টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে

7

নিজস্ব প্রতিবেদক

অটোরিকশা ও অটোটেম্পু রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট করানোর আশ্বাস দিয়ে মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে টাকা। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তা প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানান চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পু শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকন (৩৮)। এ নিয়ে খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগী মালিকরা।
গত ৪ ফেব্রæয়ারি (রবিবার) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে এমন অভিযোগ দায়ের করেন। গতকাল শনিবার পূর্বদেশকে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভূক্তভোগী মালিক মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. ফারুক ও মো. জসিম উদ্দিন।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম খোকন পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমাকে পারিবারিক, মানসিক, সাংগঠনিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। তাই তারা আমাকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য বাজারে ছড়াচ্ছে।’মালিকদের অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘খোকন বিআরটিএ, চট্টগ্রাম অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটের কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। গত ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল অন্যান্য মালিকদের মত আমরাও গাড়িপ্রতি নগদ ৪৫ হাজার টাকা প্রদান করি।
পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটের বিলম্বের কারণে রাহাত্তারপুল থেকে চকবাজার পর্যন্ত চট্টগ্রাম অটোরিকশা অটোটেম্পু শ্রমিক লীগ (রেজিঃ নং- চট্ট ১৪৬৯) এর ব্যানারে রিট পিটিশন মামলা নং ৬৭৫৬/২০২২ এর আদেশের অধীনে কিছুদিন গাড়িগুলো চালানোর সুবাধে তার ভাই মো. সুমন, লাইনম্যান মনির হোসেন প্রকাশ মইন্যার মাধ্যমে কালামিয়া বাজার অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রতি গাড়ি ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভর্তি করাই। এতে দৈনিক ৩০০ টাকা এবং মাসিক তিন হাজার টাকা চাঁদা আমাদের থেকে আদায় করেন। সর্বশেষ গত ২০২২ সালের জুলাই মাসে মহামান্য হাইকোর্ট রিট পিটিশন নং ৬৭৫৬/ ২০২২ আদেশ বাতিল হলে গাড়িগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রেজিস্ট্রেশন ও রুট পারমিটের জন্য দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে তা অস্বীকার করেন। আমাদেরকে হত্যা করে লাশ গুম ও মিথ্যা মামলায় জেল খাটানোর হুমকি প্রদান করেন।
আমরা বাকলিয়া থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার সময় চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বিকাল ৪টায় শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক ৫ নং ব্রিজের মুখে খোকন ও তার ভাই মো. সুমন, মইন্যা, রাশেদসহ অজ্ঞাত চার/পাঁচ জন আমাদেরকে অস্ত্রের ভয় দেখান ও থানায় অভিযোগ দিতে বাধা দেন।’
এ বিষয়ে মালিক মো. ফারুক ও মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন এবং রুট পারমিট করিয়ে দিবেন বলে ৯২ হাজার টাকা নেন খোকন। গত বছর জোরাজুরি করার পর ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেন। বাকি ৬২ হাজার টাকা ফেরত চাইলে আমাদেরকে বলেন, ‘তোমাদেরকে আর টাকা দিবো না। আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে কর’। এরপর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে, তার লোকজন আমাদেরকে হুমকি দিতে থাকেন। আমরা জীবনের নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের টাকা ফেরত চাই।’
নজরুল ইসলাম খোকন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে একটা টাকাও নিইনি। এগুলো সব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। একটা কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘটনা সাজাচ্ছে। আমার নামে অভিযোগ দিয়ে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছে। এসব কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে আমি ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও পুলিশের আইজিপি বরাবর অভিযোগ দিয়েছি।’