জ্বালানি তেল পরিশোধনে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বিপিসি

86

জ্বালানি তেল পরিশোধন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এ জন্য তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ইআরএল এর দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রথম ইউনিটের দ্বিগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন হবে এ ইউনিট। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের উপর চাপ কমবে বিপিসির।
রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইআরএল এর দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১০ সালে। ঠিকাদার নিয়োগসহ নানা জটিলতায় দীর্ঘসময় ধরে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হলে দুই-চার মাসের মধ্যেই নির্মাণ কাজে হাত দেওয়া যাবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের সক্ষমতা ধরা হয়েছে দৈনিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল পরিশোধন করা।
বর্তমানে ইআরএল এর তেল পরিশোধন ক্ষমতা আছে মাত্র ১৫ লাখ মেট্রিক টন। প্রকল্পটি সমাপ্ত হলে এ সক্ষমতা দাঁড়াবে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে। কাজ শুরুর তিন বছরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইআরএল এর প্রথম তেল শোধনাগার ইউনিটটি নির্মাণ করেছিল ফরাসি প্রতিষ্ঠান টেকনিপ। ১৯৬৩ সালে উদ্যোগ নেওয়া হলেও ১৯৬৮ প্রকল্পটি উৎপাদনে যায়। দ্বিতীয় ইউনিটটির নকশা তৈরি করেছে টেকনিপ। এ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসাল্ট (পিএমসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে ভারতের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড। তাদের নকশা অনুসারেই বসানো হবে প্রকল্পের ভৌত কাজ ও যন্ত্রপাতি। প্রথম ইউনিট থেকে ১৭ ধরনের পেট্রোলিয়াম সামগ্রী উৎপাদন হয়। সবচেয়ে বেশি পরিশোধন হয় ডিজেল। বিমানের জ্বালানি জেট ফুয়েলও এই কেন্দ্রে উৎপাদন হয়।
এ বিষয়ে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুল হক বলেন, স্বাধীনতার আগে ইআরএল প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন নতুন করে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কোনো প্রকল্প নেয়া হয়নি। ইন্সটলেশন অব ইআরএল ইউনিট-২ নামের নতুন এ প্রকল্পের কাজ কিছুদিনের মধ্যে শুরু করা হবে।
ইস্টার্ণ রিফাইনারি বিদেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানি বা ক্রুড পরিশোধন করে থাকে। বর্তমানে তাদের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন ক্ষমতার ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি পরিশোধন করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৭৬ শতাংশ চাহিদার তেল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সবমিলিয়ে বিপিসির খরচ হবে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা।
বিপিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিশোধন সক্ষমতা না থাকায় বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে হচ্ছে। নতুন ইউনিটটি চালু করা গেলে ক্রুড আমদানি করেই জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। প্রকল্পটি চালু হলে চাহিদার ৭৬ শতাংশ জ্বালানি পরিশোধন করা যাবে।

­