জো বাইডেনের শপথ নতুন দিনের প্রত্যাশায় আমেরিকানসহ বিশ্ববাসী

12

বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন জো বাইডেন। বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে দেশটির প্রধান বিচারপতি তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথের পরপর তিনি দেশটির ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেইসাথে আগামী চার বছর হোয়াইট হাউসে থেকে আমেরিকা শাসন করবেন। বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত কর্মকাÐ, আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক পরিমÐলে নিজেদের একঘরে করার প্রবনতা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও আগের জায়গাই নিয়ে যাওয়াসহ নিজ দেশে শান্তি, পরদেশে সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও কর্তৃত্ব অক্ষুন্ন রাখাসহ নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে অভিষিক্ত হয়েছেন বাইডেন। অভিষেকের সাথে বাইডেনের কাছে শুধু আমেরিকান নয়, বিশ্ববাসীও বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে থাকিয়ে আছেন, তিনি এ বিশ্বের জন্য কি বার্তা দিচ্ছেন। তবে তিনি শপথের পরপর প্রত্যাশার বুকে আলো জ্বালিয়েছেন বলা যায়। করোনার সয়লাবে বিধ্বস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে রক্ষায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্বাহী আদেশ জারিসহ মার্কিন ভ্রমণে মুসলিম বিশ্বের উপর ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জলবায়ু সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তিতে ফিরে যাওয়া ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাথে সহযোগিতায় অংশগ্রহণসহ দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে প্রায় ১৭টি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। তাৎক্ষণিক এ আদেশগুলো মার্কিন জনগণ ও বিশ্ববাসীকে আশাবাদি করে তুলেছে। আশা করা হচ্ছে, বাইডেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আগামীতে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ায় প্রতি মনোনিবেশ হবেন। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, জো বাইডেন তার দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এই মুহূর্তটি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে গেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেয়ার প্রথম দিন থেকেই তিনি যে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন, তা হয়ত তিনি কখনও প্রত্যাশাও করেননি। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় জরুরি ডোজ হিসাবে প্রথম দিন থেকে ক্রমান্বয়ে দশ দিন বেশকিছু নির্বাহী আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাইডেন। এগুলো হল প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে জারি করা নির্বাহী আদেশ, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
শপথ নেওয়ার পর বাইডেন ক্যাথেড্রাল অব সেন্ট ম্যাথিউ দ্য অ্যাপোস্টল গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করেন। এরপর বাইডেন এক টুইটে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এক দিনের সূচনা।’ ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে শপথ নিলেন বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পূর্বসূরির কাছ থেকে এমন দেশ পাননি, যেমনটা ট্রাম্পের কাছ থেকে পেলেন বাইডেন। এই মুহূর্তে করোনা মহামারির সংক্রমণ ও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের সম্ভাব্য সহিংস আচরণের আশঙ্কায় লকডাউনে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসি। করোনায় ইতিমধ্যে কেড়ে নিয়েছে চার লাখের বেশি মার্কিনের প্রাণ। আর ট্রাম্পের ‘উসকানিতে’ ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে হামলা চালান তাঁর উগ্র সমর্থকেরা। এতে পাঁচজন নিহত হন, আহত হন কয়েকশ। বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের মতো করে জনগণের মধ্যে বিভেদের দেয়াল গড়ে বিদায় নেননি কোনো প্রেসিডেন্ট। শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও মার্কিন প্রভাব ক্ষয়িষ্ণু করেছেন ট্রাম্প। এসব বিষয়ই বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাইডেনের জন্য। এসব চ্যালেঞ্জ জয় করে বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দিন আনবেন, সেই প্রত্যাশা থাকবে আমেরিকার জনগণ ও বিশ্ববাসীর । আমরা মনে করি, রাজনৈতির ফোঁড় খাওয়া বৃদ্ধ বাইডেন এখন পূর্ণযৌবনে পদার্পণ করেছেন মাত্র। আমেরিকা ও বিশ্বের এক দুঃসহ পরিস্থিতিতে বাইডেনের মার্কিন মসনদে আরোহন ত্রাতার আবির্ভাবের মত। তিনি শুরুটা যেভাবে করেছেন দিনশেষে শেষটায় নতুন ইতিহাস পুর্ণতা পাবে-এমনটি আশা রাখছি। একই সাথে বাংলাদেশের প্রতি আমেরিকার যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সেটা আরো গাঢ় ও টেকসই করার লক্ষে অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব আরো বৃদ্ধি পাবে-এমনটি প্রত্যাশা আমাদের।