টিপ পরা নারীকে হেনস্তা: সেই পুলিশ সদস্য শনাক্ত

30

পূর্বদেশ অনলাইন
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কপালে টিপ পরায় এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে গালি দেওয়া ‘সেই পুলিশ’ সদস্যেকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি একজন কনস্টেবল, নাম নাজমুল তারেক। সোমবার (৪ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে ওই পুলিশ কনস্টেবলকে সনাক্ত করা হয়।
এর আগে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক লতা সমাদ্দার অভিযোগ করেন, শনিবার (২ এপ্রিল) সকালে কর্মস্থলের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি তাকে ‘টিপ পরছোস কেন’ বলে কটুক্তি করেছেন। এ ঘটনায় ওই দিনই (২ এপ্রিল) তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে আমি হেঁটে কলেজের দিকে যাচ্ছিলাম। সেজান পয়েন্টের সামনে মধ্য বয়সী, লম্বা দাড়িওয়ালা এক পুলিশ সদস্য কপালে টিপ পরাকে কেন্দ্র করে ইভটিজিং করেন। পরে ঘুরে ওই ব্যক্তির মোটরবাইকের সামনে গিয়ে দাঁড়াই। তখনও তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। একসময় আমার পায়ের ওপর দিয়েই বাইক চালিয়ে চলে যান তিনি।
ঘটনার পর রাস্তার বিপরীত পাশে কর্তব্যরত তিন জন ট্রাফিক পুলিশের কাছে গিয়ে লতা সমাদ্দার ঘটনাটি বর্ণনা করেন। এই তিন জনের মধ্যে একজনের নাম অভিজিৎ। তারাই থানায় অভিযোগ করতে পরামর্শ দেন তাকে। এদিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা রোববার (৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের পক্ষ থেকে সেদিন জানানো হয়, শিক্ষিকাকে গালাগালি করা ওই ব্যক্তিটি পুলিশ কি-না এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে রোববার শেরেবাংলা নগর থানার ওসি উৎপল বড়ুয়া জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসি ফুটেজ দেখে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি পুলিশ বা সাধারণ মানুষ যেই হোন না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।