জোট সরকার গঠনের পথে পাকিস্তান

5

পাকিস্তানে নির্বাচন মানেই নাটকীয়তায় ভরা। তবে এবার যেন নাটক কিছুটা বেশিই হচ্ছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করতেই তিন দিন সময় নিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। বেসরকারি ফলাফলে সবচেয়ে বেশি আসন ইমরান খানের পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তারা ২৬৪ আসনের মধ্যে সবমিলিয়ে পেয়েছেন ১০১টি আসন। এদের মধ্যে ৯৩ জনই ইমরান খানের দল পিটিআই সমর্থিত প্রার্থী।
নওয়াজ শরীফের মুসলিম লিগ-এন জয় পেয়েছে ৭৫টি আসনে এবং বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপলস পার্টি ৫৪টি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। অন্যান্যরা পেয়েছে ৩৪টি আসন।সরকার গঠন করতে হলে ১৩৪টি আসন থাকতে হবে। এর মধ্যেই মুসলিম লিগ-এন এবং পিপলস পার্টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। তবে সংখ্যারগরিষ্ঠতা পেতে হলে তাদের আরও অন্তত পাঁচজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য অথবা অন্তত পাঁচজন নির্বাচিত এমপি রয়েছে, এমন দলের সমর্থন দরকার হবে।
ফল ঘোষণা শেষ হওয়ায় এবার নাটকের পরবর্তী দৃশ্য মঞ্চস্থ হচ্ছে দেশটিতে। কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জোট সরকার গঠন করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বড় দলগুলো। তবে নাটকের এই দৃশ্যে বারবার ঘুরে-ফিরে দুটি দলই আলোচনায় আসছে। একটি নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন ও অন্যটি বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপি। নির্বাচনে ৭৬ আসনে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে পিএমএল-এন এবং ৫৪ আসন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পিপিপি।
গত শুক্রবার রাতেই দল দুটির মধ্যে জোট সরকার নিয়ে বৈঠকের খবর গণমাধ্যমে আসতে থাকে। তবে গতকাল রোববার দল দুটি প্রথমবারের মতো লাহোরে আনুষ্ঠিকভাবে বৈঠকে বসে। পিএমএল-এনের সভাপতি শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো এবং কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জোট সরকার গঠনে বিলাওয়াল ও আসিফের সহযোগিতা চান শাহবাজ।
শাহবাজের এমন প্রস্তাবের জবাবে পিএমএল-এন নেতাদের পিপিপি বলেছে, সোমবার (আজ) দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।
সূত্রের বরাতে জিও নিউজ জানায়, সরকার গঠনের বিষয়ে শলা-পরামর্শ করতে আগামীকাল (সোমবার) বৈঠক করবে পিপিপি। এ জন্য গতকাল বিলাওয়ালকে ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে ডেকে আনেন বাবা আসিফ আলি জারদারি। তাদের বৈঠকে জোট গঠনের প্রক্রিয়া, প্রেসিডেন্ট পদটি কে পাবেন, এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে স্পষ্ট হয়ে যায় এবারের নির্বাচনে কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না। ফলে শুক্রবার রাতেই জোট সরকার গঠনের ঘোষণা দেন নওয়াজ শরিফ। বড় ভাইয়ের এমন ঘোষণার পরই মাঠে নেমে পড়েন শাহবাজ শরিফ। তিনি পিএমএল-এনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার রাতে পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে দেখা করেন। তাদের এই বেঠক ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। বৈঠক থেকেই কেন্দ্র ও পাঞ্জাবে জোট সরকার গঠনের বার্তা দেন তিনি। শুধু বার্তা দিয়েই ফিরে আসেননি, তাদের সম্মতি পর্যন্ত নিয়ে আসেন শাহবাজ।
অবশ্য এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিলাওয়াল তখন বলেছিলেন, এমন কিছু ঘটেনি। তারা এখনো নির্বাচনের ফল ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর খান পাকিস্তানে সরকার গঠন করতে না পারলে তারা বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবেন বলে জানিয়েছেন গহর আলি খান। দেশটির গণমাধ্যম ডনের সঙ্গে আলাপকালে গহর বলেন, আমরা পিপিপি ও পিএমএল-এনের সঙ্গে আলাপ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। তাদের সঙ্গে জোট করে আমরা সরকার গঠন করব না। তাদের সঙ্গে জোট গড়ার চেয়ে এককভাবে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করাই ভালো।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৩৪ আসন) পায়নি। ফলে জোট করতে বাধ্য দলগুলো। তবে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
এদিকে পিটিআইয়ের প্রার্থী ওয়াসিম কাদির ইমরান খানকে পিঠ দেখিয়ে যোগ দিয়েছেন নওয়াজের দল পিএমএল-এনে। লাহোরের এনএ-১২১ আসন থেকে বিজয়ী পিটিআই সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন ওয়াসিম কাদির।
এমনিতে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসনসংখ্যা ৩৩৬টি। তার মধ্যে ২৬৬ আসন হলো সাধারণ আসন, যেগুলোতে সরাসরি ভোট হয়। বাকি ৭০টি আসন সংরক্ষিত। সেগুলোর ৬০টি নারীদের ও ১০টি অমুসলিমদের। পাকিস্তানে সরকার গঠন করার জন্য কোনও দলকে ন্যূনতম ১৩৪টি আসনে জয়লাভ করতে হবে।