টাইব্রেকারে জাপানি উৎসব থামিয়ে শেষ আটে ক্রোয়েশিয়া

10

ক্রীড়া ডেস্ক

কাতার বিশ্বকাপে রীতিমতো জায়ান্ট কিলার রূপেই দেখা দিয়েছিল জাপান। জার্মানিকে হারিয়ে শুরু, এরপর স্পেনকে হারিয়ে মৃত্যুক‚প থেকে রীতিমতো গ্রুপের সেরা হয়েই নকআউটে এসেছিল নীল সামুরাইরা। ক্রোয়েশিয়াকেও দারুণ চোখরাঙানিই দিচ্ছিল হাজিমে মরিয়াসুর দল, এগিয়ে গিয়েছিল শুরুতেই।
তবে এরপরই ক্রোয়াটরা ফিরল ম্যাচে। খেলাটা গেল টাইব্রেকারে, কাতার বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো; সেখানেই থামল জাপানি উৎসব। ৩-১ গোলে শেষ হাসি হাসল শেষ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টরা। জাপানের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে নিশ্চিত করে ফেলল প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনাল।
বড় প্রতিপক্ষ সামনে পেলেই জাপান জ্বলে ওঠে, গ্রুপ পর্বে জার্মানি আর স্পেন সেটা টের পেয়েছে ভালোভাবেই। সেটা গতকালও দেখা গেল। শুরুতে অবশ্য ক্রোয়েশিয়াই নিয়ন্ত্রণ করছিল ম্যাচটা, তবে সময় গড়াতেই জাপান চলে আসে দৃশ্যপটে। পেয়ে যায় গোলের দেখাও। রিতসু দোয়ানের বাড়ানো ক্রসে মায়া ইয়োশিদা মাথা ছুঁয়ে গিয়ে পড়ে দাইজেন মায়েদার কাছে, জাপানকে এগিয়ে দিতে ভুল করেননি সেল্টিকের এই স্ট্রাইকার।
গোলটা করেই যেন ভুলটাও করে বসল জাপান। হ্যাঁ, ভুলই। নিজেদের শেষ সাত ম্যাচে শুরুতে গোল করে ৪ ম্যাচে হেরেছে নীল সামুরাইরা। বিশ্বকাপের নকআউটে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ জেতার রেসিপি ক্রোয়াটদেরও অজানা নয়। গেল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচটা বের করে নিয়েছিল দলটি!
বের করে নিল গতকালও। গেল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন যিনি, সেই ইভান পেরিসিচ এগিয়ে এলেন গতকালও। তার গোলেই দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতায় ফেরেন লুকা মদরিচরা।
৪৩তম মিনিটে কর্নার পায় জাপান। কিকটি গোলমুখে না করে নিজেরা দেয়া নেয়া করতে করতে ক্রোয়েশিয়ার জালে বল নিয়ে যায় জাপান। শেষ ক্রসটি করেন রিতসু দোয়ান। গোলমুখে ভেসে আসা বলটিতে পা লাগিয়ে ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন মায়েদা।
এর আগে দুই দলই বলতে গেলে খেলেছে সমান সমান। যদিও বল দখলে ছিল ক্রোয়েশিয়ারই বেশি। ৫৮ ভাগ। আর জাপানের ছিল ৪২ ভাগ। কিন্তু আক্রমণে কেউ কারো চেয়ে কম ছিল না। জাপানের জালে অন্তত দু’বার নিশ্চিত বল জড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া। জাপানও পেয়েছিল ২-৩ বার। শেষ পর্যন্ত গোলটি দিলো জাপানই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। গোলও পেয়ে যায় তারা খুব দ্রæত। ৫৫ মিনিটে লভরেনের ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান টটেনহ্যাম তারকা ইভান পেরেসিচ। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০১৬ ও ২০২২ ইউরো কাপে গোল করা তৃতীয় খেলোয়াড় হলেন পেরেসিচ। এর আগে এমন কীর্তি গড়েছেন কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জের্দান শাকিরি।
৬৩ মিনিটে আবারো গোলের সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু মদরিচের দারুণ শট ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন জাপানিজ গোলরক্ষক গোন্ডো। এর ঠিক ৩ মিনিট প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ার। কিন্তু গোলরক্ষকের খুব সামনে থেকে বুদিমিরের নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়া গোলের চেষ্টা করলেও গোলমুখে তারা শট নিতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ ব্যবধানে থেকেই শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচের ৯৬ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডের প্রাণ মদ্রিচকে তুলে নেন কোচ। ১০৫ মিনিটে জাপানের মিতোমার দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক। এছাড়া অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে বলার মত কোন দলই তেমন আক্রমণ করে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের মিনামিনোর প্রথম শটটাই রুখে দেন ক্রোয়েট গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। জাপানের দ্বিতীয় শট নিতে আসেন মিতোমা। তার শটও ডান পাশে ঝুকে রুখে দেন তিনি। ক্রোয়েটদের হয়ে লিভায়া একটি শটে গোল করতে মিস করলেও জাপানিজ ইয়োশিদার শট রুখে দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। শেষে পাসালিচ গোল করে টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলের অসাধারণ একটি জয় এনে দেন।