ঝুঁকিতে নাজিরহাট পুরাতন ব্রিজ

18

মো. এমরান হোসেন. ফটিকছড়ি

বিগত ৫ বছর আগেই বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে দেবে যাওয়া নাজিরহাট পুরাতন ব্রিজ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ আকার ধারণ করেছে। যে কোন সময় ব্রিজটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ পুরাতন ব্রিজ এলাকা একাধিকবার পরিদর্শন করে গেলেও এখনো পর্যন্ত ব্রিজের কাজ শুরু না হওয়ায় দুই উপজেলার (ফটিকছড়ি-হাটহাজারী) জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে ব্রিজটির একাংশ ও মধ্য অংশ নিচে দেবে যাওয়ার ফলে রিকশা, ট্যাক্সি ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়া-আসা বন্ধ রয়েছে। তারপরও প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার হাজারো ছাত্র/ছাত্রীসহ ফটিকছড়ি-হাটহাজারীর কয়েক লক্ষাধিক জনসাধারণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করছেন। এছাড়া ব্রিজের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, বৃটিশ সরকার ১৯১৯ সালে তৎকালীন ডিস্ট্রিকবোর্ড ফটিকছড়ি-হাটহাজারী উপজেলার সীমান্ত এলাকা নাজিরহাটে সেতুটি নির্মাণ করে। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাক হানাদার বাহিনী ডিনামাইড দিয়ে সেতুটির একাংশ ধ্বংস করে দেয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে সেতুটি মেরামত করে পুনঃ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করে। এরপর ২০০৫ সালে ব্রিজটি পুনঃ মেরামতের কাজ হলেও ২০০৮ সালে সওজ কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয় ব্রিজের কাছে।
হালদা নদীর এই সেতুটি দেবে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র নাজিরহাট বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে বলে জানান, নাজিরহাট আদর্শ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নাছির উদ্দীন।
নাজিরহাট পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আলী বলেন, ব্রিজটি ঝুঁকিপূণ হওয়ায় নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ জানান, সরকার হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করায় ব্রিজের ডিজাইন পরিবর্তন করে আবার নতুন ডিজাইন প্রেরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফা সয়েল টেস্ট করা হয়েছে। তবে পরিবেশ ও মৎস দপ্তর এবং বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ ছাড়পত্র বিষয়ে জেনে বলতে হবে।