এপারে গুলি এসে না পড়লেও মানুষ আবারও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কিছুদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা ধানের জমি ও সবজিখেতে স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ করলেও রোববার থেকে কেউ সেখানে যাননি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ২ ফেব্রæয়ারি রাত থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে তমব্রু রাইট ও লেফট ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। দু-তিন দিন তীব্র লড়াইয়ের পর তমব্রæ ও ঢেঁকিবনিয়া সীমান্ত চৌকি দখলে নেয় আরাকান আর্মি।
সেখানে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে টিকতে না পেরে ৩৩০ জন বিজিপি, সেনা ও বেসামরিক নাগরিক পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের পুনরায় সাগরপথে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।
এর মধ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী গ্রামের একটি রান্নাঘরের ওপর মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে দুজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নারী ও অন্যজন রোহিঙ্গা পুরুষ। এ ছাড়া গোলাগুলিতে আহত হন আরও নয়জন।
কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে কয়েকটি এলাকায় গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে; যা পরদিন সকাল ৮টার পর থেকে আর শোনা যায়নি।
তবে রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত আবারও থেমে থেমে হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও টেকনাফ সীমান্তে গোলাগুলি ও বিকট শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সীমান্তের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।