‘টং দোকানের’ চা এখন ১২ টাকা, পানের খিলি ৬

52

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর চকবাজারের প্যারেড কর্নার। সারি সারি টং দোকানে জমে উঠে চা’য়ের আড্ডা। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে চাকরিজীবী, সবারই ‘ঠিকানা’ যেন আলী মউর (আলী মামা) টং দোকান। ‘মামা, চিনি কম কড়া লিকারের এক কাপ’- ক্রেতার এমন ডাকে আলী মামা চিরচেনা হাসিমুখে বানিয়ে দিচ্ছেন চা। চা তৈরির সবকটি উপাদানের দামবৃদ্ধি পাওয়ায় আলী মামার প্রতিকাপ চায়ের দাম এখন ১২ টাকা।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সবাই চেনা। মামা বলে ডেকেই চা খেতে আসে। চেনা মুখগুলোর সামনে দাম বাড়ানোর কথা বলতে লজ্জা লাগে। তবুও বাধ্য হয়ে বলতে হয়। আমারও যে দিনশেষে চাল-তরকারি কিনে খেতে হয়। দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়ার কারণে প্রতিকাপ চায়ের পেছনে খরচ পড়ে ৮ থেকে ৯ টাকা। পাউডার দুধের চা’য়ে ১২ টাকা খরচ পড়ে। এরপর শ্রমিক, টং দোকানের ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যন্য খরচ তো আছেই। তাই বাধ্য হয়ে প্রতিকাপ ১২ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এক সময় ৫০০ থেকে ৬০০ কাপ চা বিক্রি করলেও সেটি এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ কাপে নেমেছে।’
শুধু আলী মামার দোকান নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শ্রমজীবী ও শিক্ষার্থীদের নাস্তার ঠিকানা টং দোকানে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকাপ কনডেন্সড মিল্কের চা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকা, পাউডার দুধের চা বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা, গরুর দুধের মালাই চা বিক্রি ২০ টাকা, আর রং চা ১০ টাকা।
এদিকে খিলি পানের দামও বেড়েছে। নরমাল পানের খিলি বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকা আর শাহী মিষ্টি পানের খিলি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।
টং দোকানিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৪০০ গ্রামের একটি কনডেন্সড মিল্ক আগে ছিল ৮০ টাকা সেটি এখন ১০০ টাকা, চিনি আগে ছিল ৬৫ টাকা সেটি এখন ১৩৫ টাকা, ৪০০ গ্রামের চা পাতার প্যাকেট আগে ছিল ১৮০ টাকা এখন ২১০ টাকায় কিনতে হয়। অন্যদিকে টেকনাফের সুপারি প্রতিপন (৮০পিস) কিনতে খরচ হত ৭০০ টাকা সেটি এখন ১০০ টাকা বেড়ে ৮০০ টাকা। মহেশখালীর পান ৫০ গন্ডা (২০০টি) কিনতাম ৩৬০ টাকা, সেটি ১৫০ টাকা বেড়ে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায় কিনতে হয়। আকিজ জর্দা-২২ প্রতি প্যাকেট ৩০ টাকা।
চেরাগী মোড়ের একটি টং দোকানে কথা হয় আলমের সাথে। তিনি চা পান করতে করতে বলছিলেন, আগে দৈনিক ৫/৬ কাপ চা খাওয়া যেত। এখন সর্বোচ্চ এক থেকে দুই কাপ চা খাওয়া যায়। টং দোকানেও এককাপ চা এখন ১৫ টাকা। এখন টংয়েও ৫০ টাকার নিচে নাস্তা করা যায় না।
এক মাস আগেও যে চা প্রতিকাপ ৫ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হতো বর্তমানে স্থানভেদে প্রতিকাপ চা বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর পানের খিলি এক টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকা।
টং দেকানিরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চায়ের সব উপকরণের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি শীত আসার আগেই সরবরাহ কমে যাওয়ায় পানের দাম বেড়েছে। গ্রাহকরা বলছেন, হোটেল-রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি টংয়ের চায়ের দাম বাড়ায় তারা কমিয়ে দিয়েছে চা খাওয়া।
আন্দরকিল্লা এলাকার পান দোকানি দয়াল বাবু জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে অনেক পানের বরজ নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে পানের দাম বেড়েছে। এক সময় যে পান ৫০ গন্ডা(২০০পিস) ৩৬০ টাকা কিনতাম, সেটি এখন ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কিনতে হচ্ছে। সুপারি, বিভিন্ন জর্দা, পানের খিলির অন্যন্য সবপণ্যের দাম বেড়েছে। এক সময় দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ খিলি পান বিক্রি করতাম, সেটি এখন অর্ধেকে নেমেছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ১০০ খিলি বিক্রি হচ্ছে।
দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে উল্টো প্রশ্ন রেখে দোকানি ফাহিম বলেন, কোন জিনিসের দাম বাড়েনি? পান-সুপারির দাম বাড়ার কারণে বাধ্য হয়ে এক টাকা বৃদ্ধি করে ৬ টাকায় বিক্রি করছি। আগে একটা খিলিপান কিনতাম ২ টাকা, সেটি এখন ৩ টাকা। প্রতিপিস সুপারি আগে ৬ টাকায় কিনতাম, এখন ১০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।